এক নজরে দেখেনিন বিপিএলের ‘৭’ আসরের ফাইনাল ও টুর্নামেন্ট ‘সেরা’ যারা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে আছেন সাকিব আল হাসান। সাতটি ইভেন্টের মধ্যে তিনটিতেই টুর্নামেন্টের সেরা পুরস্কার জিতেছেন সাকিব। তিনবার টুর্নামেন্টের সেরা পুরস্কার জিতেছেন বিদেশি ক্রিকেটাররা।

সাকিব আল হাসান: বিপিএলের প্রথম আসরে ১১ ইনিংসে বল হাতে ১৫ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ২৬০ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন সাকিব। খেলতেন খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলের হয়ে। এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস।

দ্বিতীয় আসরেও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার ওঠে সাকিবের হাতে। এবার তিনি ছিলেন চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের স্কোয়াডে। ঢাকার জার্সিতে সাকিব ১২ ম্যাচে করেন ৩২৯ রান ও শিকার করেন ১৫টি উইকেট। ২০১৮-১৯ আসরে আবারও টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। রানার্সআপ ঢাকার সাকিব ব্যাট হাতে ৩০১ রান ও বল হাতে নেন ২৩ উইকেট। আসরটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

আসার জাইদি : প্রথম দুই আসরের টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারই সাকিবের হাতে ওঠার পর ২০১৫ আসরে নতুন টুর্নামেন্ট সেরার মুখ দেখে বিপিএল। চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিদেশি ক্রিকেটার আসার জাইদি সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার ১১ ম্যাচে করেন ২১৫ রান ও বল হাতে নেন ১৭ উইকেট। তার কাছে বেশ কিছু ম্যাচজয়ী ইনিংস ও বোলিং স্পেল পেয়েছিল কুমিল্লা।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ : সাকিব ব্যতীত একমাত্র বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে রিয়াদের হাতে উঠেছে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। বিপিএলে বরাবরই অধিনায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে রিয়াদকে। খুলনা টাইটান্সকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতাতে না পারলেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এই অলরাউন্ডার। ২০১৬ আসরে ১০ ম্যাচে ৩৯৬ রান করেন ও বল হাতে ১০টি উইকেট শিকার করেন রিয়াদ। এই পারফরম্যান্সে তিনিই হন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়। আসরটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সাকিবের দল ঢাকা ডায়নামাইটস।

ক্রিস গেইল : ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল বিপিএলের নিয়মিত মুখ। বরাবরই ব্যাটিং ঝড়ে বিপিএলের দর্শকদের মন মাতান তিনি। ২০১৭ সালের বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের পক্ষে খেলেন গেইল। আরও একবার তার ব্যাটিং তাণ্ডব দেখে বিপিএল। ফাইনাল ম্যাচে শতক হাঁকিয়ে রংপুরকে চ্যাম্পিয়ন করেন গেইল।

সেই আসরে গেইলের ব্যাট থেকে আসে ৪৮৫ রান। ফলে গেইল ছাড়া আর কাউকে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার দেওয়ার কথা ভাবেইনি কর্তৃপক্ষ।

আন্দ্রে রাসেল : সর্বশেষ আসরের টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন আন্দ্রে রাসেল। তার দল রাজশাহী রয়্যালসও ২০২০ আসরেই প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করে। অলরাউন্ডার রাসেলের ব্যাট থেকে আসে ২২৫ রান এবং বল হাতে তিনি শিকার করেছিলেন ২০টি উইকেট।

বিপিএল ইতিহাসে ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় যারা :

ইমরান নাজির : প্রথম আসরের ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ইমরান নাজির। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে চ্যাম্পিয়ন করার পথে ব্যাট হাতে ফাইনালে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন তিনি। ৪৩ বলে ৭৫ রান করেন করেছিলেন ইমরান। তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৬টি করে চার ও ছক্কা। স্ট্রাইকরেট ১৭৪.৪১।
মোশাররফ রুবেল : দ্বিতীয় আসরের শিরোপাও জয় করে ঢাকা। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ রুবেল। ৪ ওভারে ২৬ রান খরচ করে তিনটি উইকেট নেন তিনি। এই বাঁহাতি স্পিনারের শিকার হন জেসন রয় (৪০), নুরুল হাসান সোহান (২) ও রায়ান টেন ডেসকাট (২)।

অলক কাপালি : ২০১৫ সালের বিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন পায় টুর্নামেন্ট। চ্যাম্পিয়ন হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ফাইনালে ২৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন অলক কাপালি। তার ইনিংসে ছিল ৫টি বাউন্ডারি।

কুমার সাঙ্গাকারা : ২০১৬ সালে আবার ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি শিরোপা জয় করে। ঢাকা ডায়নামাইটসের পক্ষে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হন কুমার সাঙ্গাকারা। শ্রীলঙ্কান এই কিংবদন্তি করেন ৩৩ বলে ৩৬ রান। যদিও ম্যাচটিতে তার চেয়ে বেশি ৩১ বলে ৪৫ রান করেছিলেন এভিন লুইস, তবে ম্যাচে দলের জয়ে প্রভাব বিস্তার করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন সাঙ্গাকারা।
ক্রিস গেইল : বিপিএল ২০১৭ আসরে ফাইনাল ম্যাচেও ব্যাটিং তাণ্ডব প্রদর্শন করেন গেইল। ৬৯ বলে তিনি খেলেন ১৪৬ রানের হার না মানা ইনিংস। তার দল রংপুর রাইডার্সও হয় চ্যাম্পিয়ন। গেইলের ইনিংসটিতে ছিল ছক্কা বৃষ্টি। ৫টি চারের পাশাপাশি তিনি হাঁকান ১৮টি ছক্কা।

তামিম ইকবাল : প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচে শতক হাঁকান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের তামিম। ৬১ বলে ১৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এছাড়া ফিল্ডিংয়ে দুটি অসাধারণ ক্যাচও নেন তিনি। তামিমের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১০টি চার ও ১১টি ছক্কায়। স্ট্রাইকরেট ২৩১.১৪।
আন্দ্রে রাসেল : দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন রাজশাহী রয়্যালসের রাসেল। ব্যাট হাতে তিনি করেন ১৬ বলে ২৭ রান। হাঁকান তিনটি ছক্কা। বল হাতে ৩২ রানে নেন দুইটি উইকেট। খুলনার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও ব্যাটার শহিদুল ইসলামকে বোল্ড করেন রাসেল।

You May Also Like