তাহলে কি ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরতে থাকা রিয়াদের কপাল পুরতে যাচ্ছে!

বিগত বেশ কিছু সময় ধরেই অফ ফর্মে রয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অফ ফর্ম বলতে শুধু ব্যাট হাতে নয় ফিল্ডিং, ফিটনেস এবং তার ক্যাপ্টেন্সির পারফরম্যান্সও খুব একটা ভালো হচ্ছে না।মোটামুটি দেড় বছর ধরে সব ফরম্যাটের ক্রিকেটেই অফ ফর্মে রয়েছেন এ ব্যাটসম্যান। আফগানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও যা প্রকট ভাবে ফুটে উঠেছে।৩৫ ওভার শেষে ১৯৫ রানে ২ উইকেট ছিল বাংলাদেশের স্কোর। সেখান থেকে যেকোনো বড়দল ৩৫০ রান অনায়াসেই করবে। এ অবস্থান থেকে কোনভাবেই ৩৩০ এর নিচে স্কোর চিন্তা করা যৌক্তিক নয়।

তবে ৫০ ওভার শেষে টাইগারদের স্কোর ছিল ৩০৭। পরপর দুই বলে লিটন-মুশফিক আউট হয়ে যাওয়াতে ক্রিজে নতুন দুই ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ এবং আফিফ আসে। ফলে রানের গতিতে কিছুটা ভাটা পড়বে তাই স্বাভাবিক তবে তাই বলে শেষ চার ওভারে মাত্র ২২ রান কিভাবে হয়। এ পরিস্থিতিতে আফিফের ১২ বলে ১৩ এবং মাহমুদুল্লাহ মতো সিনিয়র একজন ক্রিকেটারের নয় বলে ছয় রান খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে। হিসেব করলে দেখা যাবে বিগত দেড় বছর ধরেই সব ফরম্যাট মিলিয়ে রান খরায় রয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে ১৫০ রান কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাটিতে একটি হাফ সেঞ্চুরি এ ধরনের খণ্ড-খণ্ড কিছু ইনিংস ছাড়া বিগত ১.৫ বছরে বলার মত কিছুই করতে পারেনি রিয়াদ। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের মতোই রিয়াদ ছিলেন চরম রকমের ব্যর্থ। কোনো ম্যাচে বড় রান করা তো দূরের কথা সেই ইম্প্যাক্টটাই দেখাতে পারেননি রিয়াদ। এমনকি বেশকিছু ম্যাচে তার ব্যাটিং দেখে অনেক বেশি নার্ভাস মনে হচ্ছিল। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বিগত বছর ব্যাটে-বলে কানেক্ট করতেই সংগ্রাম করতে হয়েছে রিয়াদের। অধিকাংশ ম্যাচেই তিনি বড় শট খেলার চেষ্টা করেছিলেন তবে ব্যাটে-বলে সংযোগটাই হচ্ছিল না। ১৫ বছর ধরে দেশকে সার্ভিস দিয়েছেন বয়সটা এখন ৩৬ এর কাটায়।

তাহলে কি বয়সই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে রিয়াদের জন্য। এছাড়াও বেশ কিছু সময় ধরেই পিঠের ইনজুরিতে ভুগছেন রিয়াদ। এমনকি আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দুটিতেই পুরো ৫০ ওভার মাঠে ছিলেন না রিয়াদ। পিঠের ইনজুরির কারণেই সম্ভবত পুরো ম্যাচ ফিল্ডিং করছেন না রিয়াদ। তাছাড়া এই সিরিজেও দুটি ক্যাচ ড্রপ করেছেন রিয়াদ। রিয়াদের ক্যাচ মিস করা অবশ্য নতুন কিছু নয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বিগত নিউজিল্যান্ড সফর এবং এছাড়াও কয়েকটি ম্যাচে ক্যাচ মিস করতে দেখা গিয়েছে রিয়াদকে। পরে অবশ্য একাধিক ভালো ক্যাচ ঠিকই ধরেছেন।

তবে এ পর্যায়ের ক্রিকেটে ক্যাচ ধরাকে সাফল্য মনে করা হয় না বরং ক্যাচ মিস করাকে ব্যর্থতা মনে করা হয়। এ পর্যায়ের একটি ক্রিকেটারের কাছে নিশ্চয়ই মোটামুটি সবগুলো ক্যাচ ধরার আশা করা যেতেই পারে। তবে ফিল্ডিংয়ে কিংবা ব্যাটিংয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশার বিন্দুমাত্রও দিতে পারছেন না রিয়াদ। কাল থেকে আফগানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করবে টাইগাররা। নিঃসন্দেহে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাইবে মাহমুদুল্লাহ। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরতে থাকা মাহমুদুল্লাহর জন্য নির্দ্বিধায় কঠিনই হবে কাজটি।

You May Also Like