অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য: রাব্বির সাথে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবার

রাব্বি ইয়াসির আলি নিশ্চয়ই অন্যদের চেয়ে ভালো বুঝবেন অপেক্ষা করা কতটা কঠিন। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের দলে। তবে হচ্ছে না অভিষেক। কিছু অদ্ভুত কারণে, তিনি কেবল দেশে বা বিদেশে দলের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন। রাব্বি নিজেকে অনেক উপায়ে সান্ত্বনা দিতে পারেন।

তবে পরিবারের সদস্যরা আছেন আরও অস্বস্তিতে, ইদানিং তো ক্রিকেট নিয়েই তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন বাবা-চাচারা।

মূলত ডানহাতি এই ব্যাটারের সাথে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলে আর মন খারাপ করাতে চান না বলেই পরিবারের সদস্যদের এমন সিদ্ধান্ত। রাব্বির চাচা কায়সার আলি চৌধুরী নিজে এক সময় ক্রিকেট খেলতেন। জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ না পেলেও বাঁহাতি এই স্পিনার ঘরোয়া পর্যায়ে খেলেছেন নিয়মিত। চাচাকে দেখে এবং হাত ধরেই ক্রিকেটে আসেন রাব্বি।

রাব্বির আরেক দফা সুযোগ মিলেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের স্কোয়াডে। এবারও অভিষেক হচ্ছে কিনা তা বলা মুশকিল। চট্টগ্রাম টেস্ট কাভার করতে আসা এই প্রতিবেদকের সাথে কথা তার চাচা কায়সার আলির। জানতে চাওয়া হয় এমন অপেক্ষার ক্ষণ গুনতে গুনতে পরিবারের সদস্যদেরই মনের অবস্থা কেমন? আর এ প্রসঙ্গে কথা উঠতেই তিনি জানান ক্রিকেটীয় আলাপ বন্ধের ব্যাপারটি।

‘পরিবারের সদস্য হিসেবে, চাচা হিসেবে যদি বলতে যাই আমরা মানসিকভাবে একটু বাজে পরিস্থিতিতে থাকি। সচরাচর হয় কি যেকোনো ম্যাচের আগে-পরে তার সাথে কথা হতো খেলা নিয়ে। তার বাবা, আমি খোঁজ খবর নিতাম, আলাদা করে জিজ্ঞাসা করতাম। কিন্তু গত ২ বছর আমরা আসলে খেলা নিয়ে আর কথাই বলিনা। ওর সাথে কেবল ভালো-মন্দের খবর নিয়ে আলাপ হয়, খেলা নিয়ে নয়।’

‘আসলে যদি গত আড়াই বছরে সে দুই-একটা ম্যাচ খেলেও বাদ পড়তো তাহলে আমরা তার খেলা নিয়ে আলোচনা করতাম। যে কি করলে আবার কামব্যাক করা যায়, মানসিকভাবে সাহস দিতাম। আসলে একটা ক্রিকেটার যদি নাই খেলে আপনি কীভাবে তাকে মূল্যায়ন করবেন? ও বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে, এভাবে বার বার অপেক্ষার সময়টা বাড়াতে বাবা-মায়ের জন্য, পরিবারের জন্য অস্বস্তিকর। বিশেষ করে অভিভাবকদের জন্য ছেলেকে স্বান্তনা দেওয়াও কঠিন কাজ।’

জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ না খেলায় গত কয়েক বছরে ২৫ বছর বয়সী রাব্বি কতটা উন্নতি করেছেন তা মূল্যায়ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মত কায়সার আলির।

‘ওর চাচা হিসেবে না, যেহেতু আমিও একজন ক্রিকেটার ছিলাম সে জায়গা থেকে যদি বলি। আমাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ণের জায়গা হলো ঘরোয়া ক্রিকেট। তো ঘরোয়া ক্রিকেটে তার প্রহম শ্রেণিতে গড় ৫০ (৫০.৩৭) এর বেশি। প্রায় ৪ হাজারের মতো রান। এর বাইরে টি-টোয়েন্টি যদি বিবেচনা করেন সে বিপিএলেও যথেষ্ট ভালো করেছে।’

‘এরপর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপেও ভালো করলো। এতকিছুর পরেও যদি সুযোগ না মিলে তাহলে যেকোনো খেলোয়াড়ের মানসিকতা একটু ডাউন থাকেই। তার ক্ষেত্রে হয়তো কোনো এক অজানা কারণে টিম ম্যানেজমেন্ট সুযোগ দিতে পারছে না।’আসি আসি করে না আসা সুযোগ যখনই আসে রাব্বির চাচার চাওয়া অন্তত সেটা যেনো পর্যাপ্ত হয়। এরপর খারাপ খেললে লোকে সমালোচনা করলেও আপত্তি নেই সাবেক এই ক্রিকেটারের।

তিনি যোগ করেন,

‘আমি একটা জিনিস চাই, তাকে যখনই সুযোগ দেওয়া হয় যেনো এক-দুই ম্যাচ দেখেই ছুঁড়ে ফেলে না দেয়। যেহেতু ৩ বছর সে অপেক্ষায় অপেক্ষায় কাটিয়েছে সেহেতু অন্তত অন্য ক্রিকেটাররা যেমন সুযোগ পেয়েছে সে যেন ততটুকু সুযোগ পায় নিজেকে মেলে ধরার জন্য। এরপর সে খারাপ খেললে লোকে সমালোচনা করুক। ভালো করলে প্রশংসা হবে, খারাপ করলে সমালোচনা করুক। এটাই খেলাটার সৌন্দর্য্য।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া শুরু ইয়াসির আলি রাব্বির। গত দুই বছরে তার টেস্ট স্কোয়াডে থাকাটা অবধারিতই হয়ে পড়ে। আছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডেও। পাকিস্তানের বিপক্ষেই প্রথম বারের মতো ডাক পান টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে। তবে খোলেনি ভাগ্যের শিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক অধরা হয়ে আছে।

এখনো পর্যন্ত ৫৭ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে রাব্বির রান ৫০.৩৭ গড়ে প্রায় ৪ হাজার (৩৯৮০)। ৯ সেঞ্চুরির সাথে আছে ২৪ ফিফটি। ৭৭ টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৩৪.৭৭ গড়ে রান ১৮৭৮। ৫৪ স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১২৩.৫৮ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১১৫৮ রান।

সংশ্লিষ্ট খবর