সাকিব-মুস্তাফিজ বাদ! শুরু হচ্ছে আইপিএলের বাকি অংশ

কত আয়োজন, জৈব সুরক্ষা বলয়ের নিরাপত্তা, তবু করোনার ধাক্কা সইতে পারেনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। ১৪তম আসর অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত হয়ে যায় গত ৪ মে, ২৯ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার পর।

তবে এরইমধ্যে বাকি ম্যাচগুলো আয়োজনের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইংল্যান্ডের ৩টি কাউন্টি ক্লাব ও শ্রীলঙ্কা। তবে ভারতের ভাবনায় আছে গতবারের ভেন্যু সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিসিসিআই ভাবছে কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী সেপ্টেম্বরে বাকি অংশ আয়োজনের।

কিন্তু আয়োজন হলেও স্থগিত হয়ে যাওয়া আইপিএলের বাকি অংশ কি এই বছর হবে? হলেও সেখানে বিদেশি ক্রিকেটাররা খেলতে পারবেন? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে জটিলতা মিলিয়ে প্রশ্নটা আসছেই! ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) খুব করেই চায় আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজন করতে। চাইবে নাই-বা কেন!

আইপিএল পুরোপুরি না হলে যে বিসিসিআইয়ের ট্যাঁক থেকে গচ্চা যাবে! কিন্তু করোনার থাবায় এই মাসের শুরুর দিকে স্থগিত হয়ে যাওয়া আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজনে বাগড়া দিচ্ছে বাকি বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি।

ভারতীয় বোর্ড হ্যাঁচড়প্যাঁচোড় করে শেষ পর্যন্ত যদি আইপিএল আয়োজন করেও, সেখানে বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওয়া নিয়ে সংশয় আছে। এ নিয়ে কথা বলেছেন আইপিএলে এবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদে খেলা ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা।

ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুশতাক ট্রফির নাম টেনে বললেন, বিদেশিরা না খেললে আইপিএল তখন বর্ধিত কলেবরের আরেকটা সৈয়দ মুশতাক ট্রফিই হবে! ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে অনেক বিতর্ক সয়েও আইপিএল এবার শুরু হয়েছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত জৈব সুরক্ষাবলয় ভেঙে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বেশ কজন ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হলে আইপিএল স্থগিত করে দেয় বিসিসিআই। কিন্তু এখনো এবারের টুর্নামেন্টের ৩১টি ম্যাচ বাকি আছে।

আর আইপিএলের মৌসুম পুরোটা শেষ করতে না পারলে বিসিসিআইকে কত ক্ষতি গুনতে হবে, তা কদিন আগে ভারতের দ্য টেলিগ্রাফে জানিয়েছিলেন বিসিসিআই সভাপতি ও কিংবদন্তি ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী।

ক্ষতির অঙ্কটা হবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ভারতীয় রুপি! ক্ষতি না গুনতে বিসিসিআই হন্যে হয়ে আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজনের একটা ‘উইন্ডো’ বা উপযোগী সময় খুঁজছে। কিন্তু অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ার কথা। তার আগে-পরে আন্তর্জাতিক সূচি ঠাসা।

আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো বিদেশি দলগুলো তাদের খেলোয়াড়দের আইপিএলের জন্য না ছেড়ে জাতীয় দলের হয়ে বিভিন্ন সিরিজে খেলতে পাঠাতে চাইবে।

সে কারণেই আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজিত হলেও সেখানে বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওয়া নিয়ে আছে সংশয়। আইপিএল চলার সময়ে করোনায় আক্রান্ত হওয়া ক্রিকেটারদের একজন ঋদ্ধিমানের সংশয়ের ব্যাপ্তি আরেকটু বেশি। তাঁর মনে হচ্ছে, বিদেশি ক্রিকেটাররা না খেললে আইপিএলের বাকি অংশ এ বছরে আর হওয়ার সম্ভাবনাই কম।

‘(আইপিএলে) বিদেশি ক্রিকেটারদের বেশির ভাগই অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হচ্ছে, এ বছরে লিগ (আইপিএল) আবার শুরু করা নিয়ে সংশয় আছে। বিদেশি ক্রিকেটাররা না খেললে আইপিএল তো শুধুই সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফির আরেকটা বর্ধিত সংস্করণ’—ভারতীয় ওয়েবসাইট স্পোর্টসক্রীড়াকে বলেছেন ঋদ্ধিমান। তাঁর নিজের দল হায়দরাবাদ নিয়েও কথা বলেছেন ঋদ্ধিমান। আইপিএলে এবার যে কয়েকটা ম্যাচ হতে পেরেছে, তার মধ্যে হায়দরাবাদের অবস্থা ছিল সবচেয়ে শোচনীয়। দলে অনেক অদলবদলও হয়েছে।

খেলোয়াড়েরা টানা খেলার সুযোগও অনেক কম পেয়েছেন। ঋদ্ধিমান নিজেই ৭ ম্যাচের ২টিতে ছিলেন দলে। মৌসুমে হায়দরাবাদই একমাত্র দল, যারা মৌসুমের মাঝপথে অধিনায়ক বদলেছে। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের বদলে অধিনায়ক করেছে নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসনকে। দলে এত অদলবদলের বিপক্ষে ঋদ্ধিমান, ‘যেকোনো খেলোয়াড়ই দু-একটা ম্যাচে খারাপ খেলতে পারে। কিন্তু একাদশ যদি নিয়মিত বদলানো হয়, কোনো দলই গুছিয়ে নিতে পারবে না।

শুধু এসআরএইচ (হায়দরাবাদ) নয়, যেকোনো দলের জন্যই আমার পরামর্শ, তাদের উচিত সম্ভাব্য একটা সেরা একাদশ ঠিক করে রাখা, সেই একাদশ টানা চার-পাঁচ ম্যাচ খেলানো। তাতে কাজ না হলে তখন একাদশে বদল আনা যায়। সে ক্ষেত্রে খেলোয়াড়েরা ভালো খেলার কিছু সুযোগ পাবে, দলটার মধ্যেও একটা গোছানো ভাব থাকবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment