সকালে আমি যখন অনুশীলন করি, আপনারা তখন ঘুমে থাকেন : মুশফিক

ধর্মে যারা বিশ্বাস করেন, তারা ভাগ্যে বিশ্বাস করেন। সৃষ্টিকর্তার আনুগত্যে ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়- এটাও মানেন ধার্মিকরা। মুশফিকুর রহিম একাধিকবার বলেছেন- তার সামর্থ্য কম কিন্তু চেষ্টা আর অধ্যবসায় তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। আরও একটি বিষয় বেশ সহায়তা করেছে মুশফিককে- আর তা হল বিশ্বাস। চট্টগ্রাম টেস্টে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে মুশফিক নতুন করে জানালেন- ধর্মকে কতটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তিনি, আর এই বিশ্বাস কীভাবে এনে দিয়েছে তার সাফল্য।

টেস্টে বাংলাদেশের অনেক ‘প্রথম’ কীর্তির সাথে জড়িয়ে আছে মুশফিকুর রহিমের নাম। এমনকি তামিম ইকবালের যখন ৫ হাজার রান ছুঁইছুঁই, তখন তাকে অতিক্রম করে মুশফিকই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসেও নিয়মিত খেলছেন তিন ফরম্যাটে। ভাগ্যটাও কি নিয়ম করে সাথে থাকে মুশফিকের?

সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মুশফিক মাথার ক্যাপ সরিয়ে আঙুল দিয়ে কপাল নির্দেশ করলেন, তারপর বললেন, ‘ভাগ্যের যে ব্যাপারটা বলছেন… এই যে কপালটা দেখছেন… হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল; নি’মাল মাওলা ওয়া নি’মান নাছির। আমি যখন সকালে উঠে অনুশীলন করি তখন আপনাদের অনেকেই ঘুমিয়ে থাকেন। তো আল্লাহর রহমতে… কিছুটা হলেও তো আল্লাহ দেখেন!’

টেস্টে ২ বছর আর ১৮ ইনিংস পর পাওয়া শতকের পর মুশফিকের উদযাপনটা ছিল চোখে পড়ার মত। সচরাচর এত উদযাপন করতে দেখা যায় না সিনিয়র ক্যাম্পেইনারদের। এ নিয়ে মুশফিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এত কষ্ট করে একশ করলাম, উদযাপন তো হওয়া উচিৎ তাই না? আর কিছু না।’

টেস্টে বাংলাদেশের নানা ‘প্রথম’ এর সাথে জড়িয়ে মুশফিকের নাম। যদিও টেস্টে মুশফিকের শুরুটা এত সুখকর ছিল না। ২০০৫ সালে যখন অভিষেক হয়, মুশফিক তখনও কিশোর। এরপর পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ পথ। অভিষেক টেস্টের পর মুশফিকের লক্ষ্য ছিল, যে করেই হোক পরের টেস্টে একাদশে জায়গা পেতে হবে!

মুশফিক বলেন, ‘সত্যি বলতে অভিষেক টেস্টে লক্ষ্য ছিল কীভাবে পরের টেস্টটা খেলতে পারব। কারণ অভিষেক টেস্ট এত ভালো যায়নি। তিন ফরম্যাটের মধ্যে আমার কাছে টেস্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিকে ব্যাটার হিসেবে খেলেছি। মাঝখানে কিপার ব্যাটার ছিলাম। টেস্ট সবসময় অন্যরকম প্রাধান্য পায়। যতদিন টেস্ট খেলতে পারি, বড় অর্জন করতে পারি এমন ইচ্ছা ছিল। আরও ভালো হতে পারত। তবে যে জায়গায় আছি, আমি খুশি।’

You May Also Like

About the Author: