১৩২ বছর এমন লজ্জার রেকর্ড গড়লো ইংল্যান্ড

টার্গেট ছিল ২৭০ রান, দুই দিনের বেশি বা প্রায় ২০০ ওভার। হোবার্ট টেস্ট জিতে অ্যাশেজ শেষ করতে ইংল্যান্ডকে উইকেটের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। উদ্বোধনী ওভারে ৬০ রান যোগ করেন জ্যাক ক্রাউলি ও ররি বার্নস।

দেখে মনে হচ্ছিল চার ম্যাচে হারার পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ম্যাচ জিততে পারে ইংল্যান্ড। কি কথা সবই ভুল! বিনা উইকেটে ৬৮ থেকে পর ৫৬ রানে ১০ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ফলে তাদের অ্যাশেজ শেষ হয় ১৪৫ রানের বিশাল পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। সব মিলিয়ে ৪-০ হারে।পুরো সিরিজ জুড়েই ব্যাটিংয়ের কারণে ভুগেছে ইংল্যান্ড। ব্যাটারদের দৈন্যদশা এতোটাই যে, এটি ইংল্যান্ড দলকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে সেই ১৮৯০ সালে! অর্থাৎ ১৩২ বছর পর এতো বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখালো ইংল্যান্ড। মাঝের সময়ে ফল যেমনই হোক, ব্যাটিং এতটা বাজে ছিল না।

এবারের অ্যাশেজের পাঁচ ম্যাচে ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ১৯.১৮! যা কি না ২০০১ সালের পর যেকোনো দলের জন্য পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সর্বনিম্ন। এছাড়া অ্যাশেজ সিরিজে ১৮৯০ সালের পর এত কম ব্যাটিং গড় দেখলো ইংল্যান্ড। ১৩২ বছর আগের সেই অ্যাশেজে ১৫.৭৪ ছিল তাদের ব্যাটিং গড়।ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার হোবার্ট টেস্টে সবমিলিয়ে খেলা হয়েছে মাত্র ১৩১২ বল। যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পুরো ৪০ উইকেট পড়া ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ১৮৮৮ সালের সিডনি টেস্টে খেলা হয়েছিল মাত্র ১১২৯ বল।

হোবার্টে দুই দলের চার ইনিংস মিলিয়ে পেসাররাই নিয়েছেন ৩৯ উইকেট। অ্যাশেজের এক ম্যাচে পেসারদের নেওয়া সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড এটি। ১৯৮১ সালের লিডস টেস্ট ও ২০১০ সালের পার্থ টেস্টে ৩৮টি করে উইকেট নিয়েছিলেন পেসাররা।উদ্বোধনী জুটিতে ৫০+ রানের পর মাত্র ১২৪ রানে অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ড। যা অ্যাশেজে ৫০+ রানের উদ্বোধনী জুটির পর পঞ্চম সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অ্যাশেজে ৫০+ রানের উদ্বোধনী জুটির পর এতো কম রানের দলীয় ইনিংস দেখা যায়নি।

এবারের অ্যাশেজেই অভিষেক হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার পেসার স্কট বোল্যান্ডের। তিনি মাত্র ৯.৫৫ গড়ে নিয়েছেন ১৭টি উইকেট। টেস্ট ইতিহাসে অভিষেক সিরিজে অন্তত ১৫ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা গড় এটি। অভিষেক সিরিজে তার চেয়ে ভালো গড় ছিল নরেন্দ্র হিরওয়ানি (৮.৫০) ও চার্লি টার্নারের (৯.৪৭)।

You May Also Like