আইপিএল খেলেছে যে ১১ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটার

আইপিএল মানেই তারার মেলা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক এই লিগে বিশ্বের সব সেরা ক্রিকেটাররা খেলে থাকেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলোও কাড়িকাড়ি টাকা নিয়ে তৈরি থাকে খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে। তবে ব্যতিক্রম এখানে পাকিস্তানে ক্রিকেটাররা।

এ যুগের অনেকে হয়তো জানেনই না ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলে একসময় দাপট দেখিয়েছেন আফ্রিদি-শোয়েব আখতার, সোহেল তানভীর সহ অনেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার। হ্যা এখন না খেললেও আইপিএলের শুরুর আসরগুলোতে নিলামে তাদের দলে ভেড়াতে রীতিমতো কাড়াকাড়িও হতো!

২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা খেললেও দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতায় পরের আসরগুলোতে আর তা হয়নি। সে বছর মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের ক্রীড়া আসর বাতিল করে। সেটিরই প্রভাব পড়ে আইপিএলে।তবে ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে পাকিস্তানি ক্রিকেটারের সংখ্যা মোটেও কম ছিল না। শোয়েব আখতার থেকে শহীদ আফ্রিদি, মোট ১১ ক্রিকেটার খেলেছিলেন সেবার। মানে বলা যায় একটি পুরো টিমই খেলেছিল আইপিএল।

দেখে নেওয়া যাক সেই তারকাদের-

সোহেল তানভীর

রাজস্থান রয়্যালসে খেলেছিলেন বাঁহাতি স্টাইলিশ পেসার। শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বাধীন দলটা সেবার আইপিএল শিরোপা ঘরে তুলে। যার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল সোহেল তানভীরের পারফরম্যান্সেরও।
আইপিএলে প্রথম পার্পেল ক্যাপ জয়ী ক্রিকেটারের সোহেল তানভীর।
১১ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন তিনি।

শহীদ আফ্রিদি

ডেকান চার্জার্সের হয়ে খেলেছিলেন শহীদ আফ্রিদি। ঠিক আগের বছরই ২০০৭ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় ছিলেন এই তারকা। তবে আইপিএলে পারফরম্যান্সের সেই ধারাটা বজায় রাখতে পারেননি। ১০ ম্যাচে রান করেছিলেন মাত্র ৮১। উইকেট ৯টি।

শোয়েব মালিক

দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের জার্সি গায়ে জড়ান এই অলরাউন্ডার। তবে এবি ডি ভিলিয়ার্স, তিলকরত্নে দিলশান, ড্যানিয়েল ভেট্টরি, গ্লেন ম্যাকগ্রাদের ভিড়ে একাদশে খুব বেশি সুযোগ হয়নি মালিকের। মাত্র ৭ ম্যাচ খেলেছিলেন, মোট রান ৫২।

শোয়েব আখতার

শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেন পাকিস্তানের স্পিড স্টার। তবে তিন ম্যাচের বেশি তার খেলা হয়নি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সেই সময় তাকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। তবে তিন ম্যাচের মধ্যেই দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান শোয়েব।

মিসবাহ-উল-হক

২০০৭ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেছিলেন মিসবাহ-উল-হক। যে নৈপুণ্যের পর আইপিএলেও তাকে নিয়ে ছিল আগ্রহ। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলেন তিনি। ৮ ম্যাচে ১৬.৭১ গড়ে ১১৭ রান করেন তিনি।

মোহাম্মদ আসিফ

এই ডানহাতি ফাস্ট বোলার খেলেছিলেন দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে। ৮ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তবে সেই আসরেই ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন তিনি। শেষ হয়ে যায় তার আইপিএলও।

কামরান আকমল

পাকিস্তানি এই উইকেটরক্ষক আইপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন দল রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলেন। মাত্র ৬ ম্যাচ খেলেছিলেন। তবে রাজস্থানে শিরোপা জয়ে তার রয়েছে বড় ভূমিকা। বিশেষ করে বেশ কয়েকটি ম্যাচে স্লগ ওভারে দারুণ ব্যাটিং করেছিলেন।

সালমান বাট

কলকাতা নাইট রাইডার্সে ছিলেন এই ব্যাটার। কিন্তু ক্রিস গেইল, রিকি পন্টিং, ব্র্যান্ডন ম্যাককালামরা জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য আইপিএল ছাড়লে ম্যাচ খেলার সুযোগ মেলে তার।
৭ ম্যাচে ১৯৩ রান করেছিলেন বাট। মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ৫৪ বলে ৭৩ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস খেলেছিলেন।

উমর গুল

ডানহাতি এই পেসারও ছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে। কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে শেষ লিগ ম্যাচে দারুণ অবদান রাখেন উমর গুল।

ইউনিস খান

রাজস্থান রয়্যালসে খেলেছিলেন ইউনিস খান। কিন্তু গ্রায়েম স্মিথ, ড্যামিয়েন মার্টিন, শেন ওয়াটসন, ইউসুফ পাঠানদের ভিড়ে মাত্র ১ ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল তার

মোহাম্মদ হাফিজ

হাফিজও ছিলেন কলকাতা নাইটরাইডার্সে। তবে এই অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি। ৮ ম্যাচে ৬৪ রান করেন তিনি। বল হাতে বেশ ভালো ভূমিকা রেখেছিলেন।

Related Post

x