লিটনের জন্য যা কোন অধিনায়ক পারেনি, কোন কোচও পারেনি, তা করে দেখালেন মাশরাফি

লিটন কুমার দাসের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগমন অত্যন্ত হৈচৈ ফেলে। সমর্থকদের আকাশ ছোঁয়া প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় দলে আগমন ঘটে এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যানের। কিন্তু জাতীয় দলে এসে কখনই তিনি ধারাবাহিক ক্রিকেটটা খেলতে পারেননি। তার এক একটি বড় ইনিংস দেখার জন্য ভক্তদের অপেক্ষা করতে হয়েছে তীর্থের কাকের ন্যায়।

শুরু থেকেই লিটনের পারফর্মেন্সে সবচেয়ে দৃষ্টি কটু দিকটি ছিল তার আউট হবার ধরন নিয়ে। প্রচুর পরিশ্রম করে ভালো শুরুর পরেও ইনিংসে ১৫-২৫ রানের মধ্যেই আউট হচ্ছেন বার বার। ফলে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন তার সামর্থ নিয়ে। তবে এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান সম্পর্কে যখন যেই বিশেষজ্ঞ কথা বলেছেন, কেউ তার সামর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলেননি। সবারই মত, লিটনের আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি রয়েছে। সমস্যা তার মানসিকতার।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লিটনের ১৭৬ রানের ইনিংসের স্মৃতিতে ধুলো জমেছে খোদ লিটনেরই। এর পর থেকেই নিজের ছায়া হয়ে আছেন তিনি। করোনা ভাইরাস পূর্বত্তর সময়ে বিসিবির আয়োজিত দুইটি টুর্নামেন্টে নিষ্প্রভ ছিলেন লিটন। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে শুরুতে কয়েক ম্যাচে রান পেয়েছেন, তবে প্রতি ম্যাচেই যুদ্ধ করতে হয়েছে নিজের সাথে।

ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে লিটন করেছেন মাত্র ৩৬ রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে-টি টোয়েন্টি মিলে ৬ ম্যাচে ৫০। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে এক ইনিংসে অর্ধশতক পেলেও বাকি ইনিংসগুলোতে ব্যর্থ ছিলেন তিনি এবং সর্বশেষ ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থতার চুড়ান্ত ছবি প্রদর্শন করা লিটনে আর ভরসা রাখতে পারেনি নির্বাচকরা।

Advertisements
Advertisements

এভাবে ধুকতে থাকা লিটন দাস সম্পর্কে বেশ ওয়াকিবহাল মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার অধিনায়কত্বেই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন লিটন। তাই এই ব্যাটসম্যানকে হাতুর তালুর মতই চেনা মাশরাফির। মাশরাফি মনে করছেন টেকনিকের চেয়ে লিটনের মানসিক সমস্যাই বেশি।

মাশরাফি বলেন, “পারছে না কেন, সেটা বোধহয় ব্যাটিং কোচ ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার মনে হয় মানসিক বাধা। এ ছাড়া শট সিলেকশন একটা কারণ হতে পারে। ওর স্টান্স দেখে মনে হচ্ছে, ও দুই ভূমিকায় আছে। একটা হচ্ছে সেইফ থাকা, আরেকটা হচ্ছে হুট করে মারবে। টেকনিক্যালি দিক থেকে কোচরা আরও ভালো বলতে পারবেন। আমার কাছে মনে হয় যে মানসিক সমস্যা বেশি।”

পাশাপাশি এমন সমস্যা থেকে উৎরানোর উপায় বাতলে দিলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক, “ওর যদি এতো সমস্যা হয়, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া, পত্রিকা, মানুষের কথা থেকে দূরে সরে আসতে হবে। ওকেই পথ খুঁজতে হবে যে, কোনগুলো বাঁধা। খারাপ খেলছে, সমালোচনা হবেই। সমালোচনা প্রভাব ফেলছে নাকি সাহায্য করছে? আমার মনে হয় না সাহায্য করছে।”

Related Post