বাংলাদেশের দায়িত্ব জ্ঞ্যানহীন ব্যাটিং, স্কটল্যান্ডের কাছে উড়ে গেলো বাংলাদেশ

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ওভারে ৩২ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। এমন সময় ইনিংসের ১৯তম ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮ রান তোলে টাইগাররা। শেষ ওভারে ম্যাচ জিততে ২৪ রান করার বিকল্প ছিল মাহমুদউল্লাহর দলের।

তবে শেষ ওভার থেকে ১৭ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাতে ৬ রানের হার দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল টাইগাররা। জয়ের জন্য ১৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মেরে নিজের রানের খাতা খুললেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সৌম্য সরকার। পরের ওভারে জস ডেভির বলে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়েছেন ৫ বলে ৫ রান করে।

সৌম্যর বিদায়ের পর সাজঘরে ফেরেন লিটন দাসও। ৭ বলে মাত্র ৫ রানের করে হোয়াইলের বলে আউট হয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। সৌম্য-লিটন বিদায় নেয়ার পর বাংলাদেশের হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন সাকিব ও মুশফিক। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা দুজনে মিলে যোগ করেন ৪৭ রান। থিতু হলেও এদিন ইনিংস বড় করতে পারেননি সাকিব। গ্রিভসের বলে তুলে মারতে গিয়ে সীমানার কাছে ক্যাচ আউট হয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার সাজঘরে ফিরেছেন ২৮ বলে ২০ রান। সাকিবের বিদায়ের পর প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন মুশফিক। বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের। বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচেও ব্যর্থ ছিলেন তিনি। তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন মুশফিক। তবে হাফ সেঞ্চুরির আগে সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের নভেম্বরে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া মুশফিক এদিন ফিরেছেন ৩৬ বলে ৩৮ রান করে।

ভালো শুরু করা আফিফ হোসেনও আউট হয়েছেন ১২ বলে ১৮ রান করে। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন ২২ বলে ২৩ রান করা মাহমুদউল্লাহ। শেষ দিকে শেখ মেহেদি ৫ বলে ১৩ রান করলেও বাংলাদেশকে জেতাতে পারেননি। স্কটল্যান্ডের হয়ে হোয়াইল তিনটি এবং গ্রিভস নিয়েছেন দুটি উইকেট। এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুটা ভালো করতে পারেনি স্কটল্যান্ড। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে কাইল কোয়েটজারকে বোল্ড আউট করেন ডানহাতি এই পেসার। কোয়েটজারের বিদায়ের পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জর্জ ‍মুন্সী ও ম্যাথুস ক্রস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা দুজনে মিলে যোগ করেন ৪০ রান। মেহেদির বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ১১ রান করা ক্রস ফিরলে ভাঙে তাঁদের এই জুটি। ওই ওভারেই ২৯ রান করা মুন্সীকেও ফেরান মেহেদি। তাতে এক ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মেহেদি।

এরপর আবারও একই ওভারে দুই উইকেট হারায় স্কটল্যান্ড। ইনিংসের ১১তম ওভারে রিচি বেরিংটন ও মিচেল লিস্ককে সাজঘরে ফেরান সাকিব। বেরিংটনকে ফিরিয়ে লাসিথ মালিঙ্গাকে স্পর্শ করেছিলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। একই ওভারে মিচেল লিস্ককে ফিরিয়ে মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে যান তিনি। তাতে ১০৮ উইকেট নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক সাকিব। এ ছাড়া এদিন আরও একটি রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

যেখানে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬০০ উইকেট ও ১২ হাজার করার রেকর্ড গড়েছেন সাকিব। শেষ দিকে স্কটিশদের হয়ে দারুণ ব্যাটিং করেন মার্ক ওয়াট এবং ক্রিস গ্রিভস। তারা দুজনে মিলে যোগ করেন ৫১ রান। তাসকিনের বলে ২২ রান করা ওয়াট ফিরলে ভাঙে তাঁদের এই জুটি। ২৮ বলে ৪৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে মুস্তাফিজের বলে আউট হয়েছেন ক্রিস গ্রিভস। তাঁদের দুজনের ব্যাটের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪০ রান সংগ্রহ করেছে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদি তিনটি, সাকিব ‍ও মুস্তাফিজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

You May Also Like

About the Author: