বাচ্চারা বেশি চকোলেট খেলে বাড়তে পারে জুভেনাইল ঝুঁকি..

আজকাল বাবা মায়ের মনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে জুভেনাইল ডায়াবিটিস। কী এই জুভেনাইল ডায়াবিটিস। ছোট বাচ্চারা বেশি বেশি চকোলেট খেলে জুভেনাইল ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কতটা বাড়তে পারে? জেনে নিন এর খুঁটিনাটি।

বাচ্চাদের চকোলেট খাওয়া

অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, বেশি চকোলেট খেলে কী বাচ্চারা জুভেনাইল ডায়বিটিজে আক্রান্ত হতে পারে?
জুভেনাইল ডায়বিটিজ সাধারণত একটি অটো ইমিউন রোগ, যা বাচ্চার জিনোমের ওপরও নির্ভর করে।

এই সময় জীবন যাপন ডেস্ক: সব বাচ্চাই চকোলেট খেতে ভালোবাসে। আপনার সন্তানও বাড়িতে বা বাইরে বেরোলেই চকোলেটের বায়না জুড়ে দেয় এবং আপনি তাদের সেই বায়না পুরোও করেন। অধিকাংশ মা-বাবাই ভাবেন যে চকোলেট বাচ্চাদের শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে। আবার সন্তান খুব বেশি চকোলেট খেলে মা-বাবা এই বলে শাসন করেন যে, দাঁত নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে স্বাস্থ্য সমস্যাটি উপেক্ষিত থেকে যায় তা হল মধুমেহ। ঠিকই ভাবছেন, ক্যান্ডি বা চকোলেট বেশি খেলে বাচ্চাদের মধ্যে জুভেনাইল ডায়বিটিজের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে অন্য রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।

তাই জুভেনাইল ডায়বিটিজের মতো রোগের হাত খেকে নিজের সন্তানকে রক্ষা করার জন্য তাদের চকোলেট খাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

জুভেনাইল ডায়বিটিজ কী?

মধুমেহ ২ ধরনের হয়, টাইপ ১ এবং টাইপ ২। টাইপ ২ ডায়বিটিজ আবার জীবনযাপন জনিত কারণে হয়ে থাকে। স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত জাঙ্কফুড খাওয়া এবং বেশি মিষ্টি খাওয়া এর অন্যতম কারণ।

তবে বংশানুক্রমিক কারণে হয় টাইপ ১ ডায়বিটিজ, একে মেডিক্যাল টার্মে জুভেনাইল ডায়বিটিজ বলা হয়। কিছু জিনের কারণে এই মধুমেহ দেখা দেয়। এই জিনের কারণে জন্ম থেকেই ডায়বিটিজের শিকার হয় বাচ্চারা। তবে কে এই ডায়বিটিজে আক্রান্ত হবে বা কে হবে না, তা আগে থেকে জানা যায় না এবং এখনও এর কোনও চিকিৎসাও নেই।

তবে এটি সংক্রামক নয়। কিন্তু জুভেনাইল ডায়বিটিজের শিকার বাচ্চাদের সারা জীবন অত্যন্ত যত্নে রাখতে হয় এবং তারা ইনসুলিনের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ে।

জুভেনাইল ডায়বিটিজের লক্ষণ

১. ক্লান্তি- শরীরে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাচ্চারা অত্যধিক ঘুম ও ক্লান্তি অনুভব করে থাকে।

২. খিদে বেড়ে যাওয়া- ইনসুলিন হরমোনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার কারণে বাচ্চাদের শক্তি স্তর কমে যায়। এর ফলে তাদের বার বার খিদে পায়।

৩. ওজন কমে যাওয়া- মধুমেহ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমতে শুরু করে। বা্চ্চাদের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

৪. বার বার প্রস্রাব- জুভেনাইল ডায়বিটিজে আক্রান্ত বাচ্চারা বার বার প্রস্রাব করে থাকে। শরীরে উপস্থিত প্রচুর পরিমাণে শর্করার কারণে এমন হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিছানা ভিজে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।

চকোলেট খেলে কী বাচ্চারা জুভেনাইল ডায়বিটিজের শিকার হয়?

এখন অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, বেশি চকোলেট খেলে কী বাচ্চারা জুভেনাইল ডায়বিটিজে আক্রান্ত হতে পারে? এর উত্তর ‘না’। জুভেনাইল ডায়বিটিজ সাধারণত একটি অটো ইমিউন রোগ, যা বাচ্চার জিনোমের ওপরও নির্ভর করে। চকোলেট খাওয়া বা না-খাওয়ার সঙ্গে এই রোগের কোনও সম্পর্ক নেই। তাই চকোলেট যে সম্পূর্ণ রূপে ক্ষতিকর তা মনে করার কোনও কারণও নেই।

চকোলেট খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে নানান ভাবে উপকারী হলেও, এর কারণে হয়ে থাকা স্বাস্থ্য সমস্যাকে উপেক্ষা করা যায় না। এ ক্ষেত্রে টাইপ ২ ডায়বিটিজের ঝুঁকিকে ফেলে দেওয়া যায় না। এ ছাড়াও অধিক চকোলেট খাওয়ার কারণে স্থূলতা, দাঁত নষ্ট হওয়া, দুর্বল পাচনতন্ত্রের মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

তবে মনে রাখবেন যে, চকোলেট খাবার ফলে যে সমস্ত লাভ আমরা পেয়ে থাকি, তা শুধু ডার্ক চকোলেট থেকে পাওয়া যায়। আপনার সন্তান যে সমস্ত চকোলেটের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, তাতে নামমাত্র কোকো থাকে। আবার সেই সমস্ত চকোলেটে উপস্থিত কৃত্রিম রঙ, স্বাদ ও প্রিজারভেটিভ বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তাই এই চাকচিক্যের ফাঁদে পা না-দিয়ে নিজের সন্তানের জন্য সঠিক জিনিসটি নির্বাচন করুন।

You May Also Like