বাংলাদেশ ক্রিকেট পাড়ায় আনন্দের বাতাস, আইসিসি থেকে সুখবর পেল বিসিবি

ক্রিকেটটা যেনো বাঙালির রক্তে মিশে আছে। ৯৭ থেকে ২০২২ নানা রকম উত্থান পতন, আনন্দ বেদনা, হাসি কান্না সব মিলিয়ে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মেলবন্ধনে হয়ে আছে দারুন এক উপাখ্যান। টাইগার ফ্যান দের কাছে ক্রিকেট একটা আশ্র‍য়, আনন্দের ভেলা ভাসিয়ে আর প্রত্যাশার বেলুন উড়িয়ে ভাবনার আকাশে যতদূর ইচ্ছা উড়া যায়।

কিন্তু বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা হিসেব কষলে দেখা যাবে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার ওজন টাই বেশি। আর তাই যেনো চরম হাহাকারের মাঝেও কিছু ভালো খবর আনন্দের বন্যাতে ভাসায় ক্রিকেট প্রেমিদের।

মাঠের পারফরম্যান্স কে আলাদা করে রাখলে সাংগঠনিক দক্ষতায় বরাবরই সফল বাংলাদেশ। একটা করে ওয়ানডে ও টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ, চার বার এশিয়া কাপ ও যুব বিশ্বকাপ আয়োজন করে আইসিসির প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। সেই সুত্র ধরেই আরেকটা ভালো খবর এসেছে ইংল্যান্ড এর বার্মিংহামে বসা আইসিসির বোর্ড মিটিং থেকে। ২০২৪ সালের নারীদের টি-২০ বিশ্বকাপ হবে বাংলাদেশে।

এশিয়ার সেরা দল বাংলাদেশের নারীরা, ঘরের মাঠের কাছ থেকেই ওদের বিশ্বকাপ খেলা উপভোগ করতে পারবে ফ্যানরা। এমন খবরে আনন্দের রেশ ছুয়ে যাচ্ছে নারী ক্রিকেটারদের ও.. এ প্রসংগে দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেছেন ” ওয়াল্ড কাপ খেলার সৌভাগ্য আসলে সকলের হয়না, যেটা আমরা হয়তো বা জানিনা কি হবে, বেচে থাকলে যদি সৌভাগ্য হয় খেলার, খেলার সু্যোগ পাইলে আমি মনে করবো এইটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া আমাদের জন্য। নিজের দেশের একটা এডভান্টেজ থাকে অনেক বড় এবং ট্রায়েড এর একটা সাপোর্ট থাকে আমার কাছে মনে হয় যেটা টিমকে বুস্টাপ করতে সাহায্য করে, অল ওভার দি ওয়াল্ড এটা অনেক বেশী ফোকাসড হবে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটকেও এটা অনেক বেশী ফোকাসড করবে।

আইসিসির আফটিপিতে ছেলের তুলনায় মেয়েদের খেলার সংখ্যা একেবারেই কম এখনো বাই লেটারার সিরিজ খেলার সু্যোগ হয়নি বাংলাদেশের মেয়েদের, তবে সামনে ব্যস্ততা বাড়বে ওদের. প্রথম বারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাবে নিউজিল্যান্ডে, আছে টি-২০ ওয়াল্ডকাপের কোয়ালিফাই। চলতি বছরেই ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ, তাই ঘরের মাঠে আগে ভাগেই ফিটনেস ক্যাম্প শুরু হয়ে গেছে সালমা, জাহানারা, জ্যোতিদের।

এই প্রসংগে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক জ্যোতি আরো বলেন-“যখন আমরা লম্বা ক্রিকেট খেলবো তখন আমাদের সবার এভিলিটিটা থাকা অনেক বেশী দরকার, যে আমরা প্লেয়ার গুলাকে এভেইলেবেল পাবো কিনা, ফিট হিসেবে পাবো কি না। সেজন্য কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি, আর রিসেন্টলি ক্যাম্পটা শুরু হচ্ছে আমার কাছে মনেহয় এন্ড অফ দি ক্যাম্প, ক্যাম্প যখন শেষ হবে প্লেয়াররা একটা ভালো ফিটনেস লেভেলে আসবে। সো এই প্লেয়ারগুলা কিন্তু আরো স্কিলের দিক থেকে আগায় যাবে এবং ডে বাই ডে আমরা এখন টি-২০ প্রিপারেশন টা বেশি নিচ্ছি যেহেতু টি-২০ কোয়ালিফায়ারটা আমাদের কাছে বেশি ইম্পোর্ট্যান্ট হয়ে দাড়িয়েছে , এরপরে এশিয়া কাপটাও বাংলাদেশ এ আসছে সো এটার উপর ব্যাসিস করে আমারা কাজ করে যাচ্ছি”

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও একটা জায়গায় ঘাটতি টা স্পষ্ট , লম্বা সময় হেড কোচ নেই মেয়েদের। ওদের ট্রেনিং চলছে স্থানীয় কোচদের অধীনে। একজন ভালো কোচের প্রত্যাশা জ্যোতির কন্ঠে। তিনি বলেন ” এখন যেটা আছে আমাদের কাছে এইটা নিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, যেটা নেই সেটা নিয়ে আফসোস করলে আরো বেশি পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই আমাদের যারা আছেন তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং তাদের সাথে আমাদের একটা ভালো বন্ডিং গড়ে উঠেছে, এছাড়াও আমাদের কমিনিকেশনের যে গ্যাপ থাকে ফরেইন কোচ দের সাথে সেটা কিন্তু এখন নেই, এবং টিমে অবশ্যই একটা ভালো কোচের প্রয়োজন আছে।

ইন্টারন্যাশনাল সার্কিটে এগিয়ে থাকতে বেশি বেশি ম্যাচ খেলার বিকল্প নেই । বিশেষ করে শর্ট আর ভার্সনে বাংলাদেশের পাওয়ার হিটিংয়ের দূর্বলতা চোখে পড়ার মতো। সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব বাড়ানোর আহবান জ্যোতির।

You May Also Like

About the Author: