যার পরামর্শে আইপিএলে ভালো খেলেছেন জানালেন মুস্তাফিজ

বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের আমলে উত্থান হয় কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের। ছয় বছর আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হওয়া মুস্তাফিজ শুরু থেকেই নিজকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেও গত দুয়েক বছরে টানা ইনজুরি যেন ধার কমিয়ে দিয়েছিল বাঁহাতি এই পেসারের।

আইপিএলের চতুর্দশ আসরে ধারহীন মুস্তাফিজকে মাত্র ১ কোটি রুপিতে ই বাগিয়ে নিয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। তবে এরপর গল্পটা সবারই জানা। মাঝপথে স্থগিত হওয়া আইপিএলে মুস্তাফিজ খেলেছেন রাজস্থানের হয়ে সবগুলো ম্যাচেই। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের নাকাল করে তুলে নিয়েছেন উইকেটও।

পুরনো মুস্তাফিজকে নতুন করে আইপিএলে দেখার পর স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে হঠাৎ কি করে আগের রূপ ফিরে পেলেন তিনি? এই প্রশ্নের জবাবটা মুস্তাফিজ নিজেই দিয়েছেন। জানিয়েছেন বাঙালি এক কোচের সান্নিধ্যে থেকেই ঝাঁঝ বেড়েছে তার কাটারের।

রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেয়ার পর দলটির পেস বোলিং কোচ সিদ্ধার্থ লাহিরী মুস্তাফিজকে নিয়ে একমাস আলাদাভাবে কাজ করার পরই এমন উন্নতি হয়েছে তার এমনটা জানিয়েছেন রাজস্থানের এই পেস বোলিং কোচ।

সম্প্রতি আনন্দবাজারকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে সিদ্ধার্থ লাহিড়ী বলেন, ‘’নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে সামান্য চোট পেয়েছিল ফিজ। ওর হাতে বল এলে আত্মবিশ্বাস ঠিকরে বের হয়। কে ওর প্রতিপক্ষ তা ভাবে না। ফিজ জানে ওর প্রস্তুতি কীরকম, কোথায় শক্তি, কোথায় দুর্বলতা, সবকিছুর পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। বলত, দাদা আমি আজ এতগুলো বল করব; আজ বল করব না; বা আজ শুধু ক্যাচ প্র্যাক্টিস করব। ও জানে ওর শরীর কী চায়। পেশাদার একজন ক্রিকেটার।‘’

মুস্তফিজকে নিজের মত করে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল এমনটা জানিয়ে সিদ্ধার্থ আরও বলেন, ‘’আমি শুধু ওকে সাপোর্ট করে গিয়েছি। ফিজ হয়তো আমাকে এসে বলেছে, পিচে জুতো রেখে ইয়র্কার প্র্যাক্টিস করব, ব্যাটসম্যানকে বল করব না, তুমি দাঁড়িয়ে দেখো, মতামত দিও। আমি পর্যবেক্ষণ করে নিজের বিশ্লেষণটা ওকে বলেছি। তাতেই হয়তো ও উপকৃত হয়েছে।‘’

বাঙালি এই কোচের সাহায্যের কথা স্বীকার করে নিয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘’কলকাতার সিদ্ধার্থ স্যার আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছেন। দুজনই বাঙালি হওয়ায় রাজস্থান রয়্যালসে সহজে মিশে যেতে পেরেছিলাম। উনার সঙ্গে নিজের বোলিং নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি, পরিশ্রম করেছি। তাতে আমি লাভবান হয়েছি।”

Related Post

x