সাকিবের অলরাউন্ডার নৈপূ্ণ্য ইংলিশদের হারাল টাইগাররা। সোমবার সাগরিকায় প্রথমে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলার পর বল হাতেও ভয়ঙ্কর ছিলেন তিনি। সাকিবের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডকে ৫০ রানে হারাল টিম বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে শেষ করল টাইগাররা।টাইগাররা প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৪৬ তোলে। জবাবে ইংল্যান্ড ৪৩.১ ওভারে ১৯৬ রানে গুটিয়ে যায়।

ঢাকায় সিরিজ হারলেও চট্টগ্রামে নিজেদের লাখি ভেন্যূতে ইংলিশকে হারাতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ক্যাপ্টেন তামিম ইকবাল। অবশ্য ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৭ রানে দুই ওপেনারকে হায় স্বাগতিকরা। তামিম ইকবাল ১১ রানে বিদায় নিলেও লিটন ডাক মারেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ৯৮ রানের জুটিতে অনেকটা স্বস্তি ফিরে টাইগার শিবিরে।

একপ্রান্ত সাকিব আগলে থাকলেও অন্য প্রান্তে চলে আসা-যাওয়ার মিছিল। ক্রিস ওকসের বলে কাভারে মঈন আলীর হাতে ক্যাচ দেন আফিফ। সাকিবের সঙ্গে তার জুটি থামে ৪৯ রানে। এরপর ৪৯ তম ওভারে আর্চারের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাকিবও। তিনি করেন ৭৫ রান। ৭১ বলের ইনিংসে সাকিব চার মেরেছেন ৭টি।দলীয় ২৪৬ রানে সাকিবের থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। পরের পলে মোস্তাফিজ এলিবিডাব্লিউ হলে ওখানেই থেকে যায় স্বাগতিকরা। জফরা আর্চার ৮ ওভারে ৩ উইকেট। এছাড়া আদিল ও কারা নেন ২ টি করে উইকেট।

জয়ের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্যটা বড় ছিলনা। ২৪৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালেই করে জজ বাটলাদের দল। অবশেষে নবম ওভারে ইংলিশ দূর্গে আঘাত হানেন সাকিব। দলীয় ৫৪ রানে ফিল সল্টকে বিদায় করেন। পরের ওভারেই এবাদত শূন্য রানে ফেরান মালানকে।নিজের পরের ওভারে আবারও সাকিবে আঘাত। এবার জসন রয়কে সরাসরি বোল্ড করে ম্যাচ ঘুটিয়ে দেন। এরপর থেকে ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

Suggested Post :  ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্সকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিলো বিসিবি

বড় ভাইয়ের সাথে বল হাতে জ্বলে উঠেন মিরাজ তাইজুলরা। দলীয় ১০৪ রানের মাধায় স্যাম ক্যারণকে ২৩ রানে বিদায় করেন। এরপর আবারও সাকিবে আঘাত। এবার ভিন্স সাকিবের বিষাক্ত স্পিনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ইংলিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করে। মাঝে মঈন আলীকে সাথে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন ক্যাপ্টেন জজ বাটলার।

Suggested Post :  মুশফিক ও রিয়াদের বউ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ট্রোল করে যা বললো তা মেনে নেওয়া যায় না

কিন্তু না! মঈনকে ২ রানে বোল্ড করে বিদায় করেন এবাদত। পরে ইংলিশ ক্যাপ্টেন বাটলার ২৬ রান করে কাটা পড়েন তাইজুলের স্পিনে। ৩৪.১ ওভারে ইংলিশদের সংগ্রহ তখন ৭ উইকেটে ১৫৮। শেষ দিকে ক্রিস ওকস ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেনি। শেষ ব্যাটার হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান করে মোস্তাফিজের বলে বিদায় নেন ক্রিস ওকস। ফলে ৪৩.১ ওভারে ১৯৬ রানে থেমে ইংলিশরা। বল হাতে সাকিব ১০ ওভারে ৩৫ রানে নেন ৪ উইকেট। এছাড়া তাইজুল এবাদত নেন দুটি করে উইকেট।

ম্যাচ সেরা হয়ে সাকিব এক হাজার ডলার পুরস্কার জেতেন।যা বাংলাদেশী টাকায় দাঁড়ায় ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা।