ব্রেকিং নিউজঃ ব্যাট হতে জ্বলে ওঠেছে সাকিব, দেখেনিন সাকিবের বড় স্কোড়

বল হাতে শিকার করেছেন জোড়া উইকেট। ব্যাট হাতে খেলেছেন কার্যকরী ইনিংস। সাকিবের এমন অলরাউন্ড নৈপুণ্যের দিন ঝলক দেখিয়েছেন তরুণ ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমনও। শেষটা রোমাঞ্চকর হলেও জয়ের হাসি নিয়েই মাঠ ছেড়েছে সাকিব-ইমনের মোহামেডান।

বিকেএসপির চার নং মাঠে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। শুরু থেকেই শাইনপুকুরকে চেপে ধরে মোহামেডান। বল হাতে সূচনা করতে এসে প্রথম ওভারে মাত্র এক রান দেন সাকিব আল হাসান। এরপর বাকি বোলাররাও শাইনপুকুরের দুই ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম এবং সাব্বির হোসেনকে আটকে রাখতে সফল হন। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ২৬ রান নেয় শাইনপুকুর।

সপ্তম ওভারে ওপেনিং জুটি ভাঙেন আসিফ হাসান। এ বামহাতি স্পিনারের বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাব্বির। ২০ বলে ১০ রানের মন্থর ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর দশম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন পেসার ইয়াসিন আরাফাত। থিতু হওয়া তানজীদকে ফেরান ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই। এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলের লাইন মিস করলে বল অফ স্টাম্পে আঘাত হানে। ঐ ওভারে তৌহিদ হৃদয়কেও বোল্ড করেন ইয়াসিন।

দলের রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তাকে সঙ্গ দেন রবিউল ইনিংসের ১৩ তম ওভারে আসিফের বলে মাহিদুল মারেন দুই ছক্কা। মাহিদুল-রবিউলের ৩৪ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। সাকিবকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে পারভেজ ইমনের হাতে ধরা পড়েন রবিউল। ২১ বলে ২৫ রান করেন তিনি। তার এক বল পরেই নতুন ব্যাটসম্যান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীকে বোল্ড করেন সাকিব।

থিতু হওয়া মাহিদুলও পারেননি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে। ১৭ তম ওভারে আবু জায়েদের বলে ক্যাচ তুলে দেন শুভাগত হোমের হাতে। শেষে সাজ্জাদুল হক আর সুমন খান যোগ করেন ৩৩ রান। সাকিবের করা ১৯ তম ওভারেই আসে ১৫ রান। সাজ্জাদ ১৮ বলে ১২ রান করে ও সুমন ১১ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১২৫ রান করে শাইনপুকুর।

জবাব দিতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় মোহামেডান। স্পিনার রবিউল ইসলাম রবির বলে ওপেনার অভিষেক মিত্র ক্যাচ দেন তানজীদের হাতে। এরপর শুরুর ধাক্কা সামাল দেন পারভেজ হোসেন ইমন আর শামসুর রহমান। শুরুতে খানিকটা ধীরলয়ে খেললেও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রানের গতি বাড়ানোর দিকে নজর দেন ইমন।

ইমন আর শামসুরের ভুল বোঝাবুঝিতে ইমন রান আউট হলে এ জুটি ভাঙে। তবে তাদের ৫৪ রানের জুটি দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেয়।চারটি চার আর এক ছক্কায় ইমন করেন ৩৩ বলে ৩৯ রান। এরপর শামসুরের সাথে জুটি বাঁধেন সাকিব। শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলে দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান সাকিব। তবে শামসুর তাকে বেশীক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি। দলীয় ৮৫ রানের মাথায় মোহর শেখের বলে আউট হন শামসুর। ২৯ বল মোকাবেলা করে তিনি করেছেন ২৪ রান।

সাকিব-ইমনের ব্যাটিং ঝলকে মোহামেডানের জয়

এরপর নাদিফ চৌধুরীকে সাথে নিয়ে আরো ২৮ রান যোগ করেন সাকিব। এ জুটি ভাঙেন বামহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। তানভীরের বলে এগিয়ে এসে অনসাইডে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তানজীদের হাতে ক্যাচ দেন সাকিব। তার ২২ বলে ২৯ রানের ইনিংসে ছিল ২ চার আর ১ ছক্কা।

সাকিবের বিদায়ের পরেই হঠাৎ শুরু হয় আসা-যাওয়ার মিছিল। পরের ওভারে ইফতেখার রনির বলে মাহিদুলের গ্লাভসে ধরা পড়েন ইরফান শুক্কুর। এরপরের ওভারের প্রথম দুই বলে দুই উইকেট শিকার করে নিস্প্রাণ ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি করেন সুমন। প্রথম বলে নাদিফ ও পরের বলে শুভাগত হোম বিদায় নেন।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ রান। মৃত্যুঞ্জয় প্রথম চার বলে তিন রান দিলে ম্যাচে শাইনপুকুরের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে সেই স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয় পঞ্চম বলে মারা আবু হায়দার রনির ছক্কায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ১২৫/৬, ২০ ওভার
তানজীদ ৩০, রবিউল ২৫, সুমন ২৩*
ইয়াসিন ২/২৪, সাকিব ২/২৯, আবু জায়েদ ১/১৬

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১২৯/৭
ইমন ৩৯, সাকিব ২৯, শামসুর ২৪
সুমন ২/২৭, রবিউল ১/১২, ইফতেখার ১/১৮

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment