মৃত্যুঞ্জয় জাতীয় দলে ডাক পেলেন, হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন

অবশেষে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও গণমাধ্যমকর্মীদের ফোন কলে ব্যস্ততার কথা নিয়ে অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বলেন, ‘সবাই ফোনের পর ফোন দিচ্ছে ভাই। এই যে আপনার সঙ্গে কথা বলতেছি, শুধু কল আসতেই আছে, আপনিও আমাকে প্রথম কলে পাননি (হাসি)’।

গতকাল রবিবার ৯ এপ্রিল বিকেলে মৃত্যুঞ্জয়কে রেখে ১৩ সদস্যের ওয়ানডে স্কোয়াড ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপজয়ী এই পেস অলরাউন্ডার বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেলেন। চোটের কারণে তাসকিন আহমেদকে রাখেননি নির্বাচকরা।

প্রথমবার ওয়ানডে দলে সুযোগ পাওয়ায় অভিনন্দন জানাতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বসিত মৃত্যুঞ্জয় দুইবার ধন্যবাদ দিয়ে বসলেন। তার কথায় যেন আনন্দ-উচ্ছ্বাস ঠিকরে পড়ছে। ‘আজকে বিকেলেই শুনতে পেরেছি জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার বিষয়টা। তবে প্রথমে কেউ বলেনি, সংবাদে দেখেছি। বাসার সবার সাথে কথা বলেছি। আপনারাসহ অনেকেই ফোন দিচ্ছে। কথা বলতেছি। আলহামদুলিল্লাহ সবাই খুশি আছে’।

আগেরবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্দান্ত খেলে আলোচনায় আসেন মৃত্যুঞ্জয়। আছে হ্যাটট্রিকের কীর্তিও। বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও ব্যাট হাতে অবশ্য এখনো তেমন একটা সুযোগ পাননি নিজেকে প্রমাণ করার। এবারের বিপিএল শুরুর আগে জানিয়েছিলেন ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার কথা। একজন আদর্শ অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর ২০২০ সালে যুব বিশ্বকাপজয়ী এই অলরাউন্ডার।

মৃত্যুঞ্জয় বলেন, ‘লক্ষ্য থাকবে নিজের দেশের জন্য সেরাটা দেওয়া। নিজেকে প্রমাণ করা, যেন আমি বিশ্ব ক্রিকেটে একজন ডোমিনেটকারী অলরাউন্ডার হতে পারি। নিজের দেশের জন্য অনেক ভালো কিছু করার ইচ্ছে আছে।’ জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পেলে হার্দিক পান্ডিয়ার মতো অলরাউন্ডার হতে চান? এমন প্রশ্ন শুনে মৃত্যুঞ্জয়ের উত্তর, ‘ইনশাআল্লাহ তার (হার্দিক পান্ডিয়ার) থেকে বড় কিছু হওয়ার চেষ্টা করবো। স্বপ্ন যখন দেখবো সবচেয়ে বড়টাই দেখবো।’

বাংলাদেশ দলে এখন কোনও পেস অলরাউন্ডার নেই। সাইফউদ্দিন ইনজুরি-ফর্মহীনতার কারণে দীর্ঘদিন দলের বাইরে। বোলিংয়ের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে মৃত্যুঞ্জয় দলের জন্য হতে পারেন দারুণ কার্যকর ক্রিকেটার। টিম ম্যানেজম্যান্ট জানিয়েছে, ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন পজিশনে ক্রিকেটারদের দেখা হচ্ছে। মৃত্যুঞ্জয় কি সেই ভাবনা থেকেই দলে? এতদূর না ভাবলেও মৃত্যুঞ্জয় জানিয়েছেন সুযোগটা কাজে লাগানোর। যদিও তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না।

তিনি বলেন, ‘বলা যায় এটা আমার জন্য সুযোগ। আমি এখনও এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি না। কারণ আমি এখনও তরুণ, আমার জন্য প্রতিটা জিনিসই এখন সুযোগ (অপরচুনিটি)। নিজেকে প্রমাণ করার এখনও অনেক কিছু বাকি আছে। এটা আমার জন্য বড় সুযোগ। সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো’।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করে যাওয়া মৃত্যুঞ্জয়ের সামনে এবার আরও বড় দায়িত্ব। সাকিব-তামিমদের পরামর্শ নিয়ে এবার লাল সবুজের জার্সিতেও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চান এই তরুণ, ‘এমনিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটার, সিনিয়রদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত খেলাধুলা হচ্ছে, কথাবার্তাও হয়। এখন যেহেতু দলে সুযোগ পেয়েছি আরও খোলামেলা কথাবার্তা বলতে পারবো, টিপস নিতে পারবো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে। তাদের দেখানো পথে এগিয়ে যেতে পারবো।’

এদিকে লিস্ট এ ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ২৮ ম্যাচ খেলে মৃত্যুঞ্জয় ৩৯ উইকেট নিয়েছে। আর ব্যাট হাতে ১৪ ইনিংসে ১৪.৭৭ গড়ে করেছেন ১৩৩ রান। সর্বোচ্চ অপরাজিত ২২। এ ছাড়া ৯টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ১৮ ও ২৫টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিয়েছেন ২৬ উইকেট।