মাত্র পাওয়াঃ চার নম্বরে খেলা নিয়ে যা বললেন তামিম

হুট করে তামিম ইকবালের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে আলোচনার ঝড় বয়ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স চাচ্ছেন, তামিমকে মিডল অর্ডারে, চার নম্বরে ব্যাটিং করাতে। মূলতঃ ওপেনিংয়ে অন্য কাউকে ফিট করতেই ব্যাটিং কোচের মাথায় এই চিন্তার উদয় ঘটেছে। তবে, জেমি সিডন্সের এই চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কী বলছেন তামিম ইকবাল? তিনি কিভাবে দেখছেন বিষয়টা?

বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকাকে সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন তামিম ইকবাল। তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, দূরতম ভবিষ্যতেও এমন কোনো ভাবনা তার মধ্যে কাজ করছে না। মিডল অর্ডারে ব্যাট করার কোনো ইচ্ছাই তার মধ্যে নেই।

বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘তামিমকে চারে নামাতে হলে আরেকজন ভালো ওপেনার লাগবে। আমার মনে হয়, চার নম্বরে সে (তামিম) দারুণ হবে।’

জেমি সিডন্সের কাছ থেকে এমন কথা শোনার পর যারপরনাই অবাক তামিম। আজকের যে তামিম তারকাখ্যাতি পেয়ে এতটা উঠে এসেছেন, তার পেছনে জেমি সিডন্সের অবশ্যই অবদান রয়েছে।

তামিম-সাকিবরা যখন তারকা হয়ে উঠছিলেন, তখনই প্রধান কোচ হিসেবে জেমিকে পেয়েছিলেন তারা। জেমির সমর্থন এবং সহযোগিতায় বিশ্ব তারকায় পরিণত হয়েছেন তারা। বর্তমানে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করা সিডন্সের সঙ্গে এখনও সম্পর্ক অটুট তামিম-সাকিবদের।

সেই জেমিই এখন বলছেন, তামিমকে চারে নামানোর কথা। কিন্তু ব্যাটিং কোচের এমন ইচ্ছার কথা শোনার পর তামিম বলেন, ‘মিডল অর্ডারে ব্যাট করা নিয়ে কখনো ভাবিনি, এখনো ভাবছি না। আমার সেরকম কোনো ইচ্ছাও নেই।’

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই যে কোনো পর্যায়ে, যে কোনো ফরম্যাটে- ইনিংস ওপেন করেছেন তামিম। একবার ভিন্ন আর কখনো অন্য কোনো পজিশনে তিনি ব্যাট করেননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ৪২৯ বার ব্যাট হাতে নেমেছেন। এর মধ্যে ৪৩৮ বারই ইনিংসের সূচনা করেছেন তামিম। একবার, ২০১৭ সালে পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংসে মিডল অর্ডারে নেমেছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তবে সেটি স্বাগতিক দলের প্রথম ইনিংসে চোট পাওয়ার কারণে।

তামিম বলেন, ‘জীবনে একবারই মিডল অর্ডারে খেলেছিলাম। সেবার পাঁচ নম্বরে নামতে হয়েছিল চোটের কারণে। ৩৯ রান করেছিলাম সম্ভবত।’

জেমি সিডন্সের সঙ্গে এ বিষয়টা নিয়ে আলাপই হয়নি জানিয়ে তামিম বলেন, ‘এটা নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা হয়নি।’ ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন নিয়ে যদি কিছু বলেও থাকেন, সেটি ড্রেসিংরুমের আড্ডায় হয়তো বলে থাকতে পারে। ‘ড্রেসিংরুমে আমরা অনেক রকম মজা করি। লম্বা সময় ফিল্ডিংয়ের পর ওপেনারদের নামতে হয়। তখন হয়তো মজা করে কাউকে বলে থাকতে পারি যে, ইস! যদি পরে ব্যাট করতাম, তাহলে রেস্ট পাওয়া যেত। এটা স্রেফ মজা করে বলা, সিরিয়াস কিছু না।’

You May Also Like

About the Author: