হঠাৎ করে শাকিবকে নিয়ে বোমা ফাটালেন ইমরুল কায়েছ

বাস্তবতা বলছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট জয় বাংলাদেশ দলের জন্য হবে খুবই কঠিন। তবে জয়ের ‘সহজ’ একটি পথ বাতলে দিলেন ইমরুল কায়েস। তার মতে, সাকিব আল হাসান দুই ইনিংসে ৫টি করে উইকেট নিলেই হয়ে যায়! জাতীয় দলের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য আছে তাইজুল ইসলামসহ দলের অন্য বোলারদেরও।

অ্যান্টিগা টেস্ট দিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সেই ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দ্বিতীয় সারির দলকে দুই টেস্টে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সফরে চার টেস্টে হেরে ফিরতে হয়েছে বাজেভাবে। গত বছর খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বাংলাদেশে এসে জিতে গেছে দুই টেস্টেই। সেই দলকে তাদের মাঠে হারানো বড় চ্যালেঞ্জ। মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইমরুল বললেন, হার এড়াতে পারলেও ভালো ফল হবে দলের জন্য।

“ওয়েস্ট ইন্ডিজে সবশেষ সফরে আমরা ভালো খেলিনি। এবার পেস আক্রমণ, স্পিন আক্রমণ মিলিয়ে ভালো একটা দল গেছে। আমি আশা করি, আমরা যেন ম্যাচ না হারি। জিততে না পারলেও অন্তত যেন ড্র করতে পারি। আশা করি ভালো কিছু হবে।” ভাবনার আকাশে আরও উঁচুতে ঘুড়ি উড়িয়ে ইমরুল জয়ের আশাও করতে পারছেন বটে। তার মতে সেজন্য ভালো করতে হবে সাকিব ও বোলারদের।

“সাকিব যদি ৫ আর ৫, ১০ উইকেট নিয়ে নেয়, তাহলে তো আর কঠিন নয় (জয়)। কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়… বা ওখানে তাইজুল আছে বা যারাই আছে, সবারই সামর্থ্য আছে ১০ উইকেট নেওয়ার বা এরকম করার। আমার কাছে মনে হয় রোমাঞ্চকর ম্যাচ হবে।”

ইমরুল নিজে জাতীয় দলের বাইরে আছেন আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে। সবশেষ ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারত সফরে দুই টেস্ট খেলে তার রান ছিল ৬, ৬, ৪ ও ৫। সবশেষ ২৬ টেস্ট ইনিংসে তার নেই ফিফটি। তাই জায়গা হারিয়েছেন দল। ক্রমশ সরে গেছেন জাতীয় দল থেকে দূরে তবে যে দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি খেলেছেন ১৩১ ম্যাচ, সেই দলে না থাকাটা তাকে পোড়ায় বলেই জানালেন। “জাতীয় দল অনেক মিস করি, অনেক। আসলে প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে জাতীয় দলে খেলি না। খেলা দেখতে… যখন খেলা হয়, জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলে, অনেক মিস করি জায়গাটা।”

জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ফেরার মতো কিছু তিনি এখনও করতে পারেননি। সবশেষ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৫ ইনিংস খেলে ফিফটি তার মোটে একটি। মোট ৩২৩ রান করেছেন মাত্র ২৩.১৩ গড়ে। বিপিএলে তার নেতৃত্বে কুমিল্লা শিরোপা জিতলেও তার নিজের পারফরম্যান্স ছিল না বলার মতো। এরপর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তার নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। এখানে অবশ্য খুব ভালো না হলেও তার পারফরম্যান্স ছিল মোটামুটি, ১৫ ইনিংসে ৩৯.৪৬ গড়ে করেন ৫১৩ রান।

নিজেকে শানিত করার একটি পথ অবশ্য তাকে করে দিয়েছেন নির্বাচকরা। এবার তাকে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ টাইগার্স ক্যাম্পে, যেখানে নিজের ঘাটতির জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন নিবিড়ভাবে। ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বললেন, ফেরার তাড়না তার আছে প্রবলভাবেই। “নিজের ফেরার ইচ্ছা আছে বলেই তো বাংলাদেশ টাইগার্সের ক্যাম্পে জয়েন করেছি। নইলে তো বাসায় বাসে থাকতাম বা অন্য জায়গায় চলে যেতাম। ইচ্ছা আছে বিধায় চেষ্টা করে যাচ্ছি

You May Also Like

About the Author: