১১ জনের বিপক্ষে খেলছে পুরো দেশ, ক্ষোভে ফুঁসছে কোহলিরা

তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ভারতের বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকাবস্থায় তৃতীয় দিন শেষ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২১২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের তৃতীয় দিন শেষে স্কোর বোর্ডে ১০১ রান যোগ করেছে স্বাগতিক প্রোটিয়া শিবির।

তবে চলমান টেস্টের তৃতীয় দিনে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রিভিউ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটার রিশভ পন্তের সেঞ্চুরিতে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর পর বল হাত একটি উইকেট পাওয়ার জন্য তখন ছটফট করছিল ভারত। যশপ্রীত বুমরা কিংবা মোহাম্মদ শামিরা কিছুতেই টলাতে পারছিল না ডিন এলগারকে। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো আবার তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিতিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এমন সময়ই রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদন। হাত উঁচিয়ে আউটও দিয়ে দেন আম্পায়ার। তারপরই শুরু হয় নাটক।

আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিভিউ নেন এলগার। সেখানে দেখা যায় বল এলগারের পা ছুঁলেও উইকেটের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। উইকেটে লাগার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না বলের। তৃতীয় আম্পায়ার নির্দেশ দেন সিদ্ধান্ত বদল করার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে কোহলিদের মধ্যে বিরক্তি ফুটে ওঠে।

সে সময় স্টাম্প মাইকের কাছে গিয়ে কথা বলতে দেখা যায় ভারতীয় ফিল্ডারদের। কোহলি বলেন, ‘দারুণ ডিআরএস, খুব ভালো খেলেছো। লোকেশ রাহুল বলেন, ‘গোটা দেশ ১১ জনের বিপক্ষে খেলছে।

অশ্বিন স্টাম্পের সামনে এসে মন্তব্য করেন, সুপারস্পোর্টে জয়ের জন্য আরও ভালো উপায় খুঁজে বের করা উচিত ছিল। অশ্বিন এক্ষেত্রে সরাসরি ব্রডকাস্টারদের দিকেই আঙুল তোলেন।

পরে কোহলি আবার বলেন, ‘তোমাদের দল যখন বল পালিশ করে, তখন তাদের ওপরেও ক্যামেরা তাক করো। শুধু বিপক্ষ খেলোয়াড়দের ওপর নয়।’ পরে কোহলিকে স্টাম্প থেকে দূরে সরে যাওয়ার সময় এও বলতে শোনা যায় যে, ‘ব্রডকাস্টাররা এভাবেই অর্থ উপার্জন করে।’

দ্বিতীয় ইনিংসে রিশভ পন্তের সেঞ্চুরিতে ১৯৮ রান করে ভারত। এই ইনিংসে ভারতের হয়ে একাই লড়েন পন্ত। সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৫৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করা পন্তের সেঞ্চুরি তুলে নিতে লেগেছে ১৩৩ বল। তার অপরাজিত ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছয়ের মার। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন বিরাট কোহলি। ১০ রান এসেছে লোকেশ রাহুলের ব্যাট থেকে। বাকিদের মধ্যে কেউই দুই অঙ্কের ঘরও স্পর্শ করতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪টি উইকেট নেন মার্কো জানসেন। তিনটি করে উইকেট পান কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিদি।

প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়ারা অলআউট হয় ২১০ রানে। জাসপ্রীত বুমরাহ নেন ৫ উইকেট। মোহাম্মদ শামি ও উমেশ যাদব দুজনেই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। প্রোটিয়াদের হয়ে কিগান পিটারসেন ৭২, টেম্বা বাভুমা ২৮, কেশভ মহারাজ ২৫ ও ভ্যান ডার ডুসেন ২১ রান করেন।

তিন ম্যাচ সিরিজের সবশেষ টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি কোহলির দল। দলীয় ৩১ রানে বিদায় নেন লোকেশ রাহুল। ৬ বলের ব্যবধানে ফিরে যান মায়াঙ্ক আগারওয়াল। প্রতিরোধের ইঙ্গিত দেওয়া পুজারা-কোহলি জুটি ভাঙেন মার্কো জানসেন।

রাবাদার শিকার হয়ে কাটা পড়েন আজিঙ্কা রাহানে। প্রোটিয়াদের পেস দাপটে রিশভ পন্ত ইনিংস বড় করতে পারেননি। যদিও এক প্রান্তে অধিনায়ক কোহলি ছিলেন অবিচল। ক্যারিয়ারের ২৮তম ফিফটি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু দলীয় ২১১ রানে রাবাদার বলে থামতে হয় ভারত অধিনায়ককে। ২০১৯ এর নভেম্বরের পর টেস্টে সর্বোচ্চ ৭৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। কোহলির সেঞ্চুরি মিসের দিনে ভারত ২২৩ রানে অলআউট হয়। স্বাগতিকদের হয়ে ৪ উইকেট নেন রাবাদা। জানসেন নেন ৩ উইকেট।

You May Also Like