inCollage 20211231 182716972

২০২১ এ বাংলাদেশের যত রেকর্ড

এ বছর ক্রিকেটে সফলতার অনেক সুযোগ ছিল, কিন্তু সেই সুযোগগুলো লুফে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রত্যাশার ফাঁকা বেলুন ওড়ালেন টাইগাররা।

জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। সেই সিরিজে আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পেশাদার ক্রিকেটে ফিরে ম্যান অব দ্য সিরিজ হন সাকিব আল হাসান।

কিন্তু খর্বশক্তির সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় হেরে যায় মুমিনুলরা।

এরপর জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফর, আগস্টে দেশের মাঠে অস্ট্রেলিয়া আর সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে বাংলাদেশ।

২০২১ সালে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি দুর্দশা ছিল টেস্টে। টেস্ট ক্রিকেটের পথ চলার ২১ বছরেও উন্নতির ছাপ চোখে পড়েনি।

দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর এপ্রিলে শ্রীলংকার সফরে প্রথম টেস্ট ড্র করলেও দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারে টাইগাররা।

তবে জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট জয় পায় বাংলাদেশ। সেই টেস্টে আট নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রানের ইনিংস খেলেন হঠাৎ করেই টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

জিম্বাবুয়ে সফর থেকে ফিরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টে হেরে যায় বাংলাদেশ।

বছরে সব মিলিয়ে ৭ টেস্টে অংশ নিয়ে ৫টিতে হার, ৩টিতেই বিশাল ব্যবধানে হার আর একটি করে ম্যাচে জয় ও ড্র করে মুমিনুলরা।

তিন সংস্করণের মধ্যে স্রেফ ১২ ওয়ানডেতে অংশ নিয়ে ৮টিতে জয় আর ৪টিতে হেরে যায় বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে কঠিন চ্যালেঞ্জ বলতে ছিল নিউজিল্যান্ড সিরিজ। সেখানে বরাবরের মতোই ব্যর্থ বাংলাদেশ হারে তিন ম্যাচেই।

মে মাসে দেশের মাঠে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ জয়। জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরে তিন ম্যাচে জয়। বছরের ১২ ম্যাচই ছিল আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ। তাতে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা বাংলাদেশ আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করার পথে।

তবে হতাশার মাঝে ভালো খবর হলো যে কোনো সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

বছরের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল টি-টোয়েন্টি। বছরের শেষ ৬ মাসে অনেকগুলো টি-টোয়েন্টি খেলে বাংলাদেশ। সেখানে আগে না পাওয়া সাফল্য যেমন ধরা দিয়েছে, তেমনি ব্যর্থতার ধারায় আশার সমাধিও হয়েছে।

বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফরে তিনটি ম্যাচেই হারতে হয় বাজেভাবে। এরপর জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আগাস্ট-সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাঠে দুটি সিরিজ জয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের সিরিজ জয় যে কোনো সংস্করণ মিলিয়েই তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়।

নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশে আসে তাদের বিশ্বকাপ দলের একজনকেও না নিয়ে। ৩-২ ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশ স্বাদ পায় প্রথমবারের মতো কিউইদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের।

টানা তিন সিরিজ জয়ে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রত্যাশা স্পর্শ করে আকাশ। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই বাস্তবতার জমিনে মুখথুবড়ে পড়তে হয় স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে।টানা তিন সিরিজ জয়ে বিশ্বকাপ নিয়ে প্রত্যাশা স্পর্শ করে আকাশ। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই বাস্তবতার জমিনে মুখথুবড়ে পড়তে হয় স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে।

পরে স্বাগতিক ওমান ও শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে পরের ধাপে পা রাখতে পারে দল। কিন্তু সুপার টুয়েলভ-এ হেরে যায় তারা পাঁচ ম্যাচের সবটিতে। তাতে বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশের ১৪ বছরের জয়-খরা দীর্ঘায়িত হয় আরও।

বিশ্বকাপের পর দেশের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও আসেনি জয়।

সব মিলিয়ে বছরে ২৭ ম্যাচ খেলে ১১ জয়, ১৬ হার, বিশ্বকাপের চরম ব্যর্থতা-এটুকুই বলে দিচ্ছে, এই বছরে কেমন ছিল টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ।