১ম ম্যাচ জয়ের পরেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাঁচ নম্বর পজিশনে আসতে পারে পরিবর্তন

আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক জয় পেয়েছে টাইগাররা। যেখানে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন মেহদি হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। আফগানদের বেধে দেয়া ২১৬ রানের লক্ষ্যটা যখন পাহাড়সম মনে হয়েছিল তখন সেই পাহাড় টপকাতে যেন পর্বতারোহী হয়ে আসেন এই দুইজন। সপ্তম উইকেট জুটিতে বিশ্বরেকর্ড গড়েই আফগানদের হতাশায় ডুবিয়েছেন মিরাজ ও আফিফ।

এই দুইজনের ব্যাটে চড়ে নতুন করে আশার আলো দেখছে বাংলাদশের ক্রিকেট তা দিবালোকের মতই সত্যি। তবে সেই আশার পারদটা উর্ধমুখি ছিল আরেক ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলি রাব্বিকে ঘিরেও। ম্যাচের আগেরদিন টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয় অথবা ইয়াসির আলি রাব্বির মধ্য থেকে যেকোনো একজনের অভিষেক হতে আরে প্রথম ওয়ানডেতে। ব্যাটিং পজিশন হিসেবে পাঁচ নম্বরে থাকবেন তাদের দুজনের মধ্যে একজন এমনটাও জানিয়েছিলেন তামিম। জয়কে পেছনে ফেলে এদিন ইয়াসির আলির অভিষেক হবার পর পাঁচ নম্বরে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

উপরের সারিতে তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসানরা যখন ব্যর্থ তখন ইয়াসিরকে নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ৫ বল মোকাবেলা করা ইয়াসির আলি এদিন কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরেছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচেই খালি হাতে ইয়াসিরের ফিরে যাওয়া মিডল অর্ডারে হতাশার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের এমন দৈন্যদশা ফুটে ওঠার পর দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে আসতে পারে অন্তত একটি পরিবর্তন। এক্ষেত্রে ইয়াসির আলি রাব্বির উপর টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা হারালে একাদশে নতুন করে যুক্ত হতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টপ অর্ডারে ফাঁকা জায়গা না থাকলেও ইয়ায়সিরের পরিবর্তে শান্তকে একাদশে রাখা হলে তাকেও দেখা যেতে পারে পাঁচ নম্বর পজিশনেই। কেননা ওপেনিংয়ে লিটন দাস ও তামিম ইকবাল থাকলে তিন নম্বরে সাকিবের থাকা শতভাগ নিশ্চিত বলা যেতে পারে। চার নম্বরে মুশফিকের চেয়ে সেরা ব্যাটসম্যান আপাতত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সেটাও নিশ্চিত। তাই শান্তকে একাদশে রাখা হলে তার জন্য বরাদ্দ থাকবে পাঁচ নম্বর জায়গাটিই।

প্রথম ওয়ানডের মত দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ম্যাচ ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব থাকতে পারে মেহেদি হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেন ধ্রুবর সাথে। দলের বিপর্যয়ে দেখেশুনে খেলার সাথে কম বলে বেশি রান করতেও বেশ পটু আফিফ এবং মিরাজ দুজনেই।

ব্যাটিংয়ের হিসেব কষতে অংকের খাতা শেষ হবার আগেই বোলিং বিভাগে নজর দেয়া যাক। চট্টগ্রামের পেস বান্ধব উইকেটে প্রথম ওয়ানডেতে পেসারদের দাপট ছিল স্পষ্ট। আফগানিস্তানের হয়ে রশিদ খান, মুজিব উর রহমান কিংবা মোহাম্মদ নবিদের ছাপিয়ে পেসার ফজল হক ফারুকি একাই যেমনি ৫ উইকেট নিয়ে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন তেমনি বাংলাদেশ দলেও সাকিব-মিরাজের বোলিংয়ের চেয়ে বেশ ধারালো ছিলেন তাসকিন, মুস্তাফিজ শরিফুলরা।

স্পিনার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসান ২টি ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১টি উইকেট নিলেও বাকি ৭ উইকেটই নিয়েছেন পেসাররা। তাই দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচেও একাদশে থাকতে পারেন তিনজন পেসার। আফগানদের ব্যাটিং অর্ডারে আঘাত হানতে মুস্তাফিজের সাথে তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম থাকতে পারেন সেরা পছন্দের তালিকাতে।

You May Also Like