আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মুল্য পাওয়া ক্রিকেটার মাশরাফী; দেখেনিন বাংলাদেশির দাম

InCollage 20221226 173341321 P6BnsQ153A

কোনো দ্বিধা ছাড়াই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে জমজমাট ও জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট। এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকেন বাঘা বাঘা ক্রিকেটাররা। অনেক ক্রিকেটারের কাছে তো আইপিএল খেলা স্বপ্নের মতো। টুর্নামেন্টটির আগামী আসরে বাংলাদেশ থেকে খেলবেন ৩ ক্রিকেটার, আর এবারই প্রথম দুইয়ের অধিক বাংলাদেশি ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন আইপিএলের কোনো আসরে। এখন পর্যন্ত আইপিএলের ১৬টি আসরের নিলামে কোন বাংলাদেশি ক্রিকেটার কত পারিশ্রমিকে দল পেয়েছিলেন, জেনে নেওয়া যাক৷

আইপিএলে দল পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি ছিলেন জাতীয় দলের বর্তমান নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে রাজ্জাককে কেনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। সে সময় ব্যাঙ্গালোর দলটা ছিল রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে। রাজ্জাক যে নিলামে ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিকে দল পেয়েছিলেন, তাতে আনসোল্ড থেকে যান মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মোহাম্মদ আশরাফুলের মতো ক্রিকেটার।

২০০৯ সালে অবশ্য দল পান মাশরাফি ও আশরাফুল। ৬ লাখ ডলার মূল্যে মাশরাফিকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। আসরের অন্যতম দামি খেলোয়াড় ছিলেন মাশরাফি। নড়াইল এক্সপ্রেস অবশ্য মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। শাহরুখের কলকাতা ছাড়াও মাশরাফিকে দলে নিতে তুমুল আগ্রহ দেখিয়েছিল প্রীতি জিনতার দল পাঞ্জাব।

আশরাফুল সেই নিলামে ৭৫ হাজার ডলারে জায়গা পান মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে। মাশরাফির মতো তিনিও অবশ্য মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। শচীনের দল আশরাফুলকে কিনেছিল ভিত্তিমূল্যে, অর্থাৎ আর কোনো দল আগ্রহী ছিল না আশরাফুলের প্রতি।

সাকিব আল হাসান প্রথমবারের মতো সুযোগ পান ২০১১ সালে। কলকাতা তাকে কেনে সোয়া ৪ লাখ ডলার খরচ করে। ২০১২ সালেও কলকাতাতেই খেলেছেন। সেবার তামিম ইকবালকে ভিত্তিমূল্য ৫০ হাজার ডলারে কেনে পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়া। তবে তাকে একটি ম্যাচ খেলারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।

২০১৪ সালে আবারও কলকাতায় ফেরেন সাকিব, এবার তার দাম হাঁকানো হয় ২ কোটি ৮০ লাখ রুপি। ২০১৬ সালে সাকিবের সাথে যোগ দেন আরেক বাংলাদেশি- মুস্তাফিজুর রহমান। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ মুস্তাফিজকে কিনে নেয় ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে। ৫০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্য থেকে মুস্তাফিজের দাম এত বেড়েছিল হায়দরাবাদের সাথে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের লড়াইয়ে। শেষপর্যন্ত হায়দরাবাদই এই লড়াইয়ে জয়ী হয়, মুস্তাফিজের হাত ধরে জেতে আইপিএলের শিরোপাও।

২০১৮ সালে সাকিব আল হাসান দল পাল্টান। কলকাতা ছেড়ে দেওয়ার পর সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাকে দলভুক্ত করে ২ কোটি রুপিতে। ২০২১ সালে কলকাতা আবারও দলে নেয় সাকিবকে, পাঞ্জাব কিংসের সাথে লড়াইয়ের পর খরচ করতে হয় ৩ কোটি ২০ লাখ রুপি।

এদিকে হায়দরাবাদ থেকে মুস্তাফিজ ২০১৮ সালে যান মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে, ২ কোটি ২০ লাখ রুপিতে। ২০২১ সালে ১ কোটি রুপিতে তাকে দলে নেয় রাজস্থান রয়ালস। ২০২২ সালের মেগা নিলামে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে দিল্লী ক্যাপিটালসসে জায়গা পান ২ কোটি রুপি মূল্যে। এবারও দল ধরে রেখেছে তাকে।

মুস্তাফিজের সাথে এবার আইপিএলে দেখা যাবে সাকিব ও লিটনকে। সাকিব ভিত্তিমূল্য দেড় কোটি রুপিতে ফিরেছেন কলকাতায়। প্রথমবার আইপিএলে দল পাওয়া লিটন দাসও কলকাতায় খেলবেন। সাকিবের মতো তিনিও ভিত্তিমূল্য অর্থাৎ ৫০ লাখ রুপিতে পেয়েছেন দল।

You May Also Like