রিজওয়ানের কচ্ছপ গতির ইনিংসই শ্রীলঙ্কার জয়কে সহজ করে দিয়েছে!

পেসারদের দাপুটে বোলিংয়ে শুরুর ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কাকে চেপে ধরেছিল পাকিস্তান। তবে ৫ উইকেট হারিয়েও ভানুকা রাজাপাকশা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় লঙ্কানরা। পরের ভাগে পাকিস্তানের বোলারদের মাটিতে নামিয়ে আনার সঙ্গে,

রাজাপাকশার অপরাজিত ৭১ রানে স্কোরবোর্ডে ১৭০ রান তোলে দাসুন সানাকার দল। বাজে ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে লঙ্কানরা পরের ভাগে আরও যোগ করে ১০৩ রান। জবাবে ফাইনালে বড় রানের লক্ষ্যে নেমে হাসারাঙ্গার ঘূর্ণি ও প্রমোদ মাধুসানের ৪ উইকেটে ২০ ওভারে ১৪৭ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ২৩ রানের জয়ে ষষ্ঠবারের মত এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় শ্রীলঙ্কা।

১৭১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুর ওভারে ১২ রান স্কোরবোর্ডে তোলে পাকিস্তান, যদিও ১০ রানই আসে এক্সট্রা। অফ ফর্মে থাকা বাবর আজম এদিনও দলের জন্য কিছু করতে পারেননি। ৩ ওভারে ২০ রান তোলা পাকিস্তানকে চতুর্থ ওভারে বিপদে ফেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই দলপতি। প্রমোদ মাধুসনের লেগ সাইডে ছোড়া বলকে ফ্লিক করতে গিয়ে ফাইন লেগে দিলশান মধুশঙ্কার তালুবন্দি হন তিনি। যদিও বলটি ছেড়ে দিলেই ওয়াইড হত।

৬ বলে ৫ রানে বাবর আউট হওয়ার পরের বলেই ফেরেন ফখর জামান। অফ স্টাম্পের দূরের একটি বলকে ড্রাইভ করতে গিয়ে ইনসাইড এজে বোল্ড হন তিনিও। অপরপ্রান্তে থাকা রিজওয়ান অবশ্য সে সময় দলের হাল ধরেন। তাকে সঙ্গ দেন ইফতেখার আহমেদ। এই দুজনের হিসেবই ব্যাটিংয়ে ১০ ওভারে ৬৮ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করে পাকিস্তান। পানি বিরতির পর অবশ্য রান রেট বাড়াতে শুরু করে এই জুটি।

১২তম ওভারে হাসারাঙ্গাকে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ১০০’র পথে নিয়ে যেতে থাকেন ইফতেখার। কিন্তু ১৪তম ওভারে মাধুসানকে উরিয়ে মারতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ আউট হন ইফতেখার। ৩১ বলে ৩২ রান করেন তিনি। এই ব্যাটারের বিদায়ে ক্রিজে নেমে রানের চাকা বাড়ানোর চেষ্টা করেন মোহাম্মাদ নাওয়াজ। ১৫ ওভারে দলীয় সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ১০১ রান। সে সময় ৩০ বলে তাদের জিততে আরও প্রয়োজন ৭০ রান।

ওভার প্রতি ১৪ রান। ধীরগতিতে ব্যাট করতে থাকা রিজওয়ান অপরাজিত ৪৭ (৪৫ বলে)। এই অবস্থায় দ্রুত রান তুলতে গিয়ে মোহাম্মাদ নাওয়াজ ফেরেন চামিকা করুনারত্নের বলে। ৬ রানে তিনি ফিরলে ক্রিজে নেমে রিজওয়ানকে সঙ্গ দেন খুশদিল। সেই ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি পুরণ করেন রিজওয়ান। তবে পরের ওভারেই হাসারাঙ্গার শিকার হন এই ব্যাটার। সে সময়েই পাকিস্তানের পরাজয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।

২৩ বলে জয়ের জন্য ৬১ রান প্রয়োজন হলে আসিফ আলী ও খুশদিল মিলে তা আর করতে পারেননি। সেই ওভারর প্রথম বলেই হাসারাঙ্গার গুগলিতে বোল্ড হন আসিফ। টানা দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একই বোলারদের বিপক্ষে প্রথম বলেই আউট হয়েছেন তিনি। এর দুই বল পরেই বিদায় নেন খুশদিল। এক ওভারে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার জয় সেই ওভারেই নিশ্চিত করে ফেলেন হাসারাঙ্গা। এরপরের ওভারে শাদাব খানকে বিদায় করেন মাহেশ থিকসানা।

তখনই শ্রীলঙ্কার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়, কারণ শেষ ১২ বলে জিততে পাকিস্তানকে নিতে হত ৫১ রান। ১৯তম ওভারে মাদুসান ফেরান নাসিম শাহকে। শেষ ওভারের শেষ বলে করুনারত্নের বলে বোল্ড হন হারিস। ২৩ রানের জয় পায় শ্রীলঙ্কা। ২০১৪ সালের পর আবারও এশিয়া কাপ জিতে নেয় দলটি। টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই কুশল মেন্ডিসকে হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। নাসিম শাহ’র ভেতরে আসা বলে স্টাম্প ভাঙ্গে এই ব্যাটারের।

তবে পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে রান তুলতে থাকেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা। যদিও আরেক ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা হারিস রউফের ওপর চড়াও হতে গিয়ে আউট হন। ৮ রানে তিনি ফিরলে ধানুশকা গুনাটথিকালাকেও বিদায় করেন এই পেসার। পাওয়ার প্লে’তে৩ ব্যাটারকে হারানো লঙ্কানদের আরও চাপে ফেলেন পার্ট টাইমার ইফতেখার। অষ্টম ওভারে তাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডি সিলভা। ২৮ রানে এই ব্যাটার ফিরলে ২ রানে অধিনায়ক শানাকাকে বোল্ড করেন শাদাব খান।

সে সময় লঙ্কানদের স্কোর ৫৮। কিন্তু এরপরই যেন বদলে যায় সব। ভানুকা রাজাপাকশাকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ করেন হাসারাঙ্গা। তাদের ব্যাটে ১৪তম ওভারের শুরুতেই দলীয় শতরান পুরন করে লঙ্কানরা। তাদের ঝড়ো ৫৮ রানের জুটিতেই বদলে যায় শ্রীলঙ্কার স্কোরকার্ড। ৩৬ করে রউফের তৃতীয় শিকার হয়ে হাসারাঙ্গা ফিরলেও রাজাপাকশে উইকেটে থিতু হয়ে খেলতে থাকেন।

শেষের দিকে বাজে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের বড় খেসারত দেয় পাকিস্তান। রাজাপাকশার জোড়া ক্যাচ মিসে ১৫০’র ঘরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ব্যাটার। শেষের দিকে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর আরও চড়াও হন এই ব্যাটার। তার ৪৫ বলে ৭১ রানের ইনিংসে ১৭০ রানের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।

You May Also Like