ওবার ওপেনিং নিয়ে রোহিত শর্মাকে টেনে মুখ খুললেন তামিম

২০০৭ সালে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শুরু রোহিত শর্মার। দিল্লির হয়ে ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুরি ছুটিয়ে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে। কিন্তু জাতীয় দলে তার জায়গা হয় মিডল অর্ডার ও লেট মিডল অর্ডারে। নিজের পছন্দের পজিশন ওপেনিংয়ে যেতে তার লেগে যায় পাক্কা পাঁচ বছর। ২০১৩ সালে ভারত যেবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতলো সেই সিরিজ থেকে ওয়ানডেতে ওপেনিং করা শুরু রোহিতের।

ওই বছরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস উদ্বোধন করেন মারকুটে ব্যাটসম্যান। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওয়ানডেতে তার সেঞ্চুরি ২৯টি, টি-টোয়েন্টিতে চারটি। ওপেনিংয়ে রোহিত এতোটা মুগ্ধতা ছড়াবেন কেউ ভাবেনি। ভাবেননি সীমিত পরিসরে একদিন নম্বর ওয়ান ব্যাটসম্যানও হবেন।

রোহিত শর্মার এমন উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিং করা মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাব্বির রহমানের পাশে দাঁড়িয়েছেন তামিম ইকবাল। ওয়ানডে অধিনায়ক মনে করেন তাদের সময় দেওয়া প্রয়োজন। সময় দিলে তাদের থেকেও ভালো কিছু পাওয়া সম্ভব। শুক্রবার (০৭ অক্টোবর) রাজধানীর এক হোটেলে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তামিম বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যারা ওপেন করে তাদের ওপেন করা উচিত। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। কিন্তু এখানে যদি তাদের (টিম ম্যানেজমেন্টের) নিদিষ্ট কোনো পরিকল্পনা থেকে থাকে এটাকে আমি ভুল বলতে পারব না। ধরেন রোহিত শর্মা, ওয়ান অব দ্য গ্রেটেস্ট ওপেনার ইন দ্য হিস্ট্রি অব দ্য গেম। ও তো পাঁচ-ছয়ে ব্যাট করত। কিন্তু কেউ কি ভেবেছিল ও ওপেন করবে? এখন ২৫টার মতো সেঞ্চুরি (ওয়ানডেতে ২৯, টি-টোয়েন্টিতে ৪)। তাই আমি কাউকে দিয়ে হবে না বলে দিতে পারি না, মিরাজকেও না, সাব্বিরকেও না। তাদের সময় দেন।’

বাংলাদেশের নিয়মিত ওপেনাররা রান না করায় মিরাজ-সাব্বিরকে দিয়েও ওপেনিং করানো হচ্ছে। সাব্বির সুযোগ পেয়ে বড় কিছু করতে না পারলেও মিরাজ থিতু হয়েছেন। শুক্রবার নিউ জিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুজনই অবশ্য ব্যর্থ হয়েছেন। মিরাজ ১০, সাব্বির ১৪ রান করেছেন। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অথচ এখনও মেক-শিফট ওপেনার দিয়ে চালানো হচ্ছে দল। নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর শ্রীধরন শ্রীরাম কোন পরিকল্পনা করছেন তা জানেন না তামিম। তাই টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়কের।

তার ভাষ্য, ‘যখন একজন নতুন কোচ আসে, একটা পরিকল্পনা নিয়ে আসেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি ওই কোচের সঙ্গে এখনো কাজ করিনি। তার পরিকল্পনা বা মানসিকতা কী সেটা আমি এখনো জানি না। না জেনে যদি বলে দেই যে ওপেনারদের ওপেন করা উচিত, এটা ঠিক না। আমিও এই দলের একজন, টি টোয়েন্টি খেলছি না। কিন্তু ওয়ানডে ও টেস্ট খেলছি। তাই এটা আমার দল।

আমি যদি এখন তার বিপক্ষে কিছু বলি, এটা ঠিক না। আমি নিশ্চিত এখানে কোনো কারণ আছে, কেন তারা এটা করছে। আর যদি এটা বাস্তবায়ন না হয়, তাদের অন্য পরিকল্পনা থাকা উচিত এবং আমি নিশ্চিত অন্য পরিকল্পনা আছে। একটা দুইটা পারফরম্যান্স যদি খারাপ হয়, কারও ওপর লাফিয়ে না পড়ে সমর্থন দেওয়া উচিত। কারণ, বিশ্বকাপে ভালো করুক এটা আমরা সবাই চাই। আমরা যদি ২-৩ ম্যাচ জিততে পারি এটা ভালো অর্জন। কারণ, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তো বেশি ম্যাচ জেতেনি। সবাই ইতিবাচক থাকুন, দেখা যাক কী হয়।’

x

You May Also Like