অবাক ক্রিকেট বিশ্ব, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে ১৮ বলে ৫০ রানের ঝড়

দুই ওপেনারের ব্যাটে শম্বুক গতি। পরের দুজনের কেবল আসা আর যাওয়া। ইনিংস এগোচ্ছিল খুঁড়িয়ে। ধুঁকতে থাকা দলটি হুট করেই দারুণ ক্ষীপ্রতায় ছুটতে থাকল নুরুল হাসান সোহান ও জিয়াউর রহমানের ব্যাটে।

দুজনের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে যে উচ্চতা স্পর্শ করল শেখ জামালের ইনিংস, পরে আর সেটি ছুঁতে পারল না মোহামেডান। সাকিব আল হাসানের দল পেল লিগে প্রথম হারের স্বাদ।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের জয় ১৬ রানে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার শেখ জামাল ২০ ওভারে তোলে ৫ উইকেটে ১৬১ রান। সোহান অপরাজিত থাকেন ৩৪ বলে ৬৬ রান করে, ১৭ বলে ৩৫ রানে জিয়াউর।
দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শেষ ৫ ওভারে আসে ৭৬ রান। ১৬ থেকে ১৯ ওভারে অর্থাৎ মাত্র ১৮ বলে নেন ৫০ রান। ম্যাচের ভাগ্য গড়া হয়ে যায় ওখানেই।

রান তাড়ায় পাওয়ার প্লের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা মোহামেডান নাদিফ চৌধুরির ফিফটিতে যেতে পারে ১৪৫ রান পর্যন্ত।

শেখ জামাল ব্যাটিংয়ে নামে টস জিতে। দুই ওপেনার সৈকত আলি ও মোহাম্মদ আশরাফুল পাওয়ার প্লের ৬ ওভার খেলে রান করেন মাত্র ২৯!

সেটা পরে তারা পুষিয়ে দেবেন কী, উল্টো দলকে বিপদে ফেলে দেন আউট হয়ে। সাকিবকে স্লগ সুইপে ক্যাচ দিয়ে আশরাফুল ফেরেন ২৪ বলে ১৫ রান করে। তিনে নেমে ফারদিন হাসান আউট দুই বল খেলেই।

নাসির হোসেন চারে নেমে আবু হায়দারকে টানা দুটি বাউন্ডারি মেরে পরের বলেই ছুঁড়ে দেন উইকেট। ১১ ওভার ক্রিজে কাটিয়ে সৈকত আলি ফেরেন ২৯ বলে ২০ রান করে।

সোহান উইকেটে যাওয়ার পরপরই দুটি ছক্কায় ইঙ্গিত দেন চিত্র বদলের। কিন্তু আরেক প্রান্তে হারান সঙ্গী ইলিয়াস সানিকে। ১৫ ওভার শেষে দলের রান ৫ উইকেটে ৮৫।

সোহান ও জিয়ার জুটি শেষ ৫ ওভারে তোলে ৭৬ রান।সোহান ও জিয়ার জুটি শেষ ৫ ওভারে তোলে ৭৬ রান।এরপরই সোহান ও জিয়ার শেষের ধ্বংসলীলা। মোহামেডানের আলগা বোলিং কাজে লাগিয়ে চার-ছক্কার স্রোত বইয়ে দেন দুজন।

সোহানের ৬৬ রানে ৪ বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা ৫টি, জিয়ার ৩৫ রানে ছক্কা ৩টি।

মোহামেডানের আবু হায়দারের ৪ ওভারে রান আসে ৫৩।

ব্যাটিংয়ের শেষটা দারুণ করার পর বোলিংয়ের শুরুটাও শেখ জামাল দুর্দান্তভাবে করে মোহাম্মদ এনামুল হকের সৌজন্যে। নতুন বলে এই অফ স্পিনার বোল্ড করে দেন তিন বাঁহাতি পারভেজ হোসেন ইমন (০), সাকিব (২) ও ইরফান শুক্কুরকে (০)।

লিগে এবার বোলিং ভালো করলেও ব্যাট হাতে সাকিবের দুর্দশা চলছেই। চার ম্যাচে তার মোট রান ৫১।

এই তিন উইকেটের মাঝে ইবাদত হোসেনের শিকার ওপেনার মাহমুদুল হাসান। মোহামেডান ৪ উইকেট হারায় ১৫ রানে।

দুই অভিজ্ঞ শামসুর রহমান ও নাদিফ চৌধুরি এরপর চেষ্টা করেন দলকে লড়াইয়ে রাখার। খুব একটা সফল তারা হননি। শামসুর বিদায় নেন ২৩ বলে ২৯ করে। এরপর শুভাগত আউট হন একটি করে ছক্কা ও চারে ১৩ রান করে।

নাদিফ ব্যক্তিগত একটি মাইলফলক অর্জন করেন। পঞ্চাশতম টি-টোয়েন্টিতে এসে দেখা পান নিজের প্রথম ফিফটির। তবে ৪ ছক্কায় তার ৪৩ বলে ৫৭ রানের ইনিংস যথেষ্ট হয়নি দলের জয়ের জন্য।

মোহামেডানের এটি প্রথম হার চতুর্থ ম্যাচে, সমান ম্যাচে শেখ জামালের দ্বিতীয় জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শেখ জামাল: ২০ ওভারে ১৬১/৫ (সৈকত ২০, আশরাফুল ১৫, ফারদিন ৯, নাসির ০, সোহান ৬৬*, ইলিয়াস সানি ৫, জিয়াউর ৩৫*; সাকিব ৪-০-১২-২, তাসকিন ৪-০-৩৩-০, আসিফ ৪-০-১৮-১, আবু জায়েদ ৪-০-৩৮-০, আবু হায়দার ৪-০-৫৩-২)।

মোহামেডান: ২০ ওভারে ১৪৫/৮ (মাহমুদুল ১২, পারভেজ ০, সাকিব ২, শামসুর ২৯, ইরফান ০, নাদিফ ৫৭, শুভাগত ১৩, আবু হায়দার ১৪, তাসকিন ৭*, ; নাসির ২-০-৮-০, এনামুল ৩-০-১৩-৩, ইবাদত ৪-১-২৮-১, জিয়াউর ৪-০-২০-২, সাকিল ৪-০-৩৪-০, ইলিয়াস সানি )।

ফল: শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ১৬ রানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: নুরুল হাসান সোহান।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment