কোমরব্যথা থেকে মুক্তি পেতে জেনে নিন ১০টি উপায়

পৃথিবীতে এমন মানুষ কমই আছেন যার জীবনে কখনও কোমরব্যথা হয়নি। এই ব্যথার উৎস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয় কোমরে অবস্থিত মাংসপেশি, হাড় আর স্নায়ু থেকে। এই কোমরব্যথার উপসর্গগুলো ঠিক হয়ে আসতে সময় লাগে কয়েক সপ্তাহের মত। শতকরা ৪০—৯০ ভাগ মানুষের কোমরব্যথা ছয় সপ্তাহের মাথায় পুরোপুরি সেরে ওঠে।

কোমরব্যথার মতো গুরুতর সমস্যা নিয়েই আজ আলোচনা করবে দেহ। এই ব্যথার কারণ ও ধরন সম্পর্কে আমরা আজ আপনাদের জানাবো। তবে এই লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো কোমরব্যথা প্রতিকারের ১০টি সহজ উপায় সম্পর্কে আপনাদের অবগত করা। এসব নিয়ম দৈনন্দিন জীবনে মেনে চললে আপনি অবশ্যই এই ব্যথার কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন।

কোমরব্যথার কারণ
কোমরব্যথা সত্যিকার অর্থে কোনো রোগ নয়, বরং এটা শরীরের ভেতরে ঘটতে থাকা ব্যাধির উপসর্গ মাত্র। কারণের ভিত্তিতে এই ব্যথাকে নিম্নরূপে ভাগ করতে পারি-

১. মেকানিক্যাল: পেশিতে টান খাওয়া, স্পাস্ম হওয়া, অস্টিও আর্থ্রাইটিস, মেরুদণ্ডের ক্ষয়, হাড়ের মধ্যবর্তী ডিস্ক জনিত সমস্যা এর প্রধান কারণের কয়েকটি।

২. ইনফ্লাম্যাটরি: এনকাইলজিং স্পন্ডাইলাইটিস , রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, রিঅ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি কারণে প্রায়শই কোমর ব্যথা হয়।

৩. ক্যানস্যারজনিত ব্যথা: শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানস্যার এক পর্যায়ে মেরুদণ্ডের হাড়ে ছড়িয়ে পড়লে এই ব্যথার সূত্রপাত ঘটে।

৪. ইনফেকশন: অস্টিওমাইলাইটিস কিংবা ফোঁড়া থেকেও ব্যথা হতে পারে। কোমর ব্যথার ধরন

কোমরব্যথার ধরন
শরীরের অন্যান্য জায়গার ব্যথার মতো এই ব্যথাও কখনো স্থির ও নিস্তেজ, আবার কখনো বেশ তীব্র। কোমরব্যথা যখন ছয় সপ্তাহের কম থাকে তখন তাকে আমরা অ্যাকিউট ব্যথা বলি। আর যখন ব্যথাটি ৬ সপ্তাহ অতিক্রম করে ফেলে তখন আমরা তাকে বলি ক্রনিক ব্যথা। আর এই ব্যথা যে কেবল কোমরেই থাকবে তা কিন্তু নয়। কোমর ব্যথা নিচে পায়ের দিকে যেতে পারে , আবার কোনো কোনো সময় পা থেকেও ওপরের দিকে আসতে পারে। ব্যথা কাজের সাথে সাথে তীব্রতরও হয়ে উঠতে পারে।

কোমরব্যথা কমিয়ে আনতে ১০টি করণীয়
১. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য পছন্দমতো ব্যায়াম করুন; যেমন—হাঁটাচলা, জগিং, সাইকেল চালানো ইত্যাদি। কোমরের মাংসপেশির বল বাড়ানোর জন্য কিছু স্পেশাল ব্যায়ামও আপনি করতে পারেন। স্ট্রেচিং, যোগশাস্ত্রের মাধ্যমেও কোমরের উপকার হতে পারে।

২. ঠান্ডা প্রয়োগ করুন
কোমরে আঘাত পেয়ে থাকলে তাতে গরম ভাপের পরিবর্তে ঠান্ডা কিছুর প্রয়োগ করলে ব্যথা কমার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিশেষ করা ব্যথা পাওয়ার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা সবচেয়ে ভালো হয়।

৩. আরামদায়ক ম্যাট্রেসে ঘুমা
আপনি যে ম্যাট্রেসে ঘুমান সেটা যাতে অধিক শক্ত কিংবা নরম না হয় এ বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। চেষ্টা করবেন মোটামুটি শক্ত সমান বিছানায় চিত হয়ে শোয়ার। ঘুমানোর অবস্থান প্রয়োজন মতো পাল্টে নিলেও ভালো হয়। হাঁটুর নিচে অথবা মধ্যখানে বালিশ রেখেও আপনি আপনার মাংসপেশিকে আরাম দিতে পারেন।

৪. দেহভঙ্গি বজায় রাখুন
আপনার অঙ্গবিন্যাসের প্রতি বিশেষ নজর দিন আজ থেকেই। সামনে ঝুঁকে থাকবেন না। আর লম্বা সময় ধরে কুঁজো হয়ে থাকবেন না একদমই।

৫. ওজন কমিয়ে ফেলুন
শরীরের ওজন সবসময়ে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। যদি আপনি মোটা হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে ওজন কমাতে হবে। কারণ অতিরিক্ত ওজনের কোমরের উপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে এবং সেই চাপ সামাল না দিতে পেরে ব্যথা শুরু হয়।

৬. সাপোর্ট ব্যবহার করুন
একই জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না। কোথাও বসলে অবশ্যই পিছনে পিঠের জন্য ভালো সাপোর্ট আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। তা না হলে কোমরের উপর চাপ সৃষ্টি হয়ে ব্যথা শুরু হবে।

৭. হাই হিল ব্যবহার করবেন না
মেয়েদের প্রতি পরামর্শ থাকবে নিচু হিলের জুতা কিংবা স্যান্ডেল পরার। কারণ হাই হিলের জুতো কোমর ব্যথা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। বাচ্চাদের কোলে তুলে নেওয়ার সময় কোমর ঝুঁকবেন না।

৮. ধূমপান বর্জন করুন
ধূমপান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে ধূমপানের ফলে অস্টিওপোরসিস অর্থাৎ হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি পায়, সাথে কোমরব্যথাও বাড়ে।

নিয়মিত ডাক্তারের কাছে চেক-আপ করিয়ে নিবেন। যদি ব্যথা গুরুতর রূপ ধারণ করে, একজন বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা গ্রহণ করুন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

১০. ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন
যে ওষুধ খেলেই এই ব্যথা সেরে যাবে তা মোটেই নয়। ফিজিওথেরাপি হল কোমরব্যথার আধুনিক সমাধান। এই সুবিধা আপনি হাসপাতালের আউটডোরে পেতে পারেন। যদি দীর্ঘদিনের সমস্যা থাকে আপনি হাসপাতালে কিছুদিনের জন্য ভর্তি হয়ে ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করতে পারেন।

You May Also Like