বাটলার ঝড়ে উড়ে গেল টিম ইন্ডিয়া

মঙ্গলবার মোতেরায় কেরিয়ারের শততম আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ইংরেজ অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান। তার আগে কোনো ইংরেজ তারকা এমন কীর্তি গড়েননি। ঝড় তুললেন জস বাটলার।।আর সেই ঝড়ে কুপোকাত ভারতীয় বোলাররা। টার্গেট ছিল মাত্র ১৫৭ ।

বাটলারের ৫২ বলে ৮৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১.৪ ওভার বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নিল ইংল্যান্ড। ৮ উইকেট এবং ১০ বল বাকি থাকতে তৃতীয় টি২০ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে গেল ইংরেজরা। তার আগে মোতেরায় কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলে যান বিরাট কোহলি। ৪৬ বলে ৭৭ রানের মারকাটারি ইনিংসে নিজের জাত প্ৰমাণ করে গিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন কোহলি।

বিপদের দিনে টিম ইন্ডিয়ার ত্রাতা হওয়ার দিনে ১৬৭ স্ট্রাইক রেটে ৮টি বাউন্ডারি, চারটে ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যান। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে কোহলির ব্যাটে ভারত স্কোরবোর্ডে সম্মানজনক ১৫৬/৬ তুলেছিল। তবে কঠিন সময়ে মহাতারকার দুরন্ত ইনিংসের মর্যাদা দিতে পারলেন না বোলাররা। জস বাটলারের প্রহারের সামনে বোঝা গেল, এই স্কোরও কিস্যু নয়! নিজের ঝড় তোলা ইনিংসে বাটলার ৫টি বাউন্ডারির পাশাপাশি ৪টি ওভার বাউন্ডারিও হাঁকালেন।

সবথেকে নির্দয় ছিলেন চাহালের ওপর। পাওয়ার প্লে-তে ওয়াশিংটন সুন্দরের বদলে কোহলি নিয়ে এসেছিলেন যুজবেন্দ্র চাহালকে। তাঁকেই টার্গেট করলেন বাটলার। ৪ ওভারে খরচ করলেন ৪১ রান। জেসন রয়কে আউট করলেও চাহালের ছন্দই নষ্ট হয়ে যায়। পাওয়ার প্লে শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে আসেন কোহলি। তিনি ডেভিড মালানকে ফেরালেও বাকি ৭৭ রান তৃতীয় উইকেটে তুলে দেয় বাটলার-বেয়ারস্টো (২৮ বলে ৪০) জুটি।

যাইহোক, কেন কোহলিকে বতর্মান প্রজন্মের সেরা ক্রিকেটার বলা হয়, আরো একবার প্রমাণ করলেন বিরাট কোহলি। মোতেরার স্লো পিচে ইংল্যান্ড পেসারদের এক্সট্রা পেসে বাকি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যেখানে নাকানিচোবানি খেলেন, সেখানেই আলো জ্বালালেন কোহলি। টসে জিতে এদিন ভারতকে ব্যাটিং করতে পাঠিয়েছিলেন শততম আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে খেলতে নামা ইয়ন মর্গ্যান। আর ব্যাট করতে নেমেই ভারত ব্যাকফুটে চলে যায় পরপর উইকেট হারিয়ে।

প্রথম দুটি টি২০ ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন রোহিত শর্মা। ক্রিজে থিতু হওয়ার আগেই আউট হয়ে যান তিনি। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে ত্রাসের সঞ্চার করেন ফিট হয়ে ফিরে আসা মার্ক উড। শুরুতেই কেএল রাহুলের (০) স্ট্যাম্প ছিটকে দিয়েছিলেন। তারপরে ফেরত পাঠান রোহিতকেও (১৭ বলে ১৫)। এই নিয়ে পরপর তিনটে টি২০ ম্যাচে কেএল রাহুলের স্কোর দাঁড়াল ১, ০, ০ ।

৭/১, ২০/২ থেকে ভারত একসময় ২৪/৩ হয়ে গিয়েছিল। প্রথম ম্যাচেই ভেলকি দেখানো ঈশান কিষান জর্ডানের বলে হাঁকাতে গিয়ে টপ এজ লেগে উইকেটকিপার বাটলারের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন।

দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর কোহলি ঋষভ পন্থের সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করছিলেন। দুজনে স্কোরবোর্ডে ৪০ রান যোগও করে ফেলেন। তবে রান নেওয়ার সময় ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে আউট হয়ে যান পন্থ (২০ বলে ২৫)। এর পরে বেশিক্ষণ টেকেননি শ্রেয়স আইয়ারও (৯ বলে ৯)।

৮৬/৫ হয়ে যাওয়ার পরে ভারতের স্কোর ১২০ পেরোবে কিনা, তা নিয়েই সংশয় দেখা দেয়। তবে হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে তারপরেই ইনিংসের সেরা পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন কোহলি। ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেরোতে থাকেন তিনি। হার্দিক ব্যাট হাতে ধুঁকতে থাকলেও কোহলি সাবলীলভাবে হাঁকাতে থাকেন। আর্চার থেকে মার্ক উড কাউকে রেয়াত করেননি তিনি। শেষ পাঁচ ওভারে স্কোরবোর্ডে যোগ করে যান ৭০ রান

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment