বৃষ্টিবিঘ্নিত ৩য় দিনে দুই দলের পারফর্মেন্স সমানে সমান

আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছিল বৃষ্টির ভালো প্রভাব পড়তে পারে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ২-৩ দিনই ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। যদিও কোনো ঝামেলা ছাড়াই ১ম টেস্ট শেষ হয়েছিল সাগরিকায়। তবে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনই শঙ্কা রূপ নেয় বাস্তবে। দিনের এক সেশনের বেশি সময় বল গড়ায়নি মাঠে। যতক্ষণ খেলা হয়েছে ততক্ষণে অবশ্য দুই দল সমানে সমান অবস্থায়।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৬৫ রানের জবাবে ৫ উইকেটে ২৮২ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা। আগেরদিন ফিফটি হাঁকান ওশাদা ফার্নান্দো ও দিমুথ করুনারত্নে। করুনারত্নে সেঞ্চুরির পথে হেঁটেও অবশ্য আক্ষেপে পুড়েছেন (৮০)। আজ ফিফটি তুলে নেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুস।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে সফল সাকিব আল হাসান। তার তৃতীয় শিকার হয়ে ধনঞ্জয়া ফেরেন ৫৮ রানে, তবে ম্যাথুস অপরাজিত আছেন ৫৮ রান করে। তাকে সঙ্গ দেওয়া চন্দিমাল অপরাজিত ১০ রানে। এখনো ৮৩ রানে পিছিয়ে আছে সফরকারীরা।

২ উইকেটে ১৪৩ রান নিয়ে দিন শুরু করে শ্রীলঙ্কা। ৭০ রানে দিমুথ করুনারত্নে ও কোন রান না করে অপরাজিত ছিলেন নাইটওয়াচম্যান কাসুন রাজিথা।

দিনের দ্বিতীয় বলেই দারুণ এক ডেলিভারিতে রাজিথাকে বোল্ড করে ফেরান এবাদত হোসেন। এরপর আগের টেস্টে ১৯৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুসকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা করুনারত্নের।

তবে দিনের ১০ম ওভারেই সাকিবের অসাধারণ ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে শেষ মুহূর্তে বোকা বনে বোল্ড হন করুনারত্নে। তার আগে নামের পাশে ১৫৫ বলে ৯ চারে ৮০ রান। ২১ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে ৪ উইকেটে ১৬৪ রানে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা।

সেখান থেকে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও ম্যাথুস খেলছিলেন সাবলীলভাবে। নিজের মোকাবেলা করা দ্বিতীয় বলেই এবাদতকে চার মেরে শুরু ধনঞ্জয়ার। নিয়মিত বিরতিতেই দুজনের ব্যাট থেকে আসছিল বাউন্ডারি।

ইনিংসের ৭০তম ওভারে এবাদতকে হাঁকান ৩ চার। লাঞ্চের আগের ওভারের প্রথম বল শেষ হতেই নামে বৃষ্টি। ততক্ষণে ৪ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ২১০ রান। ধনঞ্জয়া ৩০ ও ম্যাথুস ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ঝুম বৃষ্টিতে লাঞ্চের পর পুরো সেশনই নষ্ট হয়। চা বিরতির পরও শুরু করা যায়নি খেলা। শেষ পর্যন্ত বিকেল চারটায় শেষ সেশনেরও এক ঘন্টা নষ্ট করে তবেই মাঠে গড়ায় বল।

৪ ঘন্টা বিরতি দিয়ে খেলা শুরু হতেই যেন বাংলাদেশ বোলাররা তেঁতে ওঠে। পেসার এবাদতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সাথে তাইজুল-সাকিবের স্পিন ঘূর্ণি। তবে সেসব সামলেই ম্যাথুস ও ধনঞ্জয়া দলকে টেনে নেন।

ইনিংসের ৮১তম ওভারে দ্বিতীয় নতুন বল নেয় বাংলাদেশ। তবে প্রত্যাশিত সুবিধা নিতে পারেননি খালেদ, বরং ওভারের শেষ দুই বলে হজম করেন বাউন্ডারি। ৮৮তম ওভারে সাকিবকে ছক্কা মেরে শুরু ম্যাথুসের। ঐ ওভারেই ফেরেন ধনঞ্জয়া।

ওভারের পঞ্চম বলে অফ স্টাম্প থেকে বেরিয়ে যাওয়া বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেট রক্ষক লিটন দাসের গ্লাভস বন্দী হয়। আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার, রিভিউ নিয়ে সফল বাংলাদেশ। তার আগেই ফিফটির দেখা পান এই অলরাউন্ডার, ৯৫ বলে ৯ চারে সাজান ৫৮ রানের ইনিংসটি। আর তাতে ভাঙে ম্যাথুসের সাথে ১০২ রানের জুটি।

পরে ফিফটির দেখা পান ম্যাথুসও, দীনেশ চান্দিমালকে নিয়ে কাটান দিনের বাকি সময়। দিন শেষে ১৫৩ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৫৮ রানে অপরাজিত ম্যাথুস, চান্দিমাল ২৯ বলে ১০ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৩য় দিন শেষে):

বাংলাদেশ ৩৬৫/১০ (১১৬.২), জয় ০, তামিম ০, শান্ত ৮, মুমিনুল ৯, মুশফিক ১৭৫*, সাকিব ০, লিটন ১৪১, মোসাদ্দেক ০, তাইজুল ১৫, খালেদ ০, এবাদত ০; রাজিথা ২৮.২-৭-৬৪-৫, আসিথা ২৬-৩-৯৩-৪

শ্রীলঙ্কা ২৮২/৫ (৯৭), ওশাদা ৫৭, করুনারত্নে ৮০, মেন্ডিস ১১, রাজিথা ০, ম্যাথুস ৫৮*, ধনঞ্জয়া ৫৮, চান্দিমাল ১০*; এবাদত ২৬-৪-৭৮-২, সাকিব ২৬-৯-৫৯-৩

শ্রীলঙ্কা ৮৩ রানে পিছিয়ে।

You May Also Like

About the Author: