পাকিস্তান সমর্থকদের বাজে আচরণের কারণে কখনো কোচ হননি ওয়াসিম আকরাম

খেলোয়াড়ি জীবনে পাকিস্তানের জার্সিতে তিনি কী করেছেন, ক্রিকেট ইতিহাস তা অনেক আদরে মনে রাখে। পাকিস্তানের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। ইমরান খানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৯টি ওয়ানডেতে পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব করার রেকর্ডও আছে।

সেই ওয়াসিম আকরামই কখনো পাকিস্তান জাতীয় দলের কোচ হতে চাননি। কেন, প্রশ্নটা তো জাগেই। সে ব্যাখ্যা এবার নিজ থেকে দিয়েছেন ওয়াসিম আকরাম। কিংবদন্তি বাঁহাতি ফাস্ট বোলারের সে ব্যাখ্যায় সময়ের ক্রিকেটের করুণ একটা চিত্রই ফুটে ওঠে। পাকিস্তানের কোচ হলে পরিবারের কাছ থেকে অনেক বেশি সময় দূরে থাকতে হওয়া একটা কারণ। সেটির পাশাপাশি ওয়াসিম জানিয়েছেন, হারলে দলের সমর্থকেরা এখন যেভাবে পাকিস্তানের কোচকে অপমান করে সেটা তাঁর পছন্দ নয়।

এই ‘বাজে আচরণ কখনো মানতে পারি না’ জানিয়ে ওয়াসিম বললেন, পাকিস্তানের কোচ হতে না চাওয়ার পেছনে এটাও তাঁর বড় কারণ। ‘যখন আপনি কোচ হবেন, বছরে ২০০ থেকে ২৫০ দিন দলকে দিতে হবে। এটা অনেক ধকলের ব্যাপার। আমার মনে হয় না আমি পাকিস্তান থেকে, আমার পরিবার থেকে দূরে এতদিন থাকতে পারব’—পাকিস্তানের ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকেট পাকিস্তানকে বলেছেন ওয়াসিম আকরাম।

class="tie-appear" src="https://i.imgur.com/Hjjwsnc.jpg" />

জাতীয় দলের কোচ না হলেও স্বল্পমেয়াদে বিভিন্ন সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বিভিন্ন দলে কোচ হিসেবে কাজ করেছেন আকরাম। ভারতের টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ হিসেবে শুরু, এর বাইরে পাকিস্তানের সুপার লিগে (পিএসএল) ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের পরিচালক ও বোলিং কোচ ছিলেন আকরাম। একই ভূমিকায় কাজ করেছেন মুলতান সুলতানসেও। বর্তমানে তিনি করাচি কিংসের চেয়ারম্যান ও বোলিং কোচ।

এর বাইরে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে তরুণদের নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পেও কোচিং করিয়েছেন আকরাম। ফাস্ট বোলিং ক্যাম্প থেকে পাকিস্তানের দুই ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির ও জুনাইদ খান তাঁর আবিষ্কার। কোনো ক্রিকেটার আকরামের কাছে পরামর্শ চাইলেও আকরাম কখনো ‘না’ করেন না বলে শোনা যায়। সে কারণেই কি না, আকরাম বলছিলেন, ‘এখন যেমন চলছে, তাতে পিএসএলের প্রায় সব খেলোয়াড়ের সঙ্গেই আমার অনেকটা সময় কাটে। ওদের সবার কাছে আমার ফোন নম্বর আছে।’

কোচিংয়ের বাইরে টিভিতে বিশ্লেষক হিসেবেও কাজ করেন আকরাম, ধারাভাষ্যে তো নিয়মিতই দেখা যায়। এসব কাজেও তাঁকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়, এদেশ-ওদেশ ঘুরতে হয়। পরিবার থেকে দূরে কিছুটা সময় থাকতেই হয়। কিন্তু পাকিস্তানের কোচ না হওয়া কি শুধুই পরিবার-দেশ থেকে দূরে থাকতে হবে বলে? আকরামের পরের ব্যাখ্যাটা বলবে, এখানে আরও কারণ আছে। ‘আমি বোকা নই। কোচ ও সিনিয়রদের সঙ্গে মানুষ কীভাবে খারাপ ব্যবহার করে, সেটা আমি দেখি, শুনি।

কোচ তো আর খেলেন না। খেলোয়াড়েরা খেলে। কোচ শুধু পরিকল্পনায় সাহায্য করতে পারে। তাই দল যদি হারে, সে ক্ষেত্রে আমরা কোচকে যেভাবে দোষী বানিয়ে রাখি আমার মনে হয় না কোচ অতটা দোষী’ – বলেছেন আকরাম। তিনি কোচ হলে সমর্থকেরা তাঁকেও এভাবে গালাগাল-সমালোচনা করবেন, এমন ভেবেই জাতীয় দলের কোচিং থেকে দূরে থাকছেন আকরাম, ‘এসব নিয়ে আমার ভয় কাজ করে, কারণ আমি কখনো খারাপ আচরণ মেনে নিই না।

কিন্তু আমরা দিনে দিনে আরও বেশি করে সেরকমই করছি। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসি, তাঁদের উৎসাহ, খেলাটা নিয়ে আবেগকে ভালোবাসি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা যে আচরণ করেন…সেটা বোঝায় যে জাতি হিসেবে আমরা কেমন।

Related Post