সমকামী সমর্থনে অস্বীকৃতি, তাই পিএসজি থেকে বাদ মেসি-সতীর্থ!

টানা তিন ড্রয়ের পর গত রোববার রাতে লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ৪-০ গোলে মঁপেলিয়েকে উড়িয়ে দিয়ে জয়ে ফিরেছে পিএসজি। সেই ম্যাচটা বিশেষ ছিল আরেক কারণে। সেই ম্যাচে পিএসজি নেমেছিল বিশেষ এক জার্সি পরে, যেখানে মেসি-এমবাপেদের জার্সির ফন্টের রঙ গিয়েছিল বদলে।

সাধারণত সাদা রঙে নাম আর জার্সি নম্বর লেখা হলেও সেই ম্যাচে হরফগুলো বদলে গিয়েছিল সাত রঙে, যা মূলত সমকামী, উভকামী, ও রূপান্তরকামীদের (এলজিবিটি) সমর্থনে করা হয়েছিল। সেই সমর্থনটাই করতে চাননি মেসিদের সতীর্থ ইদ্রিসা গানা গেই। যার ফলে ফরাসি দলটির স্কোয়াড থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে, জানাচ্ছে ফরাসি সংবাদ মাধ্যম।

সাবেক এভারটন মিডফিল্ডার গেই পিএসজির সঙ্গে দক্ষিণ ফ্রান্সের শহর মঁপেলিয়ে পর্যন্ত গিয়েছেন বটে, তবে ম্যাচের স্কোয়াড প্রকাশ করতেই দেখা গেল গেই নেই তাতে। তাতেই ওঠে গুঞ্জন। এরপর যার মাত্রা আরও বাড়ে কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর কথাতে। আর্জেন্টাইন এই কোচ জানান, ‘তাকে ব্যক্তিগত কারণে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। তবে সে চোট পায়নি।’

গেই’র এভাবে হঠাৎ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়াটা প্রশ্ন তুলেছে বেশ। ফরাসি সংবাদ মাধ্যম আরএমসি স্পোর্ত জানাচ্ছে, এই ‘ব্যক্তিগত কারণ’টা মূলত সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামীদের সমর্থনে রংধনু রঙা জার্সি পরতে অস্বীকৃতি। ১৭ মে এলজিবিটি ফোবিয়া বিরোধী দিবসকে সামনে রেখে ফরাসি লিগে গত রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে সব দলের ফন্টেই এসেছিল এই পরিবর্তন।

গেল মৌসুমেও ১৭ মে’র সব ম্যাচে খেলোয়াড়দের নাম আর জার্সি নম্বর লেখা হয়েছিল রংধনু রঙে। উল্লেখ্য, গেল মৌসুমে এই ম্যাচে পিএসজি খেলেছিল রেঁসের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেও দলে ছিলেন না গেই। লে’কিপে ও ল্য পারিসিয়েন অবশ্য জানিয়েছিল, ‘পেটের সমস্যার’ কারণে তিনি খেলেননি সেই ম্যাচ। তবে এবার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে গুঞ্জন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ফরাসি সংবাদ মাধ্যমে।

গেল ম্যাচে না খেলার ফলে সৃষ্ট এই গুঞ্জন অবশ্য গেই’র প্রতিনিধিরা অস্বীকার করেছেন। তবে এরপর থেকে এই পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেননি সেনেগালিজ ইসলাম ধর্মালম্বী এই মিডফিল্ডার।

উল্লেখ্য, আফ্রিকান এই ফুটবলার ব্যক্তিগত জীবনে ইসলাম ধর্মাবলম্বী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে নানা পোস্টও দিয়ে থাকেন তিনি। বেশ কিছু ইসলামিক দেশে সমকামিতা, উভকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, কিছু কিছু জায়গায় মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়। আর গেই’র দেশ সেনেগালে অবশ্য বিষয়টি অত বড় ‘অপরাধ’ নয়, তবে প্রমাণিত হলে ৫ বছরের কারাদণ্ডে ভোগ করতে হয়।

You May Also Like

About the Author: