সাকিবের মতো মোস্তাফিজও ছুটি নিতে পারেন

নিউজিল্যান্ড সফর থেকে আগেই ছুটি নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য এ ছুটি নেন তিনি।

এর মধ্যে আসন্ন এপ্রিলে শ্রীলংকা সফর রয়েছে বাংলাদেশ দলের। একই সময়ে হতে যাচ্ছে ভারতের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আইপিএল।

শ্রীলংকা সফর বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সফরে না গিয়ে সাকিব আল হাসান যাচ্ছে আইপিএল খেলতে। ফলে দেশের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সফরে না গিয়ে অর্থের মোহে পড়ে আইপিএল খেলতে যাচ্ছেন বলে সমালোচনায় পড়তে হচ্ছে সাকিবকে। আইপিএল খেলতে ইতিমধ্যে ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে অনুমতিপত্র নিয়েছেন সাকিব।

দলের সাবেক এই অধিনায়কের মতো একই পথে হাঁটতে যাচ্ছেন দেশের অন্যতম সেরা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনিও ছুটি চাইলে পাবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে আকরাম খান বলেছেন, শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজের সময় আইপিএল হবে। সাকিব টেস্ট না খেলে আইপিএলে খেলবে। চাইলেই এখন বোর্ড সবাইকে ছুটি দেবে। কেউ খেলতে না চাইলে তাকে জোর করতে চাই না আমরা। মোস্তাফিজ চাইলে তাকেও ছুটি দেব, সবাইকে দেব।

বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাকিবকে আইপিএলে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মোস্তাফিজও টেস্ট খেলতে আগ্রহী নয়। সেও আইপিএলে খেলবে।

এদিকে জাতীয় দলকে উপেক্ষা করে সাকিবের আইপিএলে খেলার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্রিকেট প্রেমীরা। দেশের স্বার্থ ত্যাগ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হচ্ছে সমালোচনা। ভবিষ্যতে ক্রিকেটারদের ছুটির বিষয়ে বিসিবিকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জনসাধারণের।

দেশের জন্য খেলেন সাকিব। বুক চিতিয়ে লড়তে চান রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে। গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কথা অকপটে বলেছেন বহু বার। খ্যাতনামা হওয়ার পর যেন তা ভুলে যান লতা-গুল্ম থেকে প্রকাণ্ড বৃক্ষ হবার স্থানকে। জাতীয় দলকে দূরে ঠেলে বাণিজ্যিক ক্রিকেট আইপিএলকে প্রাধান্য দেওয়ায় এ প্রশ্ন উঠছে বার বার। দেশ সেরা ক্রিকেটারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ সাধারণ মানুষের।

নিষেধাজ্ঞায় সাকিবের প্রয়োজনীয়তা বুঝেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। সাকিবও নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের পর যেখানে নাম্বার সেভেন্টি ফাইভের যেখানে উচিত ছিল দেশের হয়ে আরও বেশি সময় দেওয়া। সেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে পর পর দুটি সিরিজে নিজের নাম সরিয়ে নেওয়াটাকে বাঁকা চোখে দেখছে সমর্থকরা। বিসিবি যদি এ বিষয়ে এখনই কঠোর না হয় তবে অন্য ক্রিকেটাররাও এর সুযোগ নিতে পারে, বলে মত ক্রিকেটপ্রেমীদের।

এদিকে সাকিবকে সমর্থন জানিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্শা ভোগলের টুইটটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার দিয়েছেন সাকিবের স্ত্রী শিশির।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment