২০২২ বিশ্বকাপের আগে আরেক বিশ্বকাপ কাতারে

হোয়াং হো যদি হয় চীনের দুঃখ তাহলে করোনা হচ্ছে পুরো মানবসভ্যতার জন্য এক পীড়ার নাম। পুরো একটা বছর দুনিয়ার সমস্ত কর্মচাঞ্চল্য চলে গেছে এই কোভিডের গর্ভে। তার করাল গ্রাসে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি। পঙ্গু হয়ে গেছে নাগরিক জীবন। স্থবির শিক্ষা ব্যবস্থা।

তবে, এতেও দমে যায়নি মানুষ। ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য বের করেছে নানা উপায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উদ্ভাবন হয়েছে করোনা টিকার।
কিন্তু এতো কিছুর পরও এখনো বিশ্বের সব কোণায় স্বাভাবিক হয়নি জীবনযাত্রা। যদিও, তা ভেবে বসে নেই কাতার। বিশ্বকাপের আয়োজক দেশটি শেষ করে এনেছে তাদের সমস্ত কার্যক্রম। কয়েক বছর আগে যে মহাজজ্ঞের শুরু তারা করেছিলো, এখন তা বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে। বিশ্বকাপের এক বছর আগেই ড্রেস রিহার্সালে নেমে গেলো কাতার। যার চূড়ান্ত ধাপে এবার ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজন করতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

তবে, করবো বললেই তো আর হয়না। নতুন দুনিয়ার সঙ্গে তাল মেলাতে হলে রাখতে হবে সুরক্ষা ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় মানতে হবে কোয়ারেন্টাইনও। কাতার বিশ্বকাপের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহীর দাবি, পূরণ করা হয়েছে সব শর্তই।
বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী নাসের আল খাতের বলেন, এই টুর্নামেন্ট দিয়েই আমাদের সব কিছু যাচাই করা হবে। এই মহামারির সময়ে যদি সফল আয়োজন করতে পারি, তাহলে বিশ্বকাপের আগে বড় চ্যালেঞ্জ উৎরাতে পারবো। আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে আগত সমর্থক, ফুটবলার, অফিশিয়াল সবার আরটি পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা করবো। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে সবার সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখবো। আর বিশ্বকাপের আগে আশা করি এ সব সমস্যা কেটে যাবে। তখন এক নতুন পৃথিবীতে দেখা হবে আমাদের।
এদিকে, নিজেদের মাটিতে প্রথমবারের মতো এতো বড় টুর্নামেন্ট দেখতে পাওয়ার আনন্দে ভাসছে কাতারের সাধারণ মানুষ।
এক নারী জানান, নাগরিক হিসেবে আমার জন্য এটা গর্বের। আমার শহর এতো বড় একটি আসরের স্বাগতিক হতে যাচ্ছে। আমার প্রিয় ক্লাব এ টুর্নামেন্টে খেলবে। দুনিয়ার যে প্রান্তেই খেলা হোক না কেন, আমি আল আহলি’কে সমর্থন দেবই।
বৃহস্পতিবার প্রথম খেলায় মেক্সিকান ক্লাব টাইগারসের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান হুন্দাই।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Comment