শিরোপায় চুমো দিতেও তাঁর লজ্জা!(ভিডিও)

মানুষের মনোজগত যে কতো রকম হয়, তা বোধহয় কোনো দিনও হিসেব করে বের করা যাবে না! এমন মনোজগতের অদ্ভুত সব চিন্তায় মানুষের কতো বিচিত্র রকমের আচরণ হয় তারই যেনো একটা উদাহরণ দিলেন এনগালো কান্তে। চেলসির এই ফুটবলার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পরও ট্রফিতে চুমো খেতে যেন লজ্জা পাচ্ছিলেন!

শনিবার রাতে পোর্তায় ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের আসরে অল ইংলিশ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত শিরোপা জিতেছে চেলসি। ব্লুজদের ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এনগালো কান্তে।

আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে ফিরতি লেগে প্রতিপক্ষ পোর্তার একের পর এক আক্রমণ মধ্যমাঠেই ঠেকিয়ে দিয়ে জয়ের নায়ক ছিলেন ফরাসি এই মিডফিল্ডার। আসরের শেষ চারেও নিজের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখেন। উভয় লিগে প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মধ্যমাঠে রাজত্ব করে ম্যাচসেরা হোন। বাদ যায়নি ফাইনালেও!

পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির বিশ্বসেরা মধ্যমাঠে একাই রাজত্ব করেছেন কান্তে। যার ফলশ্রুতিতে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচেও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি নিজের করে নেন। মর্যাদার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেও শিরোপায় চুমো খেতে যেন বড় লজ্জা কান্তের।

শনিবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর চেলসির সবাই যখন একের পর এক চ্যাম্পিয়ন মেডেল গ্রহণ করে মর্যাদার ট্রফিতে চুমো খায় তখন কেবল ব্যক্তিক্রম ছিলো কান্তে, চ্যাম্পিয়ন মেডেল গ্রহণ করেই শিরোপার কাছে গিয়ে চুমো দিবেন কি দিবেন না এমন দ্বন্ধে পড়ে যান কান্তে! অবশেষে সতীর্থদের মতো ট্রফিতে কোন চুমো না দিয়েই মুচকি হাসি দিয়ে চলে যান সামনে যেন সবার সামনে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে।

অবশ্য সদা লাজুক কান্তের জন্য বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে প্রতিটি ফুটবলারের আজন্ম লালত স্বপ্ন বিশ্বকাপ জয়ের পরও লজ্জায় শিরোপা হাতে উল্লাস করেননি কান্তে! এমনকি, ক্যামেরার দিকে পর্যন্ত ঠিকমতো তাকাতে পারছিলেন না রাশিয়ায় শিরোপা হাতে কান্তের ছবি তুলতেও রীতিমতো কষ্ট করতে হয়েছিলো আলোকচিত্রীদের।

আসলে কান্তের জীবনটাই যে এমন। উঠে এসেছেন অনেক নিচুতলা থেকে। এইতো বছর সাতেক আগেও খেলতেন ফ্রান্সের তৃতীয় বিভাগের এক ক্লাবে। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বিভাগ ও ২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্রথম বিভাগে তাঁর খেলা দেখে ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটি তাঁকে কিনে নেয়। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ফুটবল দুনিয়াকে হতবাক করে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতে বসে লেস্টার।

লেস্টারের সেই দলেরও ফুসফুস ছিলেন কান্তে। রিয়াদ মাহরেজ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেও পর্দার আড়ালের কলকাঠি নেড়েছিলেন কান্তেই।পরের বছরই নাম লিখিয়েছেন চেলসিতে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে চেলসিও। এবার আর আড়ালে নন, সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন কান্তে। প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ও হন তিনি। এবার দুর্দান্ত খেলেই ফ্রান্সকেও জেতালেন বিশ্বকাপের শিরোপা।

সময় কান্তেকে বদলে দেয়নি। ফুটবল খেলাটাকে জীবিকা হিসেবে নিয়েছিলেন দুবেলা ভালো খাবারের আশায়। সেই ফুটবলই তাঁকে বড় তারকা বানিয়েছে। কিন্তু তাঁকে বদলে দিতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment