প্রথম দিনের সেরা সাকিব-তামিম-মুশফিক

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আয়োজিত হচ্ছে। আর প্রথম দিনেই বৃষ্টির বাগড়া! প্রকৃতি বাধা হয়ে ওঠায় দুটি ম্যাচ শেষ করা যায়নি। দুটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে ওভার কমিয়ে। এর মধ্যেই জাতীয় দলের তিন তারকা নিজেদের চিনিয়েছেন ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সে।

আবার ব্যর্থ হয়েছেন অনেক তারকাই। ওদিকে মোহাম্মদ আশরাফুল, তাসামুল হক ও তরুণ মাহমুদুল হাসান জয়ের মতো অনেকেই আলো ছড়িয়েছেন আজ।
লক্ষ্যটা কঠিন ছিল না। কিন্তু পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে কাজটা কঠিন করে তুলেছিলেন আবাহনীর ব্যাটসম্যানরা। তাসামুল হকের ৬৫ রানের পরও মাত্র ১২০ রান তুলেছিল পারটেক্স। বৃষ্টির কারণে ১০ ওভারে ৭০ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল আবাহনী।

টপ অর্ডার দেখলে জাতীয় দল বলে বিভ্রম জাগানো আবাহনী সে লক্ষ্যকে কঠিন বানিয়ে ফেলেছিল। ২ রান করেছেন নাজমুল হোসেন, অন্য ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম করেছেন ১৯ রান। চারে নামা আফিফ করেছেন ২! তিনে নেমে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকেই এগিয়ে আসতে হয়েছে। ২৬ বলে ৩৮ রান করেছেন। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩ বল আগে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মুশফিক। ৭ উইকেটে জিতেছে আবাহনী।

ওভার কমিয়ে এনে মিরপুরে তবু ফল আদায় করা গেছে। কিন্তু বিকেএসপিতে হওয়া সকালের দুই ম্যাচে সেটা সম্ভব হয়নি। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন মাহমুদুল হাসান (জয়)। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ বলে ৭৮ রান করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে রাকিন আহমেদের ৪৬ রানে ওল্ড ডিওএইচএস ৪ উইকেটে ১৭১ রান তুলেছিল। রূপগঞ্জের হয়ে ২ ওভারে ১০ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন সাব্বির রহমান।

কিন্তু তাঁর মূল কাজ আর করা হয়নি। বৃষ্টি রূপগঞ্জকে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেয়নি। বিকেএসপির অন্য মাঠেও একই গল্প। জুনায়েদ সিদ্দিকীর ৫০ বলে ৪৮ রানে ১৮.৪ ওভারে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ৭ উইকেটে ১২৭ রান তুলেছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এরপরই বৃষ্টিবাধা। ফরহাদ রেজা-ফজলে রাব্বির প্রাইম দোলেশ্বর ব্যাটিং করার সুযোগ পায়নি।

বিকেএসপিতে লো স্কোরিং ম্যাচে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোহামেডানের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো সাকিব নতুন বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন। প্রথম স্পেলে উইকেট পাননি। কিন্তু রান আটকে রাখার কাজটা ভালোভাবেই করেছেন। পেসার আবু জায়েদ ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্পেলে এসে ২ উইকেট নেওয়া সাকিব প্রতিপক্ষকে ১২৫ রানে আটকে রেখেছেন।

২ উইকেট নিতে সাকিব খরচ করেছেন ২৯ রান। ১২৬ রানের লক্ষ্যে নেমে মোহামেডানকে শেষ ওভার পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। ব্যাটিংয়েও দায়িত্ব নিতে হয়েছে সাকিব। ওপেনার পারভেজ হোসেন ৩৯ রান করলেও মাঝের ওভারে ২২ বলে ২৯ রান করা সাকিবই মোহামেডানকে পথে রেখেছেন। শেষ ওভারে ৬ রান দরকার ছিল মোহামেডানের। পেসার আবু হায়দার ৪ বলে ৮ রান নিয়ে ১ বল আগে ৩ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন।

বিকেএসপির আরেক ভেন্যুতে মাঠ ভেজা থাকায় ১২ ওভারে কমিয়ে আনা হয়েছিল এই ম্যাচ। প্রথমে ব্যাট করা গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৯১ রান তুলেছিল। ব্যর্থ হয়েছেন সৌম্য সরকার (১৪) ও মাহমুদউল্লাহ (৫)। উইকেটকিপার জাকির ২২ বলে ২৬ রান করেছেন। সাতে নেমে ৪ বলে মুমিনুল হক ১৩ না এনে দিলে ৮০ রান পেরোতে পারত না গাজী। তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন তামিম। তাঁর সঙ্গী ও দলের অধিনায়ক এনামুল হক ৫ রানেই ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তামিম–ঝড় ম্যাচ নিয়ে সব সংশয় দূর করে দিয়েছে। ২ চার ও ৫ ছক্কায় ২২ বলে ৪৬ রান করেছেন এই ওপেনার। রনি তালুকদারের (২৫) সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৬ ওভারে ৬৩ রান তুলে ম্যাচটা নিজেদের করে নিয়েছেন তামিম। ১৬ বল আগেই ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে প্রাইম।

প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দিনে বৃষ্টি বাধা হতে পারেনি শুধু মিরপুরের এই ম্যাচেই। প্রথমে ব্যাট করা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ৩২ বল খেলা আশরাফুলের চেয়ে ৬ বল কম খেলেই সমান রান তুলেছেন তাঁর ওপেনিং সঙ্গী সৈকত আলী। আশরাফুলের ছয় চারের বিপরীতে সৈকতের ইনিংসে ছিল ৪ চার ও ২ ছক্কা। শূন্য রানে ফিরেছেন নাসির হোসেন। তবে শেখ জামালকে ১৬৬ রান এনে দিয়েছেন মোহাম্মদ এনামুল। আটে নামা এই অফ স্পিনার ৫ বলে ৩ ছক্কায় ২০ রান তুলেছেন। ম্যাচের ভাগ্য এতেই বদলে গেছে।

১৬৭ রানের লক্ষ্যে নামা খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি থেমেছে ১৪৪ রানে। ২২ রানের এই জয়ে মূল ভূমিকা ইলিয়াস সানির। ম্যাচসেরা বাঁহাতি স্পিনার ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন। জাতীয় দলের একজনই ছিলেন খেলাঘরে। বোলিংয়ে ২ ওভারে ১৮ রান দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট হাতে ২০ বলে ১৪ রান করেছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment