৬ আসর, ৫ জয়, ৫ অধিনায়ক

আইসিসি টি -টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণ থেকেই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল খেলছে। পরপর ছয়টি আসর খেলেও বিশ্বমঞ্চে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ম্লান। আশ্চর্যজনকভাবে, টাইগাররা তাদের শেষ ২৫ টি বিশ্বকাপ ম্যাচের মধ্যে মাত্র পাঁচটি জিতেছে।

ছয়টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন পাঁচ অধিনায়ক। ২০০৭ ও ২০০৯ বিশ্বকাপে মোহাম্মদ আশরাফুল, ২০১০ বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসান, ২০১২ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে মুশফিকুর রহিম এবং ২০১৬ বিশ্বকাপে মাশরাফি বিন মুর্তজা অধিনায়ক ছিলেন।

বিশ্বকাপের সপ্তম আসরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে খেলবে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে অতীতকে ভুলিয়ে দেয়ার বড় চ্যালেঞ্জ মাহমুদউল্লাহর সামনে। এ মিশনে তিনি কতটা সফল হবেন, তা সময়ই বলে দিবে।

আশরাফুল ২০০৭, ২০০৯

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের যাত্রার শুরুতেই ভাবা হয়েছিল বাংলাদেশ হয়তো ভালো করবে। ব্যাটসম্যানদের তাড়াহুড়ো শটস খেলার প্রবণতায় এ ফরম্যাটে সাফল্য আশা করা হয়েছিল। প্রথম বিশ্বকাপে যার কিছুটা ছাপও রেখেছিল আশরাফুলের দল। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে হারিয়ে। সুপার-৮ এ গিয়ে অবশ্য তিন ম্যাচ হেরে বিদায় নেয় আশরাফুল বাহিনী।

২০০৯ বিশ্বকাপ ছিল দুঃস্বপ্নের নামান্তর। গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে বাংলাদেশ। ভারতের কাছে হারের পর আয়ারল্যান্ডের কাছে অঘটনের শিকার হয় আশরাফুলের দল। আইরিশদের কাছে ৬ উইকেটের হারে বিদায় ঘটে বাংলাদেশের।

সাকিব ২০১০

আগের আসরের মতোই গ্রুপ পর্ব থেকে ফিরে আসতে হয় বাংলাদেশ দলকে। সাকিবের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তানের কাছে হেরে শেষ হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ।

মুশফিক ২০১২, ২০১৪

মুশফিকুর রহিমের অধিনায়কত্বে ২০১২ বিশ্বকাপেও বদলায়নি দৃশ্যপট। শ্রীলঙ্কায়ও একই রেজাল্ট। টানা তিন আসরে গ্রুপ পর্বেই শেষ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ। এবার পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের কাছে দেশে ফিরে টাইগাররা।

২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফরম্যাটে কিছুটা বদল আনে আইসিসি। এবার র‌্যাংকিংয়ে আটের নিচে দলগুলোকে পাঠানো হয় প্রথম পর্বে। যেটাকে বাছাই পর্ব বললে খুব ভুল হবে না। বাছাই পর্ব থেকে কয়েকটি দল ও র‌্যাংকিংয়ে ৯, ১০ নম্বর দল মিলে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়ে প্রথম রাউন্ডে। একটি করে দল পরের পর্বে উন্নীত হয়।

মুশফিকের নেতৃত্বে হংকংয়ের কাছে হারলেও দুটি জয় এবং রান রেটে এগিয়ে থাকায় সুপার টেন পর্বে উন্নীত হয় বাংলাদেশ। কিন্তু সেখানে গিয়ে আগের মতোই টানা চারটি হারে সমাপ্ত হয় বিশ্বকাপ।

মাশরাফি ২০১৬

মাশরাফির অধিনায়কত্বে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে রানার্সআপ হয়ে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যায় বাংলাদেশ দল। এবারও প্রথম রাউন্ড পার হয়ে জায়গা করে নেয় সুপার-১০ পর্বে। তুমুল লড়াই করলেও জয়ের দেখা মিলেনি সুপার টেন-১০ পর্বে। ব্যাঙ্গালোরে ভারতের কাছে ম্যাচের অন্তিমে হেরে যাওয়া, তাসকিন-আরাফাত সানির বিদায় মিলে ঘটনাবহুল বিশ্বকাপে মূল পর্বে জয়শূন্যই ছিল বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট খবর