আরেকটু মনোযোগী হলেই ও বি’ধ্বংসী-বি’ষধর হয়ে উঠবেন!

রুবেল হোসেন এবং তাসকিন আহমেদ দুই গতিময় ফাস্ট বোলার একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বীও বটে। দুইজনের সম্পর্কে মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীতার প্রভাব রয়েছে তবে সেটি স্বাস্থ্যকর । রুবেল হোসেনের পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু তাসকিন আহমেদের। দুজন দুইরকমের ফাস্ট বোলার।

তবে গতির লড়াইয়ে মত্ত দুজনই ন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রুবেল হোসেনের সর্বোচ্চ গতি ১৪৯ কিঃমি । আর তাসকিনের আহমেদের গতি ১৪৮ কিঃমি।হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বটে। রুবেল হোসেনের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এই পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে ২৭ ম্যাচ খেলে ৩৬ উইকেট, ওয়ানডেতে ১০৪ ম্যাচ খেলে ১২৯ উইকেট, টি-টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচ খেলে ২৮ উইকেট শিকার করেছেন।

তাসকিন আহমেদ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এই পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে ৭ ম্যাচ খেলে ১৫ উইকেট, ওয়ানডেতে ৩৬ ম্যাচ খেলে ৪৮ উইকেট, টি-টোয়েন্টিতে ২১ ম্যাচ খেলে ১৪ উইকেট শিকার করেছেন। তবে দুইজন সম্পর্কে দুজনের মূল্যায়নে রয়েছে দারুণ গভীরতা।

একে অপরকে নিয়ে দিয়েছে চমৎকার বক্তব্য, রুবেল হোসেনের মতে বাংলাদেশের বড় ফাস্ট বোলার হওয়ার সব যোগ্যতাই রয়েছে তাসকিন আহমদের মধ্যে।তাসকিন আহমেদ মনে করেন, আরেকটু মনোযোগী হলেই আরো বেশি বিধ্বংসী-বিষধর হয়ে উঠবেন রুবেল হোসেন।

নিজেকে রুবেলের মত আরো উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিয়মিত স্বপ্নও দেখেন তাসকিন আহমদে।তারা চান যেকোন একটি বড় টূর্নামেন্টে একে অপরের সাথে স্বপ্নের স্পেল। আমরাও চাই তাসকিনের এই স্বপ্ন সত্যি হউক। আগুন ঝড়ানো পেস বোলিং বাংলাদেশী পেসাররাও পারে সেটা দেখুক ক্রিকেট বিশ্ব।

এই মুহুর্তে অন্যরা যা পরছেন…গোপনে বাবার সাথে মিলে যে মহৎ কাজ করছেন তাসকিন!-বাংলার ক্রিকেটে স্পিডস্টার তাসকিন আহমেদের আগমনটা বেশ জোরেশোরেই। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাশরাফির ইঞ্জুরিতে সুযোগ মিলেছিল একটা ম্যাচ খেলার। সে ম্যাচে স্টাম্প উপড়ে ফেলেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের।

এরপর আস্তেধীরে সুযোগ মিলতে শুরু করে।ওয়ানডে অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়ে বড়সড় একটা বার্তাই যেন দিয়ে ফেলেন। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের উপর গতিসমৃদ্ধ বোলার দেশের ক্রিকেটে এসেছিলই বা কবে?

এরপর ভালোই চলছিল সবকিছু। ‘১৫ বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েও দারুণ বল করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন মলিন হয়ে যেতে থাকেন তাসকিন। টেস্ট খেলানো হলেও আহামরি নজরকাড়া পারফরম্যান্স ছিল না সাদা পোষাকের ক্রিকেটে। এর পাশাপাশি সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন।

লাইন লেন্থ ওলটপালট হয়ে যাওয়া আর প্রচুর রান দিয়ে ফেলা- অফফর্মে থাকা তাসকিন জায়গা হারালেন দল থেকে। ২০১৯ বিশ্বকাপেও সুযোগ পান নি।সমসাময়িক অনেক তারকা ক্রিকেটারদের মত তাসকিন আহমেদকেও মনে হচ্ছিল আরেক আফসোসের নামই হয়ত হয়ে থাকবেন দেশের ক্রিকেটে।

কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট পালটে গেলো।ক’রো’না ভা’ইরা’সের কারণে লকডাউনে থেকে নিজের স্কিল, টেকনিক আর ফিটনেস নিয়ে যথেষ্ট কাজ করতে শুরু করলেন তাসকিন। নিজেকে ফিরে পাওয়ার এই লড়াইয়ে তাসকিন উজাড় করে দিয়েছেন সর্বস্ব। ফলটাও এলো হাতেনাতে।

গতবছর নিজের ফিটনেস ঠিক রাখার পাশা-পাশি ক’রো’না’র মধ্যে ব্যাপক ভাবে সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের পেস বোলার তাসকিন আহমেদ। এমনকি তাসকিনের বাবা ভাড়াটিয়াদের থেকে বাড়ী ভাড়াও নেননি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment