স্বপ্নযাত্রা রঙিন করতে মুখিয়ে আছেন বাংলাদেশী নতুন এই হার্ডহির্টার

পাকিস্তান জুনিয়র লিগে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছেন অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ মাতানো ব্যাটার আরিফুল ইসলাম। এ বছরের শুরুর দিকে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়েই সকলের নজরে আসেন তিনি। সেই সুবাদে ডাক পেয়ে গেছেন বিদেশি লিগেও।

পাকিস্তান জুনিয়র লিগে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছেন অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ মাতানো ব্যাটার আরিফুল ইসলাম। এ বছরের শুরুর দিকে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়েই সকলের নজরে আসেন তিনি। সেই সুবাদে ডাক পেয়ে গেছেন বিদেশি লিগেও।

পাকিস্তানের জুনিয়র ক্রিকেট লিগে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে খেলবেন আরিফুল। প্লেয়ারস ড্রাফট থেকে তাকে দলে ভিড়িয়েছে গুজরানওয়ালা জায়ান্টস। টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই খেলা আছে দলটির। একাদশে সুযোগ পেলে সেদিনই হয়ত মাঠে নেমে যাবেন আরিফুল। দলের মেন্টর হিসেবে সেখানে শোয়েব মালিককেও পাবেন তিনি। সবকিছু মিলিয়ে তাই সামনে এক স্বপ্নযাত্রাই অপেক্ষা করছে আরিফুলের জন্য। আর সেই স্বপ্নযাত্রা রঙিন করতে মুখিয়ে আছেন তিনি।

বিডিক্রিকটাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরিফুল জানান, ‘আসলে এটি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, ভালো বড় টুর্নামেন্ট। এই প্রথম আয়োজন হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে আমি একা সুযোগ পেয়েছি খেলার। অবশ্যই নিজের কাছে ভালো লাগছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমি এখন থেকেই চেষ্টা করছি নিজেকে অইভাবে তৈরি করতে যেখানেই যাই যেন পারফর্ম করতে পারি। ফ্যাঞ্চাইজি লিগগুলো অনেক বড় টুর্নামেন্ট। এগুলোতে পারফর্ম করলে বিসিবিতে আমার প্রতি অনেক ফোকাসড হবে, সামনে আমার জন্য খুব ভালো হবে ইনশাল্লাহ।’

সেখানকার উইকেট, পরিবেশের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে ভালো করাই আরিফুলের লক্ষ্য। তিনি জানান, ‘আমি এখন যাচ্ছি পাকিস্তানে। তাই আমি চাইব অই উইকেটগুলো কেমন, বোলারগুলো কেমন, সবকিছু কীভাবে হয় এই বিষয়গুলোর সাথে মানিয়ে নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে যেন আমিও দেশের হয়ে ভালো কিছু করতে পারি ইনশাল্লাহ।’

এছাড়া নিজের ব্যাটিংয়ের প্র্যাকটিস, অগ্রগতি নিয়েও দারুণ সন্তুষ্ট এই উঠতি তারকা, ‘আজকে আগের ধারাতেই শুরু করেছি। মেশিনে ব্যাটিং করছি। আমি চাচ্ছি টি-টোয়েন্টির প্র্যাকটিস করতে কারণ সেখানে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে। আমি নিজের মধ্যে একটি ধারা নিয়ে আসতে চাচ্ছি যেন যেকোনো সময়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারি সেখানে (পাকিস্তান) গিয়ে।’

আসন্ন এই লিগে ভালো করতে দেশবাসীর কাছে দোয়াও চেয়েছেন তিনি, ‘অবশ্যই আমার দেশ যদি আমাকে সমর্থন করে পুরো দেশ যদি আমার সাথে থাকে তাহলে অবশ্যই আমার আত্মবিশ্বাস থাকবে অন্যরকম। আমি দেশবাসীর কাছে অনেক দোয়া চাইব এবং আমি নিজেও চাইব আমি যেন দেশবাসীর জন্য কিছু করতে পারি ইনশাল্লাহ।’

২০২০ অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলেও পরের আসরে অর্থাৎ ২২ সালের টুর্নামেন্টে খুব বেশি ভালো কিছু করতে পারেনি বাংলাদেশ। দলীয় সাফল্য কম হলেও আরিফুলের ব্যাটিং এবং পেসার রিপন মন্ডলের বোলিং ছিল নজরকাড়া। আগামী অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দলেও আছেন আরিফুল। জানিয়েছেন সেই বিশ্বকাপ ঘিরে নিজের চিন্তাধারা, প্রস্তুতি এবং আশার কথাও।

‘আমার সবসময় চেষ্টা থাকবে আমি যেন বড় কিছু করতে পারি। আগেরবার ২টি সেঞ্চুরি করেছি এবার লক্ষ্য থাকবে যেন ৩-৪টি অথবা ৫টি সেঞ্চুরি করতে পারি। আমার লক্ষ্য থাকবে অনেক বড়, আমি যাতে খুব ভালোভাবে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত হতে পারি। আমি যেন দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারি অনেক বছর ইনশাল্লাহ। আমি নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করছি। আমার প্র্যাকটিসগুলোও সেভাবেই হচ্ছে। আমি বুঝতেছি যে আমার কী করা দরকার। ধীরে ধীরে বিদেশি কোচের সাথে কাজ করছি, সামনে আরও করব। ভুলত্রুটিগুলো নিয়ে কাজ করব, বাকিটা আল্লাহ ভরসা, তারপর দেখা যাক আমি কতটুকু যেতে পারি ইনশাল্লাহ।’

আগামী ৬ অক্টোবর টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই মারদান ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে আরিফুলের দল গুজরানওয়ালা জায়ান্টস। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

You May Also Like