বোলারদের প্রশংসায় ভাসালেও, ব্যাটারদের ধুয়ে দিলেন হেড কোচ

স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালে অ্যান্টিগা টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের চিত্র খুবই স্পষ্ট। দলকে ব্যাটসম্যানদের বাজে পারফরম্যান্সের মুখে পড়তে হয়েছে, বোলাররা চেষ্টা করেছেন দলকে লড়াইয়ে রাখতে। রাসেল ডমিঙ্গো বোলারদের পারফরম্যান্সে খুশি, ব্যাটসম্যানদের লুজ শটে ক্ষুব্ধ তিনি। বাংলাদেশ কোচের মতে, কিছু ব্যাটসম্যানের আত্মবিশ্বাস এখন কম।

টেস্টের প্রথম দিনে প্রথম সেশনে ৪৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে খাদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর সেখান থেকে আর উদ্ধার হয়নি দল। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়া দল কী আর ম্যাচে টিকতে পারে!

বোলাররা তবু চেষ্টা করেছেন। ক্রমশ সহজ হয়ে আসা উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস আটকে রেখেছেন তারা ২৬৫ রানে। ব্যাটিং মুখ থুবড়ে পড়েছে দ্বিতীয় ইনিংসেও। টপ ও মিডল অর্ডার ব্যর্থ এবারও, ১০৯ রানের মধ্যে পড়েছে ৬ উইকেট। এরপর সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান সোহানের ১২৩ রানের জুটিতে কিছুটা মুখ রক্ষা হয়। কবে শেষ ৪ উইকেট পড়ে যায় আবার ১৩ রানেই।

জয়ের জন্য শেষ ইনিংসে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৮৪ রান। এই পুঁজি নিয়েও বোলাররা লড়াই কম করেনি। সৈয়দ খালেদ আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে ৯ রানে ৩ উইকেট হারায় ক্যারিবিয়ানরা। পরে অবশ্য তারা দিন শেষ করে ৩ উইকেটে ৪৯ রানে। জয়ের জন্য চতুর্থ দিনে তাদের প্রয়োজন স্রেফ আর ৩৫ রান।

তৃতীয় দিন শেষে বিশ্লেষণে বাংলাদেশের কোচের কণ্ঠেও উঠে এলো ব্যাটিং নিয়ে হতাশা। প্রথম ইনিংসে ৬ জন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন শূন্য রানে। তামিম ইকবালের মতো অভিজ্ঞ ওপেনার দুই ইনিংসেই থিতু হওয়ার পর আউট হয়েছেন আলগা শটে। বড় ভরসা লিটন দাস দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন বাজে শট, একই ইনিংসে দেড়শ বল খেলার পর উইকেট বিলিয়ে এসেছেন তরুণ ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়।

টানা ব্যর্থতার চক্রে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হকের ব্যাট কথা বলেনি এই টেস্টেও। সব মিলিয়ে ব্যাটিংয়ে দল আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগেছ বলে মনে করেন রাসেল ডমিঙ্গো।

“(ব্যাটিং) মোটেও ভালো নয়, দুই ইনিংসেই। খুব বেশি আলগা আউট, ব্যাটিংয়ে বাজে সিদ্ধান্ত খুব বেশি। প্রথম ইনিংসে মোটে ১০৩ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৫ …এর বেশি করতেই হবে। এটাই মূল কথা, আলগা আউট অনেক বেশিই হয়ে গেছে।”

“ওদের সবার আত্মবিশ্বাস এখন তলানিতে। আমাদের কয়েকজন বড় ক্রিকেটার, মুমিনুল, শান্ত… ওদের কয়েকজনের আত্মবিশ্বাস এখন তলানিতে। ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস অনেক বড় ব্যাপার। এই মুহূর্তে ব্যাটিং লাইন আপের আত্মবিশ্বাস নেই খুব একটা।”

বোলিং দুই ইনিংসেই ছিল যথেষ্ট গোছানো। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৪ উইকেট, ইবাদত হোসেন ও খালেদ নেন দুটি করে। খালেদ দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনটি উইকেট নিয়ে ফেলেছেন। বোলারদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি দেখেন না কোচ।

“বোলাররা দুই ইনিংসেই অসাধারণ বল করেছে। প্রথম ইনিংসে যেভাবে বোলিং করেছে, এতটা ভালো কমই দেখেছি। এই পিচে ২৬০ রানে ওদেরকে আটকে রাখা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। বোলারদের পারফরম্যান্সে তাই আমি গর্বিত।”

You May Also Like

About the Author: