InCollage 20230111 180445402 tOPWZ6Ed1n

সাকিবের মাঠে ঢুকে যাওয়া ও বিতর্কিত ঘটনায় মুখ খুললেন মিরাজ

মেহেদী হাসান মিরাজের মতে, নুরুল হাসান সোহান হয়তো দুষ্টুমি করে থাকতে পারেন। সোহান নিজে বলছেন, তিনি বেছে নিয়েছিলেন একটি কৌশল। সব মিলিয়ে ফরচুন বরিশাল ও রংপুর রাইডার্সের ম্যাচে সাকিব আল হাসানের মাঠে ঢুকে যাওয়া নিয়ে দুই দল থেকে পাওয়া গেল দুইরকম ব্যক্তব্য।

বিপিএলে মঙ্গলবার এই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংস শুরুর আগে ঘটে যায় বিতর্কিত ওই ঘটনা। রংপুরের কোন বোলারের মুখোমুখি হবে বরিশালের কোন ওপেনার, এই নিয়ে চলতে থাকে ঘুরপাক। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে স্ট্রাইকে দেখে বোলিংয়ে আনা হচ্ছিল বাঁহাতি স্পিনার। বদল করে ডানহাতি ব্যাটসম্যান স্ট্রাইকে এলে আনা হচ্ছিল অফ স্পিনার।

তখন সাকিবকে দেখা যায় ডাগআউটের সামনে থেকে ব্যাটসম্যানদের দিকে হাত ইশারায় কিছু দেখাতে। এক পর্যায়ে বেশ উত্তেজিত হয়েই মাঠে ঢুকে আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায় তাকে। পরে অবশ্য মাঠ ছেড়ে যান তিনি। বরিশালের চাওয়া মতোই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান চতুরাঙ্গা ডি সিলভা মুখোমুখি হন বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসানের।

তবে গোটা পরিক্রমায় খেলা শুরু হতে দেরি হয় বেশ কিছুটা সময়।

ম্যাচের পর দুই দলের সংবাদ সম্মেলনেই বেশির ভাগ প্রশ্ন ছিল এই ঘটনা ঘিরে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বরিশালকে জিতিয়ে ম্যাচের সেরা হওয়া মিরাজ বিস্তারিত তুলে ধরলেন তাদের দিক থেকে।

“এক প্রান্ত থেকে যে বোলার বল করছিল…আমাদের তো ডানহাতি-বাঁহাতি (ব্যাটসম্যান) ছিল ক্রিজে। যেহেতু মেহেদি (অফ স্পিনার) শুরু করছিল, আমাদের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান চতুরাঙ্গা স্ট্রাইকে ছিল। সাকিব ভাই এখান থেকে বলছেন যেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান স্ট্রাইক নেয়। এতে তো একটা সুবিধা পাবে। কারণ টি-টোয়েন্টিতে এক-দুইটা বলও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাকিব ভাই বাইরে থেকে এটাই বলছিলেন।”

“তারপর যখন আবার বিজয় ভাই (এনামুল) স্ট্রাইকে আসছে, ওরা আবার বাঁহাতি বোলার নিয়ে এসেছে। তখন আবার ও বদলাচ্ছিল। জিনিসটা ওরকম ছিল। কিন্তু এটা যে অনেক কিছু এরকম কিছু না। ওরাও সুবিধা নিতে চাচ্ছিল, হয়তো দুষ্টামি করছিল সোহান ভাই ওই সময়ে।”

সোহানের দাবি, সাকিব বাইরে থেকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন দেখেই তিনি বারবার বোলার বদল করছিলেন।

“আমি দেখছিলাম, সাকিব ভাই বাইরে থেকে যখন চেঁচাচ্ছে, এজন্য আমিও বদলাচ্ছিলাম। সাকিব ভাই যখন বাইরে থেকে চিৎকার করছিল, এজন্য আমিও বদলাচ্ছিলাম।”

“অবশ্যই আমি চাইব ওদের সেরা ব্যাটারের বিপক্ষে আমার সেরা বোলার বল করুক। আপনি যদি উইকেট চিন্তা করেন, এক পাশে বড়, আরেক পাশে ছোট। আমি চাচ্ছিলাম মেহেদি আমার দলের সেরা বোলার, বাঁহাতির বিপক্ষে ও করুক, ডানহাতির বিপক্ষে রকিবুল। আমার কাছে মনে হয় এটা ফেয়ার এনাফ। যে জিনিসটা হয়েছে, একটা পর্যায়ে এটা হয়তো দুষ্টামির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল।”

সাকিবের মাঠে ঢুকে যাওয়া ও বিতর্কিত ঘটনায় যা বললেন সোহান-মিরাজতবে তিনি যে মজা করে এমন কিছু করেননি, তা আবারও পরিষ্কার করলেন সোহান।

“দুষ্টুমির কথা বলিনি। আমি বলেছি, সাকিব ভাই যখন বাইরে থেকে কথা বলছিল। তখন আমিও আপনার বোলার বদলেছি। এটা যদি ব্যাটাররা করত, তাহলে আমিও বদলাতাম না। যখন বাইরে থেকে কথা হয়েছে, এ কারণে আমি বদলেছি। এটাকে দুষ্টুমি বলব না। যেটা বললাম, আমি চাইব সেরা বোলার যেন সেরা ব্যাটারের বিপক্ষে বল করে।”

এসব ক্ষেত্রে সাধারণত বোলিং দলকেই আগে ঠিক করতে হয় বোলার। দুই ওপেনার ক্রিজে গিয়ে নিজের প্রান্ত ঠিক করেন। তবে সোহানের দাবি, আম্পায়ার তখন তাদেরকে এরকম কিছু বলেননি।

“আমি চাচ্ছিলাম আগেহ ব্যাটার আসুক। যখন ব্যাটার ঢুকছে, আমি জিজ্ঞেস করেছি নরমালি কে স্ট্রাইক করে। তো সে যখন আসছে (স্ট্রাইকে), তখন আমার বোলার এসেছে। যখন বাইরে থেকে আবার কথা এসেছে, তখন আমি বদলেছি।”

“আম্পায়ারদের আগে বলা উচিত ছিল। আম্পায়ার তো কিছু বলেননি। আম্পায়ার কথা বললে আরেকটু আগে সমাধান হতো। আমাকে যখন বলেছে, আর কোনো তর্ক করিনি। পরে তো সেটাই হয়েছে, ব্যাটাররা যা চেয়েছে। ব্যাটারের রাইট যেটা, ওটাই করেছে।”

সাকিব মাঠে ঢুকে আম্পায়ারদের সঙ্গে কী নিয়ে কথা বলছিলেন, এটা অবশ্য জানেন না বলেই দাবি করলেন সোহান।

“সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে যখন তর্কাতর্কি হয়েছে, তখন তো আমি ছিলাম না। আমি এই পাশে ছিলাম। মাঠে ছিলাম, কী কথা হয়েছে আমি জানি না। আমি আমার পাশে ছিলাম।”

ঘটনা যেটিই হোক, সাকিবের এভাবে মাঠে ঢুকে যাওয়ার ঘটনা জন্ম দিয়েছে অনেক প্রশ্নের। ম্যাচ অফিসিয়ালদের অনুমতি ছাড়া বাইরে থেকে কারও এভাবে হুট করে মাঠে ঢুকে যাওয়ার নিয়ম ক্রিকেটে নেই। সাকিব অনুমতি নিয়েছিলেন কি না, এই সংশয় আছে যথেষ্টই। তিনি মাঠে ঢুকে যাওয়ার সময় চতুর্থ আম্পায়ার বেশ দূরে ছিলেন।

মিরাজ অবশ্য বললেন, আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তার অধিনায়ক।

“পরিস্থিতিটা এমন ছিল, যখন বিজয় ভাইকে (এনামুল) যখন বলছিল, তখন আম্পায়ারের সঙ্গে কথোপকথন হচ্ছিল। অধিনায়ক তো মাঠে যেতেই পারে। অনেক সময় যেতে পারে না?”