মাত্র যে একটি কারনে জয়কে পুরষ্কৃত করতে চায় শেখ হাসিনা

৪৫তম ওভারের খেলা চলছিল তখন। আফগানদের পরাজয়ও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ততক্ষণে। ৮টি উইকেটের পতন ঘটে গেছে। উইকেটে ছিলেন তখন মুজিব-উর রহমান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে স্লগ সুইপ করেছিলেন মুজিব। বলটি কাউ কর্নারের ওপর দিয়ে ছক্কা হয়ে যাচ্ছিল।

কিন্তু একেবারে বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন পরিবর্তিত ফিল্ডার মাহমুদুল হাসান জয়। তিনি বলটি তালুবন্দী করলেন। কিন্তু নিজের ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না। চলে যাচ্ছিলেন বাউন্ডারির বাইরে। শেষ মুহূর্তে বলটি তিনি শূন্যে ছুঁড়ে মারেন। ততক্ষণে চলে যান বাউনন্ডারির বাইরে।

এরপর নিজের ভারসাম্য ফিরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন জয়। ভেতরে প্রবেশের সময়ই শূন্যে থাকা অবস্থায় বলটি আবারও তালুবন্দী করে নেন। আম্পায়াররা টিভি রিপ্লের আদেশ দেন। টিভি আম্পায়ার গাজী সোহেল একবারই দেখলেন রিপ্লেটা। তাতেই দেখা গেলো, এটা স্পষ্টই আউট।

বিশ্বকাপ ক্রিকেট, আইপিএলসহ বড় বড় টুর্নামেন্টগুলোতে এমন ক্যাচ এখন হর-হামেশাই দেখা যায়। তবে, বাংলাদেশি কোনো ফিল্ডারের কাছ থেকে এমন অসাধারণ ক্যাচ দেখাটা যেন একটু বেশি সৌভাগ্যের।

৮ রানে থাকা মুজিব-উর রহমান ফিরে যান সেই অসাধারণ ক্যাচে। এরপর ফজল হক ফারুকির উইকেট আফিফ হোসেন বোল্ড করে তুলে নিতেই ৮৮ রানের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।

আফগানদের বিপক্ষে এই জয়টি টিভিতে বসে সরাসরি দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ম্যাচে জয় পাওয়ার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য লেগেছে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচটি। এটা দেখে তিনি এতটাই আপ্লুত হয়েছেন যে, জয়কে আলাদাভাবে পুরস্কৃত করার কথাও বলেছেন তিনি বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনকে।

আজ ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে পাপন জানান, ম্যাচ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তাকে পাঁচবার ফোন করেছেন। তবে জয়ের ক্যাচটি দেখে নাকি তিনি খুব বেশি উচ্ছ্বসিত।

পাপন বলেন, ‘পরে যখন ফোন করলেন- বলেছেন, শেষে কষ্ট করে ক্যাচ ধরলো ওর নামটা কী? ওকে তো আমার পুরস্কার দিতে হবে। এত সুন্দর ক্যাচ ধরেছে। মানে তিনি পুরাটা সময় খেলা দেখেছেন। দারুণ উপভোগ করেছেন।’

You May Also Like