বিপিএলের ‘৭’ আসরের ‘৬’ চ্যাম্পিয়ন দল ও ‘৪’ অধিনায়ক!

অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) একচেটিয়া রাজত্ব করেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। আসন্ন আসরে আর খাতা-কলমে অধিনায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে না তাকে। নতুন আসর নতুন শিরোপাজয়ী অধিনায়ক পাবে কিনা তা সময়ই বলে দিবে। তার আগে ঘুরে আসা যাক অতীত থেকে, দেখে নেওয়া যায় আগের সব আসরের চ্যাম্পিয়ন ও শিরোপাজয়ী অধিনায়কদের।

২০১২ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টির ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। অংশ নিয়েছিল ৬টি দল- ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস, দুরন্ত রাজশাহী, খুলনা রয়েল বেঙ্গল, বরিশাল বার্নার্স, চিটাগং কিংস ও সিলেট রয়্যালস। প্রথম সেমিফাইনালে রাজশাহীকে পরাজিত করে ফাইনালে যায় বরিশাল। অপর সেমিফাইনালে খুলনাকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে ঢাকা।

ফাইনালে বরিশাল বার্নার্সকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথম আসরের শিরোপা জয় করে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। ঢাকাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাশরাফি। ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটার ইমরান নাজির। ঢাকার পক্ষে ৪৩ বলে ৭৫ রান করেন তিনি। ৩৮ বলে ৪৯ রান করেছিলেন এনামুল হক বিজয়।

সেদিন ঢাকার একাদশে ছিলেন মাশরাফি, ইমরান, নাজিমউদ্দিন, এনামুল হক বিজয়, আজহার মাহমুদ, ইলিয়াস সানি, মোহাম্মদ আশরাফুল, রানা নাভীদ উল হাসান, ধীমান ঘোষ, সাইদ আজমল ও শাহীদ আফ্রিদি। এছাড়াও দলটিতে ছিলেন আফতাব আহমেদ, অ্যালেক্সেই কারভেজি, মোশাররফ রুবেল, নাজমুল হোসেন, কাইরন পোলার্ড, ড্যারেন স্টিভেন্স, তানবীর হায়দার, স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল। ১১ ইনিংসে বল হাতে ১৫ উইকেট ও ব্যাট হাতে ২৮০ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরেও টুর্নামেন্ট সেরা হন তিনি। চ্যাম্পিয়ন ঢাকার পক্ষে ১২ ম্যাচে করেন ৩২৯ রান ও শিকার করেন ১৫টি উইকেট।

২০১২-১৩ বিপিএলে আবারও চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। সেবারও অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি। ফাইনালে ঢাকার প্রতিপক্ষ ছিল চট্টগ্রাম কিংস। আগে ব্যাট করে ঢাকা সংগ্রহ করেছিল ১৭২ রান। জবাবে চট্টগ্রাম অল-আউট হয় ১২৯ রানে। ৪৩ রানের জয়ে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা। ৪ ওভারে ২৬ রান খরচ করে তিনটি উইকেট শিকার করে মোশাররফ রুবেল হন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়।

এই আসরে ঢাকার স্কোয়াডে ছিলেন, মাশরাফি, বিজয়, তিলাকরত্নে দিলশান, জশ কবি, ক্রিস গেইল, ক্রিস লিডল, লিটন দাস, কৌশল লোকুয়ারাচ্চি, মাহবুব আলম, অজন্ত মেন্ডিস, আশরাফুল, মোশাররফ, পোলার্ড, রাকিবুল হাসান, সাকলাইন সজীব, ওয়াইস শাহ, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, ড্যারেন স্টিভেন্স, আলফানসো থমাস ও লুক রাইট।

২০১৫-১৬ আসরে পরিবর্তন হয় চ্যাম্পিয়ন দল তবে শিরোপাজয়ী অধিনায়ক সেই আগেরজনই, মাশরাফি। সেবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে চ্যাম্পিয়ন করেন মাশরাফি। ফাইনালে কুমিল্লার প্রতিপক্ষ ছিল বরিশাল বুলস। আগে ব্যাট করে বরিশাল করে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান। শেষ বলে ৩ উইকেটের জয় পায় কুমিল্লা।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পক্ষে শিরোপা জেতেন মাশরাফি
কুমিল্লায় মাশরাফির সহযোদ্ধা ছিলেন আবু হায়দার রনি, আহমেদ শেহজাদ, অলক কাপালি, ইমরুল কায়েস, কামরুল ইসলাম রাব্বি, লিটন দাস, মাহমুদুল হাসান লিমন, নাঈম ইসলাম জুনিয়র, আন্দ্রে রাসেল, মারলন স্যামুয়েলস, ক্রিশমার স্যান্টোকি, শোয়েব মালিক, শুভাগত হোম, ড্যারেন স্টিভেন্স ও সানজামুল ইসলাম।

ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন অলক কাপালি। ২৮ বলে করেন হার না মানা ৩৯ রান। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হন কুমিল্লার বিদেশি ক্রিকেটার আসার জাইদি। পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার ১১ ম্যাচে করেন ২১৫ রান ও বল হাতে নেন ১৭ উইকেট।

২০১৬-১৭ আসরে নতুন শিরোপাজয়ী অধিনায়ক পায় বিপিএল। ঢাকা ডায়নামাইটসকে চ্যাম্পিয়ন করেন সাকিব। ফাইনালে ঢাকার প্রতিপক্ষ ছিল রাজশাহী কিংস। আগে ব্যাট করে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে ঢাকা। রাজশাহীকে তারা অল-আউট করে দেয় ১০৩ রানে। ৫৬ রানের জয় পায় ঢাকা। ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হন ৩৩ বলে ৩৬ রান করা কুমার সাঙ্গাকারা।

ঢাকা ডায়নামাইটসের শিরোপা উল্লাস
সাকিবের দলে ছিলেন সাঙ্গাকারা, আলাউদ্দিন বাবু, রবি বোপারা, ডোয়াইন ব্রাভো, ম্যাট কোলস, ইরফান শুক্কুর, মাহেলা জয়াবর্ধনে, ইভিন লুইস, মেহেদী মারুফ, মোহাম্মদ শহিদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাসির হোসেন, ওয়েইন পার্নেল, সেকুগে প্রসন্ন, আন্দ্রে রাসেল, সোহরাওয়ার্দী শুভ, সানজামুল ইসলাম, তানবীর হায়দার ও উসামা মীর।

সেই আসরের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি ১০ ম্যাচে ৩৯৬ রান করেন ও বল হাতে ১০টি উইকেট শিকার করেন।

২০১৭-১৮ মৌসুমে পঞ্চম আসরে আবার শিরোপা পুনরুদ্ধার করেন মাশরাফি, তবে এবার নতুন দলের পক্ষে। মাশরাফির নেতৃত্ব চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর রাইডার্স। আগে ব্যাট করে রংপুর করে ২০৬ রান। আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস ছিল রানার্সআপ। তারা থাকে ১৪৯ রানে। ৫৭ রানের জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর।

ফাইনালে ৬৯ বলে হার না মানা ১৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন গেইল। ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন তিনি। টুর্নামেন্টেরও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। গেইল করেন মোট ৪৮৫ রান।

রংপুরের স্কোয়াডে ছিলেন মাশরাফি, আব্দুর রাজ্জাক, স্যামুয়েল বদ্রি, রবি বোপারা, জনসন চার্লস, এবাদত হোসেন, ইলিয়াস সানি, ফজলে মাহমুদ, গেইল, স্যাম হেইন, নুয়ান কুলাসেকারা, অ্যাডাম লিথ, লাসিথ মালিঙ্গা, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, মোহাম্মদ মিঠুন, নাহিদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম অপু, কুশল পেরেরা, থিসারা পেরেরা, রুবেল হোসেন, সামিউল্লাহ শিনওয়ারি, শাহরিয়াদ নাফীস, শামসুর রহমান, সোহাগ গাজী, ডেভিড উইলি, জহির খান ও জিয়াউর রহমান।

২০১৮-১৯ এ আবার চ্যাম্পিয়ন হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সেবার দলকে নেতৃত্ব দেন ইমরুল কায়েস। টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। আগে ব্যাট করে কুমিল্লা করে ১৯৯ রান। ঢাকা থামে ১৮২ রানে। ১৭ রানের জয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন ইমরুল কায়েস।

২০১৮-১৯ আসরের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
ফাইনাল ম্যাচে শতক হাঁকান তামিম ইকবাল। ৬১ বলে ১৪১ রান ও ফিল্ডিংয়ে অসাধারণ দুইটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হন তিনি। রানার্সআপ ঢাকার সাকিব ৩০১ রান ও ২৩ উইকেট নিয়ে হন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়।

কুমিল্লার স্কোয়াডে ছিলেন তামিম, ইমরুল, স্টিভেন স্মিথ, আমের ইয়ামিন, রনি, বিজয়, লিয়াম ডওসন, লুইস, শেখ মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শহিদ, মোশাররফ, সঞ্জিত সাহা, আফ্রিদি, শামসুর, শোয়েব মালিক, জিয়াউর ও ওয়াকার সালামখেইল।

২০১৯-২০ সালে সপ্তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় রাজশাহী রয়্যালস। দলীয় অধিনায়ক ছিলেন আন্দ্রে রাসেল। ফাইনালে রাজশাহী করে ৪ উইকেটে ১৭০ রান। রানার্সআপ খুলনা টাইগার্স থামে ১৪৯ রানে। ২১ রানের জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রাজশাহী। ফাইনালে রাসেল ১৬ বলে অপরাজিত ২৭ রান ও ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হন। টুর্নামেন্ট সেরাও রাসেল। করেন ২২৫ রান ও শিকার করেন ১৪ রান।

চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীতে ছিলেন আবু জায়েদ রাহী, আফিফ হোসেন ধ্রুব, কাপালি, বোপারা, ফরহাদ রেজা, হযরতউল্লাহ জাজাই, শুক্কুর, কামরুল, লিটন, মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদি, মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ নওয়াজ, নাহিদুল ইসলাম, রাসেল, মালিক ও তাইজুল ইসলাম।

You May Also Like