১৭ বছর পর পাকিস্তান গিয়ে ইংল্যান্ডের জয়!

প্রতিটি সিরিজ ও টুর্নামেন্টের জন্য ইংল্যান্ড দল ঘোষণা হয়, আর অ্যালেক্স হেলসের দীর্ঘশ্বাস বাড়ে! কদিন আগেও ব্যাপারটি ছিল এমনই। সেই হেলস অবশেষে দলে ফিরলেন, সেটিও জনি বেয়ারস্টোর অদ্ভুত এক চোটের কারণে। ফিরেই প্রমাণ করলেন, জায়গাটা তাঁর প্রাপ্যই। করাচিতে সাড়ে তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই হেলস করলেন ফিফটি। তাঁর ৪০ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে ভর করে পাকিস্তানের দেওয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্য ৪ বল ও ৬ উইকেট বাকি রেখেই পেরিয়ে গেছে ইংল্যান্ড, সাত ম্যাচে সিরিজে এগিয়ে গেছে ১-০ ব্যবধানে।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানকে আরেকবার শক্ত ভিতই এনে দেয় বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপেনিং জুটি। স্ট্রাইক রেট নিয়ে আলোচনায় থাকা বাবর আদিল রশিদের গুগলিতে বোল্ড হওয়ার আগে করেছেন২৪ বলে ৩১ রান। তিনে সুযোগ পাওয়া হায়দার আলী ১৩ বলে ১১ রানের বেশি করতে পারেননি।

পাকিস্তানের মিডল অর্ডারও খেই হারিয়েছে আরেকবার। একদিকে ইনিংস ধরে রেখেছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, তবে ১৫তম ওভারে ইংল্যান্ড অধিনায়ক মঈন আলীর বলে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন তিনি ৪৬ বলে ৬৮ রান করে। রিজওয়ানের ইনিংসে ৬টি চারের সঙ্গে ছিল ২টি ছক্কা।

পাঁচে নামা ইফতিখার আহমেদ ১৭ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলেন। তাঁর আশেপাশে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার অবশ্য দাঁড়াতে পারেনি। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে শান মাসুদ করেন ৭ বলে ৭ রান। মঈনকে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে একটা চার মেরেছিলেন, সে পর্যন্তই। রশিদকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ তোলেন তিনি। মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ নেওয়াজ বা খুশদিল শাহও দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি, শেষ ১০ ওভারে ৭১ রানের বেশি তুলতে পারেনি পাকিস্তান।

অভিষিক্ত বাঁহাতি পেসার লুক উড ২৪ রান দিয়ে নেন ইফতিখার, নেওয়াজ ও নাসিম শাহর উইকেট; দুটিই আসে শেষ ওভারে। ১টি করে উইকেট নেন মঈন ও স্যাম কারান।

রান তাড়ায় ফিল সল্ট ও হেলসের নতুন ওপেনিং জুটিতে ওঠে ১৯ রান, ১০ বলে ১০ রান করে ডিপ স্কয়ার লেগে হায়দারের হাতে শাহনেওয়াজ দাহানির হাতে ক্যাচ দেন সল্ট। তাতে অবশ্য পাওয়ারপ্লেতে রানের গতি ঠিক কমেনি ইংল্যান্ডের, ৬ ওভারে তারা তোলে ৪৭ রান। এর পরপরই ১৫ বলে ২০ রান করা ডেভিড ম্যালানকে ফেরান উসমান কাদির। ইংল্যান্ডের পরের উইকেটও পাকিস্তান লেগ স্পিনারের, ১৭ বলে ২১ রান করে এলবিডব্লু হন প্রায় সাড়ে তিন বছর পর এ সংস্করণে নামা বেন ডাকেটও। এর আগেই অবশ্য ২৮ রানে দাঁড়িয়ে মাসুদের হাতে ওয়াইড লং অনে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান হেলস।

মাসুদ সে ক্যাচ নিতে পারলে ইংল্যান্ডের রান তাড়ার চিত্রটা ভিন্ন হতেও পারত। সেটি শেষ পর্যন্ত হয়নি। হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে হেলসের চতুর্থ উইকেট জুটিতে ওঠে ৩৫ বলে ৫৫ রান। হারিস রউফকে চার মেরে ৩৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন হেলস, যদিও ফেরেন ঠিক পরের বলেই।

তাতে সমস্যা হয়নি ইংল্যান্ডের। সেটি হতে দেননি ব্রুকই। ২৫ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, মঈনকে নিয়ে ৪ বল বাকি থাকতেই নিশ্চিত করেন জয়। ১৭ বছর পর পাকিস্তান সফরে যাওয়া ইংল্যান্ড প্রথম ম্যাচটিই তাই স্মরণীয় করে রাখল, যেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে হেলস-উডের জন্যও।

You May Also Like