গর্জন দিয়েই অপমানের জবাব দিলেন মুশফিক!

ঢাকা: একের পর এক ম্যাচে ব্যর্থ হচ্ছিলেন রান মেশিন খ্যাত মুশফিক। এর উপর আবার নিজের পছন্দের শট রিভার সুইপ খেলতে গিয়ে বারবার আউট হচ্ছিলেন। এ নিয়ে অনেক সমালোচনাও শুনতে হয়েছে।

অবশেষে ঠিকঠাকভাবে মুশফিক খুঁজে পেলেন বলের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা। বুঝেশুনে খেলে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন বাংলাদেশের লিটল মাস্টার। আর এই সেঞ্চুরি দিয়েই ফর্মে ফিরলেন মুশফিকমুশফিককে নিয়ে খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজের সিদ্ধান্ত এবার নিজেকেই নিতে হবে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানকে। কী সেই সিদ্ধান্ত? সে নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি।

পাপন তখন বলেছিলেন, সিনিয়ররা যদি নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নেন। তাহলে সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড। পাপনের ওই কথার ইঙ্গিতে মুশফিককে নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। মুশফিকও আর সহ্য করতে পারলেন না। এই আলোচনা যেন তাকে আরো তাতিয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রাম টেস্টে স্বস্তির সেঞ্চুরির পর মুশফিক যে গর্জন দিলেন। সেই গর্জনেই যেন সব কিছুর জবাব দিলেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

মুশফিকের শম্ভুকগতির এই সেঞ্চুরি এসেছে ২৭০ বলে। ইনিংসের ১৫৩তম ওভারে অসিথা ফার্নান্দোকে চার মেরে অঙ্কের মাইলফলক স্পর্শ করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত এই ব্যাটসম্যান। ১২৫ বলে অর্ধশতক করা মুশফিক পরের পঞ্চাশ করতে খেলেছেন ১৪৫ বল। ৭৫ থেকে ১০০ রানের কোটা ছুতে অর্থাৎ এই ২৫ রান করতে ৭৫ বল খেলেছেন।

তার এই ইনিংসে চার ৪টি, কোনো ছয় নেই। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি এখন মুশফিকের। অন্য ফরম্যাটের মতো টেস্টেও ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছে মুশফিকের ব্যাট।

শেষ ৯ ইনিংসে অর্ধশতক মাত্র ১টি। শেষবার সেঞ্চুরি পেয়েছেন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। দীর্ঘ প্রায় ২৭ মাস পর আবার শতকের দেখা পেলেন তিনি। এই দুই সেঞ্চুরির মাঝে কেটে গেছে ১৮ ইনিংস আর ১০ ম্যাচ।মুশফিকুর রহিম গড়নে বেশ ছোটখাটো, কিন্তু এই ছোটখাটো গড়নের ভেতরে অমিত ধৈর্য, জিদ ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে যে ‘অতিমানব’ লুকিয়ে, তা কিন্তু ঠিকই টের পাওয়া যায় বাইশ গজে তিনি ব্যাট করতে নামলে।

সেঞ্চুরির পথে দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন মুশফিক। এভারেস্টের মতো এটাও তো একরকম উচ্চতাই, হয়তো ‘সাগরমাথা’র মতো অতটা উঁচু নয় এই মাইলফলক, কিন্তু যে চূড়ায় দেশের আর কোনো ক্রিকেটার পৌঁছাতে পারেননি, সেখানে পৌঁছাতে পারাটাই তো হিরণ্ময় সাফল্য। আর মুশফিক যোগ্যতর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাইলফলকটির দেখা পেলেন।

ক্যারিয়ারের ৮১তম টেস্টে এসে ১৪৯তম ইনিংসে ৫ হাজার রানের মাইলফলকের দেখা পেলেন মুশফিক। এছাড়া আরো তিনটি অর্ধশতক ছিল তার।

টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৬ বছর ১১ মাস ২৩ দিনে এসে ৫ হাজার রানের দেখা পেলেন মুশফিক। অর্থাৎ, যেসব কিংবদন্তি দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার রানের দেখা পেয়েছেন, স্যার জ্যাক হবস ছাড়া বাকি সবার চেয়ে বেশি সময় (বছর) লাগল মুশফিকের।
ইনিংসের হিসেবে অবশ্য মুশফিকের মতো দেরি হয়নি আর কারও। তবু ওই যে দেশের হয়ে প্রথম কিছু করার আনন্দ ও গৌরবের তো তুলনা হয় না।

You May Also Like

About the Author: