দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে বার্সা, রিয়াল, জুভেন্টাস, মিলান

বিশ্বের সেরা ১২টি ক্লাব মিলে উয়েফা সুপার লিগ তৈরি করতে চেয়েছিল। কিন্তু চাপের মুখে পরে ইতোমধ্যে আটটি দল সুপার লিগ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

এই আটটি দল হচ্ছে, ম্যানসিটি, ম্যানইউ, লিভারপুল, আর্সেনাল, চেলসি, টটেনহাম, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ এবং ইন্টার মিলান।
বাকি চারটি দল হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সালোনা, জুভেন্টাস এবং এসি মিলান যারা এখনো সুপার লিগ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেনি এবং এখনো নতুন লিগ চালু করার কথা ভাবছে।

এই চারটি দল এখনো নিজেদের সুপার লিগ থেকে সরিয়ে না নেয়ার কারণে তাদের দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন। যদি সেটা হয় তাহলে আগামী দুই বছর তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগে দেখা যাবে না।

সুপার লিগের ঘোষণা আসার পর থেকে উয়েফাপ্রধান আলেকসান্দার সেফেরিন ‘বিদ্রোহী’ ক্লাবগুলোর দিকে তোপ দেগেই চলেছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই প্রতিযোগিতা থেকে আট ক্লাব সরে আসার ঘোষণা দিলেও বাকি চার ক্লাবের এ নিয়ে যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।

যেকোনো শর্তে সুপার লিগের সফলতা চায় তারা। আর এতেই আরও খেপেছেন সেফেরিন, ১২ ক্লাব থেকে কমে এসে তাঁর রোষের পাত্র এখনো সুপার লিগ থেকে সরে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া চার ক্লাব—রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, জুভেন্টাস ও এসি মিলান।

চার ক্লাবের মধ্যে রিয়াল আর এসি মিলান চ্যাম্পিয়নস লিগের সবচেয়ে সফল দুই দল। দুই দল মিলে শিরোপা জিতেছে ২০ বার। ওদিকে বার্সেলোনা আর জুভেন্টাসও ইউরোপসেরা এই শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। কিন্তু সেফেরিন এখন যা বলছেন, তাতে এই চার ক্লাব নিজেদের ট্রফিকেসে শিগগিরই চ্যাম্পিয়নস লিগের আর কোনো শিরোপা যোগ করার সম্ভাবনা কমে যাবে। সেফেরিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই চার ক্লাব যদি সুপার লিগ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার না করে নেয়, তাহলে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বের করে দেওয়া হবে তাদের।

বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেফেরিন বলেছেন, ‘এটা পরিষ্কার, ওই চার ক্লাবকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগে থাকতে চায় না সুপার লিগে। তারা যদি বলে আমরা সুপার লিগে থাকতে চাই, তাহলে তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বহিষ্কার করা হবে। তখন তারা যত খুশি নিজেদের ওই টুর্নামেন্টে খেলতে পারে।’

সেফেরিনের কাছে ১২ ক্লাবের ওই প্রকল্পকে বিশ্বাসঘাতকতার চেয়ে বেশি কিছু মনে হচ্ছে না। তাঁর কাছে গোটা ব্যাপারকেই মনে হয়েছে পিঠে ছুরি মারার শামিল, ‘শনিবারটা আমাদের জন্য অনেক বাজে কেটেছে। কারণ, আমার কাছে পুরো ব্যাপারটাকেই পুরোপুরি বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে হয়েছে। মনে হয়েছে, কিছু লোক বছরের পর বছর ধরে আমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলেছে। ব্যাপারটা আমার কাছে অদ্ভুত বলে মনে হয়েছিল, কারণ আমি জানতাম না, পরের দিন আসলে কী হবে।’

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment