প্রথম টেস্ট হারের পর দুই পরবর্তন দ্বিতীয় টেস্টের জন্য বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

৩৫ রানের দূরত্ব ঘোচাতে খুব বেশি সময় নিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বোলাররা পারলেন না আর কোনো প্রভাব রাখতে। জন ক্যাম্পবেল ও জার্মেইন ব্ল্যাকউডের জুটিতেই ক্যারিবিয়ানরা ম্যাচ জিতে গেল অনায়াসে।

অ্যান্টিগা টেস্টে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ২ ম্যাচ সিরিজে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় আগের দিনই। চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল স্রেফ ৮৪ রান। সৈয়দ খালেদ আহমেদের তোপে রান তাড়ার শুরুতে ৩ উইকেট হারালেও এরপর আর কোনো হোঁচট খায়নি তারা। দিন শেষ করে ৩ উইকেটে ৪৯ রানে।

এরপর বাকি ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। রোববার চতুর্থ দিন সকালে ৭ ওভারে তা সেরে ফেলে ক্যারিবিয়ানরা।

অনিয়মিত স্পিনার নাজমুল হোসেন শান্তর ওভারে চার ও ছক্কা মেরে খেলা শেষ করে দেন জন ক্যাম্পবেল। বাঁহাতি ওপেনার অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। ব্ল্যাকউড জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন ২৬ রানে।

বছরের শুরুতে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর এই নিয়ে ৬ টেস্টের ৫টিই বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ, বাকি একটি হয়েছে ড্র। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৯ ম্যাচে ১ জয় নিয়ে পড়ে রইল তারা তলানিতেই।

১ম ইনিংসের ১০৩ রান এবং ২য় ইনিংসে ২৪৫ রানে বলার মতো রান কেবল করতে পেরেছেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। তাদের দুইজন পেয়েছেন ফিফটির দেখা।

অন্যদিকে টাইগার ব্যাটিং লাইনাপের এক সময়ের অন্যতম ভরসার প্রতীক মুমিনুল হক এবং নাজমুল হাসান শান্তের পারফরম্যান্স যাচ্ছে তাই।এবছর তারা দুইজন মিলে সমান ১৩ ইনিংসে ব্যাট করে মাত্র একটি ফিফটির দেখা পেয়েছেন।যা বাদ দিলে এইবছর খেলা প্রায় সব টেস্টেই দলকে ডুবিয়েছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। নাজমুল শান্ত ব্যাপারে এখন রীতিমতো বিরক্ত টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। কেননা তাকে গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার তিনের জন্য তৈরী করতে চাইছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে শান্ত সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে পুরপুরি।

গুরুত্বপূর্ণ তিন নাম্বার পজিশন তার পরিসংখ্যান টা এমন ১৬ ম্যাচ খেলে ২৮ ইনিংসে ২৮.২৫ গড়ে রান করেছে ৭৬৩।যেখানে ফিফটি মোটে একটা। তবে সব শেষ খেলা ৫ ইনিংসে শান্ত আউট হয়েছেন এক অংকের ঘরে।তাই তার এই ব্যর্থতার বোঝা আর টানতে চাইছে না টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। শান্ত লম্বা সময়ের জন্য দল থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে তাদের।তবে আপাতত সেন্ট লুসিয়া টেস্টে শান্তর পরিবর্তে দলে আসতে পারেন সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ সময় কাটানো মুসাদ্দেক হোসেন।

অন্যদিকে টাইগারদের সাবেক টেস্ট ক্যাপ্টেন মুমিনুল হকের অবস্থা আরো বেশি ভয়াবহ।তার খেলা সব শেষ ৯ ইনিংসেই এক অংকের ঘরে আউট হয়েছেন মুমিনুল।তাকেও ২য় ম্যাচে দলে রাখা নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট দুইভাগে বিভক্ত।টিম ম্যানেজমেন্টের এক পক্ষ থেকে তাকে রেস্ট দেওয়ার পক্ষে। তবে অন্য পক্ষ চাইছে তাকে আরেকবার সুযোগ দিতে।

তবে যদি শেষ টেস্ট মুমিনুল হকের খেলা না হয় তবে তার বদলে দলে আসতে পারেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা এনামুল হক বিজয়। এ সিরিজ দিয়েই অনেকদিন পর জাতীয় দলের সাথে যুক্ত হয়েছেন বিজয়।

একের পর এক হারে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে যে ক্ষত তৈরী হয়েছে এই পরিবর্তন গুলি হয়তো সেখানে মলমের মতো কাজ করবেন বলে মনে করেন সবাই। কিন্তু এই হারের বৃত্ত থেকে টাইগারদের বের করে আনতে হলে প্রয়োজন আরো বিস্তর প্লেন নিয়ে কাজ করা।

You May Also Like

About the Author: