মিরাজের হাত ধরে পঞ্চম উইকেটের দেখা টাইগারদের

কাইল মেয়ার্স ও জার্মেইন ব্লাকউডের জুটি বাড়াচ্ছিল টাইগারদের দুশ্চিন্তা। অবশেষে মেহেদী হাসান মিরাজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফিরে গেলেন ব্লাকউড। মিরাজের কুইকারে পরাস্ত ব্লাকউড লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। সেই সঙ্গে ভেঙ্গে গেল দুজনের ১১৬ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে ৪০ রান করেন তিনি।

এর আগে সেন্ট লুসিয়ায় ‘ড্যারেন সামি স্টেডিয়ামে’ কাইল মেয়ার্স ও জার্মেইন ব্লাকউডের জুটি ক্যারিবিয়দের প্রথম ইনিংসে লিড এনে দেয়। অর্ধশতকের দেখা পান কাইল মেয়ার্স। বাংলাদেশের করা ২৩৪ রান মাত্র চার উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় তারা।

এই রিপোর্ট লেখার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৫০। ৬১ রানে ব্যাট করছেন মেয়ার্স। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন নতুন ব্যাটার জশুয়া ডি সিলভা। ক্যারিবিয়দের লিড ১৬ রানের।

দ্রুত তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রীতিমতো চেপে ধরেছিল টাইগার বাহিনী। কিন্তু ব্যাটিং অলরাউন্ডার কাইল মেয়ার্স ও জার্মেইন ব্লাকউডের দৃঢ়তায় চাপ উতরে লিড নিয়েছে ক্যারিবিয়রা। তবে লিড নেওয়ার পর বেশিক্ষণ আর স্থায়ী হয়নি এই জুটি।

এর আগে খালেদ আহমেদ ও মিরাজের পরপর দুই ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১ উইকেটে ১৩১ থেকে ১৩২ রানে যেতেই স্কোর কার্ডে চার উইকেট নেই তাদের। উইকেট হারিয়ে তখন বিপর্যয়ের শঙ্কায় কাঁপছিল ক্যারিবিয়রা। কিন্তু এরপর কাইল মেয়ার্সের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও ব্লাকউডের দেখে খেলার নীতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা।

এদিন উদ্বোধনী জুটিতে ১০০ রান যোগ হওয়ার পর ৪৫ রান করে বিদায় নেন জন ক্যাম্পবেল। তাকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। দলীয় সংগ্রহ যখন ১৩১, স্বাগতিক শিবিরে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও খালেদ আহমেদ। ওপেনার ক্রেগ ব্রাথওয়েটকে সরাসরি বোল্ড করেন মেহেদী। ১০৭ বলে ৫১ রান করে ফিরে যান উইন্ডিজ ক্যাপ্টেন। খালেদের বলে রেইফার আউট হন ২২ রান করে। নিজের ১১তম ওভারের প্রথম বলে রেইফারকে ফেরান খালেদ। শেষ বলে তিনি শিকার করেন বোনারের উইকেট। শূন্য রানে ফিরে যান বোনার।

স্বাগতিক দলের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছিলেন শরিফুল ইসলাম। তারা দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ৬৭ রান নিয়ে। ৩২ রান নিয়ে জন ক্যাম্পবেল ও ৩০ রান নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ক্রেগ ব্রাথওয়েট। টাইগার পেসারের শর্ট খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে সোহানকে ক্যাচ দেন ক্যাম্পবেল। হাফসেঞ্চুরি থেকে ৫ রান দূরে থাকতে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

প্রথম দিন বল হাতে আধিপত্য দেখিয়েছিলেন উইন্ডিজের পেসাররা। টাইগারদের প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক দলের সাত বোলারের পাঁচজনই পান উইকেটের দেখা। দুই দফায় জীবন পাওয়ার পর টাইগার ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে সাজঘরে ফেরান অভিষিক্ত অ্যান্ডারসন ফিলিপ। জয়কে বোল্ড করে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙেন তিনি। টাইগার ওপেনার ৩১ বলে করেন ১০ রান। অন্যদিকে ৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল।

আলজারি জোসেফের বলে পয়েন্টে থাকা জারমেইন ব্লাকউডকে ক্যাচ দেন তামিম। ৬৭ বলে ৯ চারে ৪৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। দলীয় রান স্থির থাকতে আউট হন শান্ত। কাইল মায়ার্সের বলে তিনিও এলবিডব্লিউর ফাঁদে পা দেন। ফেরার আগে ৭৩ বলে করেন ২৬ রান। দলীয় ১০৫ রানে অ্যান্ডারসন ফিলিপের শিকারে পরিণত হন এনামুল হক বিজয়। ব্যাক্তিগত ২৩ রানে বিদায় নিতে হয় দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ডাক পাওয়া এ ব্যাটারকে। নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনজনই আউট হন দুই অংকে পৌঁছার আগেই।

এবাদত হোসেনকে নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি হাঁকিয়ে নেন লিটন। ততক্ষণ সাচ্ছন্দ্যেই খেলছিলেন এ উইকেটকিপার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও বিদায় নেন বাজে শটে ক্যাচ তুলে দিয়ে। আলজারি জোসেফের করা শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ধরা দেন মিড উইকেটে থাকা ব্রাথওয়েটের হাতে। ৭০ বল মোকাবিলায় ৫৩ রান করেন লিটন। তার ইনিংসটি ৮টি চারের মারে সাজানো ছিল। এরপর ক্রিজে এসে ক্যারিবীয় বোলারদের একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নাস্তানাবুদ করতে থাকেন শরিফুল ইসলাম। এবাদতের সঙ্গে গড়ে তোলেন ৩৬ রানের জুটি।

সিলসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে শরিফুলের ব্যাট থেকে ১৭ বলে আসে ২৬ রান। টেস্ট ক্রিকেটে এটিই তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এরপর ক্রিজে নেমে এবাদতকে অবশ্য সঙ্গ দিতে পারেননি খালেদ আহমেদ। ১ রান করেই তিনি শিকার সিলসের। আর তাতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ২৩৪ রানে।

x

You May Also Like