Gsh

এবার ব্রাজিলকে উড়িয়ে দিয়ে সেজদায় লুটে পরলো মরক্কোন ফুটবলাররা

ইয়াসিন বোনোর মারাত্মক ভুলে সমতা ফিরিয়েছিল ব্রাজিল। আশা জাগিয়েছিল বিশ্বকাপ ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন শুরুর। কিন্তু পারল না পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। উজ্জীবিত ফুটবলে তাদের হারিয়ে দিল মরক্কো।

ঘরের মাঠে প্রীতি ম্যাচে শনিবার রাতে ২-১ গোলে জিতেছে ওয়ালেদ রেগরাগির দল।

প্রথমার্ধে সোফিয়ান বুফাল মরক্কোকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরান কাসেমিরো। বুলেট গতির শটে ব্যবধান গড়ে দেন আব্দেলহামিদ সাবিরি। ব্রাজিলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হামোন মেনেসেসের যাত্রা শুরু হলো হতাশার হার দিয়ে।

কাতার বিশ্বকাপের শেষ আট থেকে বিদায় নেওয়ার পর এই প্রথম মাঠে নেমেছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেখানে চোটের জন্য বাইরে থাকা নেইমারের অভাব তারা অনুভব করল প্রবলভাবেই।

আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে শুরু থেকে জমে ওঠা ম্যাচে প্রথম ভালো সুযোগ পান রনি। ত্রয়োদশ মিনিটে লুকাস পাকেতার থ্রু বল পেনাল্টি স্পটের কাছে পেয়েও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।

দশ মিনিট পর নিজেদের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় মরক্কো। হাকিম জিয়াশের কাছ থেকে বল পেয়ে বুলেট গতির শট নেন নুসায়ার মাজরাওয়ি। ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগালে পাননি ব্রাজিল গোলরক্ষক, তবে বল বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে।

২৪তম মিনিটে ডাবল সেভে ব্রাজিলকে হতাশ করেন মরক্কো গোলরক্ষক বোনো। আন্দ্রে সান্তোসের শট ঠিক মতো ফেরাতে পারেননি তিনি, আলগা বলে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন রনি। কোনোমতে পিছিয়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন বোনো।

২৬তম মিনিটে জালে বল পাঠান ভিনিসিউস জুনিয়র। তবে তিনিই অফসাইডে থাকায় মেলেনি গোল। তিন মিনিট পর এগিয়ে যায় মরক্কো।

জিয়াশের পাস মাঝপথেই ধরে ফেলেন এমেরসন রয়েল। কিন্তু বল ক্লিয়ার করতে তিনি অহেতুক দেরি করলে পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। বিলাল এল খাননুসের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রায় উল্টো দিক ঘুরে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন বুফাল।

৩৬তম মিনিটে সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন রদ্রিগো। পেনাল্টি স্পটের কাছে বল পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। পরের মিনিটে জিয়াশের বুলেট গতির বাঁকানো শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। তবে ৪৬ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা মরক্কো গোলের জন্য শট নেয় বেশি। তাদের ৫ শটের একটিই ছিল লক্ষ্যে, যেটি যায় জাল পর্যন্ত। ব্রাজিলের চার শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে।

৫৬তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে ব্রাজিল গোলরক্ষকের পরীক্ষার নেন আজ্জেদিন উনাহি। তবে সতর্ক ছিলেন ওয়েভেরতন ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি।

৬৭তম মিনিটে কাসেমিরোর গোলে সমতা ফেরায় ব্রাজিল। এতে বড় দায় আছে মরক্কো গোলরক্ষক বোনোর। ডি বক্সের বাইরের থেকে কাছের পোস্টে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডারের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন তিনি। ঠিক মতো পারেননি, শরীরের নিচ দিয়ে বল জড়ায় জালে!

প্রতি আক্রমণ থেকে ৭৯তম মিনিটে ফের এগিয়ে যায় মরক্কো। ব্রাজিলের বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা রুখে দিয়ে বাইলাইনের কাছে এগিয়ে যান ইয়াহিয়া আত্তিয়াত আল্লাহ। এই ডিফেন্ডারের ক্রস বুক দিয়ে নামান ওয়ালিদ ছেদদিরা। বুলেট গতির হাফ ভলিতে বাকিটা সারেন সাবিরি।

বাকি সময়ে প্রবল চেষ্টা করলেও স্বাগতিকদের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ব্রাজিল।

গত বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালিস্ট মরক্কোর সময়টা ভালো কাটছিল না। আফ্রিকার দ্বিতীয় দল হিসেবে ব্রাজিলের বিপক্ষে দারুণ জয়ে বাজে সময় পেছনে ফেলার আভাস দিল রেগরাগির দল।