ম্যাচ হারলেও মুস্তাফিজে মুগ্ধ হয়ে এক বাক্যে যা বললেন সঞ্জু স্যামসন

মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিং ও জাদুকরি ফিল্ডিংয়ের পরও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে জিততে পারেনি রাজস্থান রয়্যালস। বিরাট কোহলিদের বিপক্ষে ২০ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন কাটার মাস্টার। যদিও তার দল হেরেছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে।

আগের ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে দলকে জিতিয়েছিলেন হার্শাল প্যাটেল। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষেও দারুণ বোলিং করে দলের লক্ষ্য নাগালের মধ্যে রেখেছেন এই পেসার। নির্ধারিত ২০ ওভারে তাই ১৪৯ রানের বেশি করতে পারেনি সাঞ্জু স্যামসনের দল।

বেঙ্গালুরুর ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই বোলিংয়ে ডাক পড়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানের। সেই ওভারে দেবদূত পাডিকালের তোপের মুখে পড়েন মুস্তাফিজ। সেই ওভারের তৃতীয় বলে মিড অন দিয়ে একটি দারুণ চার মেরেছিলেন বেঙ্গালুরুর এই ওপেনার।

অবশ্য দ্বিতীয় ওভারে এসে দ্বিতীয় বলেই ১৭ বলে ২২ রান করা পাডিকালকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। সেই ওভারে এই টাইগার পেসার খরচা করেন মোটে ৬ রান। শুধু বল হাতেই নয় ফিল্ডিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন মুস্তাফিজ।

অষ্টম ওভার করা কার্তিক তিয়াগির শর্ট বল হাওয়ায় ভাসিয়ে মারেন শ্রীকার ভারত, নিশ্চিত ছয় হতে যাওয়া সেই বলটিকে ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে হাওয়ায় ভেসে এক হাত দিয়ে সেভ করেন ফিজ। এর আগে বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক বিরাট কোহলি রান আউট হন ২৫ রানে।

এরপর কেএস ভারতকে নিয়ে দলের রান বাড়াতে থাকেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। নিজের তৃতীয় ওভারে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ভারতকে ফাইন লেগে লমরোরের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মুস্তাফিজ। আউট হওয়ার আগে বেঙ্গালুরুর এই ব্যাটসম্যান করেন ৩৫ বলে ৪৪ রান।

যদিও ম্যাক্সওয়েল ও এবি ডি ভিলিয়ার্স মিলে বেঙ্গালুরুর ৭ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাক্সওয়েল ৩০ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন। আর ভিলিয়ার্স এক বলে ৪ রান করে বেঙ্গালুরুকে জিতিয়েছেন।

এর আগে এই ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন এভিন লুইস ও ইয়াসভি জায়সাওয়াল। এই দুজনে যোগ করেন ৭৭ রান। ৩১ রান করে জায়সাওয়াল ফিরে গেলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়া এভিন লুইস ৩৭ বলে ৫৮ রান করে ফেরেন।

অধিনায়ক স্যামসনের ব্যাট থেকে এসেছে ১৯ রান। এরপরই শুরু হয় রাজস্থানের ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়া। ক্রিস মরিস ভালো শুরু করে কিছুটা আশার আলো দেখালেও বেঙ্গালুরুর বোলারদের তোপে পড়ে কেউই দাঁড়াতে পারেননি।
বেঙ্গালুরুর হয়ে ৩৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করে সফলতম বোলার হার্শাল। এ ছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন, যুবেন্দ্র চাহাল ও শাহবাজ আহমেদ। একটি করে উইকেট পেয়েছেন জর্জ গার্টন ও ড্যান ক্রিস্টিয়ান।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সঞ্জু স্যামশন বলেন, “আমরা সত্যিই ভালো শুরু করেছি, আমাদের ওপেনাররা সত্যিই ভালো খেলেছে, কিন্তু আমরা তা কাজে লাগাতে পারিনি। মনে করি মিডল অর্ডারের কিছুটা আত্মবিশ্বাস দরকার।”

এরপর স্যামসন বলেন, “আমাদের জন্য এক সপ্তাহ কঠিন ছিল, আমাদের ভালো লড়াই করতে হবে। উইকেটটি একটু কঠিন ছিল, তাই ব্যাটসম্যানরা বলকে সঠিকভাবে সময় দিতে পারছিল না, তারা এটি ভুল করে রেখেছিল।

আমি বোলারদের অভিপ্রায় নিয়ে খুশি। বিশেষ করে মুস্তাফিজ প্রতিবারের ন্যায় দলের জন্য সবদিক থেকেই তার সেরাটা দিয়েছে। আমাদের হারানোর কিছু নেই এবং এটি বাইরে যাওয়ার এবং নিজেদের প্রকাশ করার অনেক স্বাধীনতা দেয়। আইপিএলে মজার ঘটনা ঘটতে পারে, শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে।”

You May Also Like

About the Author: