চার ছক্কার ঝড়ে কত রান করে মাঠ ছাড়েন সাব্বির

এক সময়ের সেরা ফিনিসার ভাবা হতো সাব্বিরকে। কিন্তু হঠাৎ যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেন এই তারকা ক্রিকেটার। সেই দিন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে সাব্বির রহমান খেলেছেন দুর্দান্ত ১০২ রানের ইনিংস। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো শতক হাঁকিয়ে দলের হার এড়াতে পারেননি তিনি।

কিউইদের বিপক্ষে ৮৮ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। এ জয়ের ফলে টানা চতুর্থবারের মতো ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করলো কিউইরা। ডানেডিনে টস জয়ের পর বাংলাদেশের আমন্ত্রণে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের পাহাড়সম পুঁজি দাঁড় করায় স্বাগতিকরা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সাব্বিরের ১০২ ও সাইফউদ্দিনের ৪৪ রানে চড়ে ২৪২ রান করতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। রান তাড়া করতে নেমে এদিন শুরুটা আগের চেয়ে আরও জঘন্য হয় বাংলাদেশের। টিম সাউদির প্রথম ওভারে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার।

এরপর আউট হয়ে যান লিটন দাসও। আগের দুই ম্যাচের মতো আজও ১ রান করেন তিনি। এর ফলে দলীয় ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় তা, হাতে চোট পাওয়া মুশফিক ১৭ রান বোল্ডের বলে থার্ডম্যানে মুনরোর হাতে ধরা পড়লে চতুর্থ উইকেট হারায় টাইগাররা।

৪০ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের বিপর্যয় বাড়ে রিয়াদের বিদায়ে। শট খেলতে গিয়ে ১৬ রান করে রিয়াদ বিদায় নিলে ৬১ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় সফরকারীরা। এরপর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দলের বিপর্যয় সামাল দেন সাব্বির ও সাইফউদ্দিন। দুজনে মিলে গড়েন ১০১ রানের জুটি। সাইফউদ্দিন ৪৪ রান করে আউট হলে ভাঙ্গে এ উইকেট জুটি।

সাইফউদ্দিন ফিরে গেলেও থামেননি সাব্বির। দলের হাল ধরে খেলতে থাকা এ ব্যাটসম্যান তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতক হাঁকানোর পর থামেন ব্যক্তিগত ১০২ রানে, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৪২ রানে অলআউট হলে ৮৮ রানে ম্যাচ হারে সফরকারীরা। এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে মুনরোর উইকেট হারালেও হেনরি নিকোলাস, রস টেইলর ও টম ল্যাথামের অর্ধশতকে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রানের পুঁজি পায় কিউইরা।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৯ রান আসে টেইলরের ব্যাট থেকে। তাছাড়া নিকোলাস করেন ৬৪ রান। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে ৯৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন মুস্তাফিজ। তাছাড়া মাশরাফি ও মিরাজ, সাইফউদ্দিন ও রুবেল প্রত্যেকেই লাভ করেন একটি করে উইকেট।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment