সোহানকে অধিনায়ক ঘোষণা করে একাদশ প্রকাশ

গতকাল শেষ হয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসর। অঘোষিত ফাইনালে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা ঘরে তুলেছে আবহনী লিমিটেড। টুর্ণামেন্টে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দারুণ খেলেছে তরুণ ক্রিকেটাররা।

তাই অভিজ্ঞ এবং তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরে সেরা একাদশ তৈরি করেছে বাংলাওয়াশ ক্রিকেট। আসুন দেখে নেই বাংলাওয়াশ ক্রিকেট-এর তৈরি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সেরা একাদশ।

মিজানুর রহমান (ব্রাদার্স ইউনিয়ন) : ওপেনিং জুটিতে রাখা হয়েছে মিজানুর রহমান এবং মুনিম শাহরিয়ারকে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ব্রাদার্স ইউনিয়নের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মিজানুর রহমান। ১০ ইনিংসে ৫২.২৫ গড়ে ৪১৮ রান সংগ্রহ করেছেন মিজানুর। রয়েছে একটি সেঞ্চুরি এবং তিনটি হাফ সেঞ্চুরি।

মুনিম শাহরিয়ার (আবহনী লিমিটেড) : তার সাথে রাখা হয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরে চমক জাগানো ব্যাটসম্যান মুনিম শাহরিয়ারকে। ১৩ ইনিংসে ১৪৩ স্ট্রাইক রেট ৩৫৫ রান করেছেন মুনিম শাহরিয়ার। টুর্নামেন্টের দুইটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তার।

মাহমুদুল হাসান জয় (ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব) : টপ অর্ডারে এই দুই ব্যাটসম্যানের সাথে রাখা হয়েছে মাহমুদুল হাসান জয়কে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ১২ ইনিংসে ৪৪ গড়ে ৩৯২ রান সংগ্রহ করেছেন।

মোহাম্মদ মিঠুন (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব) : মোহাম্মদ মিঠুনের দলে সুযোগ পাওয়ার প্রধান কারণ ধারাবাহিকতা। জাতীয় দলে বাজে পারফরমেন্সের কারণে নানা সমালোচনার পরও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ব্যাট হাতে ভালোই খেলেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। ১৬ ইনিংসে ৩০ গড়ে ১৩১ স্ট্রাইক রেট ৩৬১ রান সংগ্রহ করেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। টুর্ণামেন্টে তার হয়েছে তিনটি হাফ সেঞ্চুরি।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স) : একাদশে অলরাউন্ডার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ব্যাট হাতে ২০৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে তিনি তুলে নিয়েছেন ১৭ টি উইকেট।

Advertisements

কাজী নুরুল হাসান সোহান (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব) : দলের অধিনায়ক করা হয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের অধিনায়ক কাজী নুরুল হাসান সোহানকে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ১৪ ইনিংসে ১৬৩ স্ট্রাইক রেট ৩৮২ রান করেছেন তিনি। একাধিকবার দলের বিপদের মুহূর্তে ব্যাট হাতে ম্যাচ বের করে নিয়ে এসেছেন তিনি।

Advertisements

মেহেদি হাসান (গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স) : শেষের দিকে ঝড় তুলতে প্রস্তুত থাকবেন শেখ মেহেদী হাসান। সেই সাথে বল হাতে কার্যকরী অবদান রাখবেন তিনি। ব্যাট হাতে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১৪২ স্ট্রাইক রেটে ৩৩০ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। এছাড়াও বল হাতে তুলে নিয়েছেন ১৬টি উইকেট।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (আবহনী লিমিটেড) : ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবহনী লিমিটেড। আবহনীর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে অনেকটাই অবদান রয়েছে জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনে। গতকাল অঘোষিত ফাইনাল ব্যাটিং এবং বোলিং করে দলের জয়ের বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি। টুর্নামেন্টের কামরুল ইসলাম রাব্বির সমান ২৬ টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইকোনমিক রেট ৬.৭৯। বেস্ট বোলিং ফিগার ১৮ রানে ৪ উইকেট।

শরিফুল ইসলাম (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব) : বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পর এবার বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও বল হাতে জ্বলে উঠলেন তরুণ ফাস্ট বোলার শরিফুল ইসলাম। এবারের টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহক তিনি। ১৬ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ২২ টি উইকেট। ইকোনমিক রেট ৭.১৩। বেস্ট বোলিং ফিগার ২৩ রানে ৩ উইকেট।

তানভির ইসলাম (শাহিন পুকুর ক্রিকেট ক্লাব) : ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চমক জাগানো স্পিনার তানভির ইসলাম। তার দল যদি সুপার লিগে উঠতে পারত তাহলে হয়তো সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহের তালিকায় তাকেই দেখা যেত। ১০ ইনিংসে তানভির ইসলামের উইকেট ২০টি। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ কম ৪.৭৯ ইকোনমিক রেট তার। বেস্ট বোলিং ফিগার ২৩ রানে ৪ উইকেট।

কামরুল ইসলাম রাব্বি (প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব) : বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ৯ ম্যাচে ১৬ উইকেটে নিয়ে উইকেট সংগ্রহের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। তবে এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সবাইকে টপকে গিয়েছেন তিনি। ১৬ ইনিংসে তিনি নিয়েছেন ২৬ টি উইকেট। ইকোনমিক রেট ৭.৩৮। বেস্ট বোলিং ফিগার ১১ রানে ৪ উইকেট।

বাংলাওয়াশ ক্রিকেটের তৈরি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সেরা একাদশ : মিজানুর রহমান, মুনিম শাহরিয়ার, মাহমুদুল হাসান জয়, মোহাম্মদ মিঠুন, কাজী নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক, উইকেট কিপার), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, শেখ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, তানভির ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, শরিফুল ইসলাম।

Related Post