কপাল পুড়লো মুস্তাফিজের

তিনি টেস্টের প্রাথমিক স্কোয়াডে ছিলেন না। মানে ওয়ানডে সিরিজের পর লাল বলে যে ২০ জন অনুশীলন করেছেন, সেই তালিকায় তার নাম ছিল না। ওয়ানডে সিরিজ শেষেই জৈব সুরক্ষা বলয়ের (বায়ো-বাবল) বাইরে চলে যান সৌম্য সরকার।

তবে সাকিব আল হাসান ও সাদমান ইসলাম ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়ায় টেস্ট শুরুর ৪৮ ঘন্টা আগে হঠাৎ দলে ঢুকেছেন সৌম্য। দুই বাঁহাতি উইলোবাজের বিকল্প হিসেবে স্কোয়াডে সৌম্যর অন্তর্ভুুক্তিই বলে দিচ্ছিল ঢাকা টেস্ট খেলবেন তিনি। যথারীতি টাইগার একাদশে সৌম্য সরকার।

যেহেতু ওপেনার সাদমান নেই। ধারণা ছিল, সৌম্যর সঙ্গে ১১ জনে থাকবেন সাইফ হাসানও। হয়তো তামিম ইকবালের সঙ্গে সাইফকেই ওপেনার হিসেবে খেলানো হবে। কিন্তু বিস্ময় জাগানোর মতো ব্যাপার হলো, একাদশে জায়গা পাননি এ ডানহাতি স্পেশালিস্ট ওপেনার।

সাইফকে বাইরে রেখে একাদশে নেয়া হয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনকে। একাদশে আরও একটি সংযোজন- আবু জায়েদ রাহী। মানে রদবদল তিনটি। সাদমান-সাকিব ইনজুরির কারণে নেই, সঙ্গে বাদ পড়েছেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানও।

class="tie-appear" src="https://i.imgur.com/Hjjwsnc.jpg" />

একাদশের এসব পরিবর্তন নিয়েই নানা কথাবার্তা। প্রথম প্রশ্ন, স্কোয়াডে একজন বিকল্প ওপেনার থাকতে, তাকে না নিয়ে কেন প্রাথমিক দলের বাইরে থেকে এনে সৌম্য সরকারকে ওপেনার হিসেবে একাদশে রাখা?

বলার অপেক্ষা রাখে না, সাইফ টেস্টের জন্য করা ২০ জনের প্রাথমিক দলের একজন। তারপর ১৮ জনের মূল স্কোয়াডেও আছেন। জাতীয় দলের সঙ্গে লাল বলে অনুশীলন করছেন নিয়মিত, খেলেছেন ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও।

অথচ তাকে বাইরে রেখে দলে নেয়া হলো প্রাথমিক স্কোয়াডেরও বাইরে থাকা সৌম্য সরকারকে। সেটা সাকিবের জায়গায় মিডল অর্ডারে হলে কথা ছিল। কিন্তু সৌম্যকে ওপেনার হিসেবে একাদশে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আর মিডল অর্ডারে নেয়া হয়েছে মিঠুনকে।

বিপত্তির সেখানেই শেষ নয়। একাদশ দেখে ধারণা করা হচ্ছিল, সৌম্য যেহেতু সীমিত ওভারের ফরম্যাটে জেন্টল মিডিয়াম পেস করেন, তাই মাঘের কুয়াশা ভেজা সকালে হয়তো আবু জায়েদ রাহীর সঙ্গে বল হাতে ওপেন করতে দেখা যাবে। কিন্তু তাও হয়নি। রাহীর সঙ্গে বোলিংয়ের সূচনা করেছেন অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর থেকেই সৌম্য ছিলেন দল তথা বায়ো-সিকিউর বাবলের বাইরে। লাল বলের অনুশীলনে ছিলেন না। উল্টো রাজশাহীতে একটি স্থানীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলেছেন। এখন তাকে ডেকে ১১ দলে করা হলো। কিন্তু বিবেচনায় এলেন না স্বীকৃত ওপেনার সাইফ।

গোলমেলে দল সাজানোর গল্প এখানেই শেষ নয়। আরও আছে। চট্টগ্রামে যিনি নতুন বলে ক্যারিবীয় টপঅর্ডারে ভাঙন ধরিয়েছিলেন, সেই বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজও বাদ। তার বদলে নেয়া হয়েছে রাহীকে, যিনি একাদশের একমাত্র পেসার।

এ ডানহাতি পেসারকে নেয়ার মানে দাঁড়ায় মোস্তাফিজেও আস্থা শেষ টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের। কেন এমন হঠাৎ হঠাৎ ভাবনা পরিবর্তন? একটু গোলমেলে ব্যাপার নয় কি?

Related Post